ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষা, উপাসনালয়ভিত্তিক সমস্যা সমাধান এবং শিক্ষিত বেকার তরুণদের কর্মসংস্থানে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
তিনি বলেছেন, সিলেটে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বন্ধন আরও দৃঢ় করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের যে কোনো সমস্যায় তিনি পাশে থাকবেন।
শনিবার রাতে সিলেট সার্কিট হাউসের সম্মেলন কক্ষে হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আশ্বাস দেন।
মন্ত্রী বলেন, ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সামাজিক সুরক্ষা বজায় রাখা সরকারের অগ্রাধিকার।
তিনি নিজেকে এলাকার মানুষের একজন হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, সংসদ সদস্য বা মন্ত্রী হওয়া সাময়িক বিষয়। মানুষ ও রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে তিনি সবসময় জনগণের পাশে থাকবেন।
বক্তাদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, মসজিদ, মন্দির, মাদ্রাসা, প্যাগোডা ও গির্জাসহ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকেন্দ্রিক যেসব সমস্যা রয়েছে, সেগুলোর সমাধানই তার দায়িত্ব। এসব বিষয়ে আলাদা করে বলার প্রয়োজন নেই; ধাপে ধাপে সমাধান করা হবে।
তিনি আরও বলেন, সিলেটের বড় সমস্যা শিক্ষিত বেকার যুবক-যুবতীদের কর্মসংস্থানের অভাব। এ সংকট মোকাবিলায় তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। ফ্রিল্যান্সারদের জন্য কো-ওয়ার্কিং জোন স্থাপন, তাদের আয় সহজে দেশে আনার ব্যবস্থা এবং দ্রুতগতির ফ্রি ইন্টারনেট সুবিধা নিশ্চিত করার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়নে সিলেট সদর উপজেলার সাত ইউনিয়নে সাতটি খেলার মাঠ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান মন্ত্রী। পাশাপাশি নগরবাসীর হাঁটার সুবিধার্থে শহরের কেন্দ্রে একটি আধুনিক পার্ক নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
চা-বাগানের একটি স্কুলশিক্ষিকার বিদ্যালয় এমপিওভুক্ত করার দাবির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের মেয়াদ মাত্র চার দিন হওয়ায় নতুন এমপিওভুক্তির বিষয়ে এখনো নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে বাগানকেন্দ্রিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সংশ্লিষ্ট সমস্যাগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে বলে আশ্বস্ত করেন তিনি।
মতবিনিময় সভায় মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জোউল হাসান কায়সেল লোদী, সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরীসহ হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।