দুই বছর হলো কোনো ধরণের বড় শিরোপার স্বাদ পায়নি রিয়াল মাদ্রিদ। সেই খরা কাটাতে হোসে মরিনহোর দ্বারস্থ হয়েছে ইউরোপিয়ান জায়ান্টরা। যেখানে দ্বিতীয় অধ্যায় শুরু করতে যাচ্ছেন পর্তুগিজ কোচ মরিনহো।

প্রথমবার রিয়াল মাদ্রিদের দায়িত্ব নেওয়ার ১৬ বছর পর ক্লাবটিতে ফিরেছেন অভিজ্ঞ স্বঘোষিত ‘স্পেশাল ওয়ান’। দায়িত্ব একই, স্পেনের শীর্ষ ক্লাব হিসেবে বার্সেলোনার আধিপত্যের অবসান ঘটানো।

২০১০ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত প্রথম মেয়াদে যে তীব্রতা ও মানসিকতা মরিনহোর দলকে আলাদা করে তুলেছিল, সেটিও ফিরিয়ে আনতে চান তিনি। টানা দুই মৌসুম বড় কোনো ট্রফি না জেতার পর প্রেসিডেন্ট ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ আবারও তার ওপর আস্থা রেখেছেন।

১৫ বারের ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন রিয়াল সাম্প্রতিক সময়ে ড্রেসিংরুমের অস্থিরতার মধ্য দিয়ে গেছে। খেলোয়াড়দের মধ্যে উত্তেজনা এবং একের পর এক কোচ মাঠে দলের মধ্যে কার্যকর ভারসাম্য খুঁজে পেতে ব্যর্থ হয়েছেন।

কার্লো আনচেলত্তি, জাবি আলোনসো কিংবা আলভারো আরবেলোয়া, কেউই দলের আক্রমণভাগের তিন তারকা কিলিয়ান এমবাপে, ভিনিসিয়াস জুনিয়র ও জুড বেলিংহ্যামকে একসঙ্গে খেলাতে গিয়ে রক্ষণভাগের ভারসাম্য অক্ষুন্ন রাখতে পারেননি।

হয়তো কঠোর শৃঙ্খলার জন্য পরিচিত মরিনহোই পারেন সমস্যার সমাধান করতে, সুপারস্টারদের এমন খেলোয়াড়ে পরিণত করতে, যারা আক্রমণের ধার কমিয়ে না দিয়ে দলের প্রয়োজনে পরিশ্রম করতেও প্রস্তত থাকবে।

পর্তুগিজ কোচ অবশ্য বলছেন, তিনি আগের চেয়ে ভিন্ন কোচ হয়ে ফিরেছেন। ইংল্যান্ড, ইতালি, তুরস্কসহ বিভিন্ন দেশে দীর্ঘদিন কাজ করার অভিজ্ঞতায় তিনি আরও পরিণত হয়েছেন।

৬৩ বছর বয়সী মরিনহো এ সপ্তাহে বলেন, “আমি এখন অনেক বেশি পরিণত, কম আবেগপ্রবণ এবং নিজের ওপর বেশি নিয়ন্ত্রণ আছে... বরাবরের মতোই ভুল থেকে শিখছি।” তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, তিনি আরও বিরক্তিকর হয়ে যাননি।

মাদ্রিদের ভালদেবেবাস অনুশীলন মাঠে ফেরার প্রথম দিন থেকেই দলটির কাছে নিজের প্রত্যাশা পরিষ্কার করে দিয়েছেন মরিনহো। তিনি বলেন, “আমি এখানে কাজ, দায়িত্ববোধ ও উচ্চাকাঙ্খার সংস্কৃতি তৈরি করতে এসেছি।” নিজের ভূমিকাকে তিনি একটি “মিশন” হিসেবে বর্ণনা করেছেন। বার্সেলোনার সঙ্গে পাল্লা দিতে মরিনহোর প্রয়োজনীয় অস্ত্রশস্ত্র অবশ্য পেরেজ যথেষ্টই দিয়েছেন।

এবারের গ্রীষ্মে বিপুল অর্থ খরচ করেছে রিয়াল। আইভোরিয়ান উইঙ্গার ইয়ান দিয়োমান্দেকে ১৪ কোটি ইউরো দিয়ে ক্লাবের ইতিহাসের সবচেয়ে দামি খেলোয়াড় হিসেবে দলে ভিড়িয়েছে তারা। পাশাপাশি বার্নান্ডো সিলভা ও মার্ক কুকুরেয়াসহ আরও কয়েকজন তারকা খেলোয়াড়কে দলে নিয়েছে মাদ্রিদ। তবে কেউ কেউ মনে করছেন, বার্সেলোনায় যোগ দেওয়ার আগে রিয়ালের সঙ্গে আলোচনায় থাকা রদ্রিকে দলে না আনায় মাঝমাঠ যথেষ্ট শক্তিশালী করতে পারেনি তারা।

দিয়োমান্দের আগমন এমনিতেই তারকায় ঠাসা রিয়ালের আক্রমণভাগে আরও একটি বড় অস্ত্র যোগ করেছে। তবে দলের ভারসাম্যের ক্ষেত্রে সাবেক ম্যানচেস্টার সিটি মিডফিল্ডার সিলভাই হয়তো আরও গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হয়ে উঠতে পারেন।

টনি ক্রুস ও লুকা মদ্রিচের যুগ থেকে বেরিয়ে আসতে গত কয়েক বছর ধরেই চেষ্টা করছে রিয়াল। ম্যাচ নিয়ন্ত্রণ করার তাদের অসাধারণ ক্ষমতা আক্রমণভাগের খেলোয়াড়দের অনেক বেশি স্বাধীনতা দিত এবং প্রতিপক্ষের নিরন্তর আক্রমণের মুখে দলকে তুলনামূলকভাবে কম চাপে রাখত।

সিলভা সরাসরি তাদের কারও বিকল্প নন। তবে তার কারিগরি দক্ষতা মরিনহোকে দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকা এই সমস্যার সমাধানের একটি উপায় দিতে পারে। তবে বড় ম্যাচগুলোতে বিশেষ করে হান্সি ফ্লিকের অধীনে টানা দুইবারের স্প্যানিশ চ্যাম্পিয়ন বার্সেলোনার বিপক্ষে, রিয়ালকে শক্ত অবস্থান তৈরি করে দেওয়ার জন্য সিলভাই যথেষ্ট হবেন কি না, তা সময়ই বলে দেবে।

রিয়াল মাদ্রিদে মরিনহোর প্রথম অধ্যায় মূলত পেপ গুয়ার্দিওলা ও স্প্যানিশ ফুটবলে আধিপত্য বিস্তারকারী বার্সেলোনার সঙ্গে তার তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বীতার জন্য স্মরণীয়। মরিনহোর সময় মাদ্রিদ-বার্সেলোনা এল ক্লাসিকো ক্রমেই তিক্ত হয়ে উঠেছিল। সাইডলাইনে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়, রেফারিংয়ে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ এবং একের পর এক উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচ এই প্রতিদ্বন্দ্বীতাকে আরও অন্ধকারাচ্ছন্ন, একই সঙ্গে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছিল।

শেষ পর্যন্ত মরিনহোর রিয়ালই ঘরোয়া ফুটবলে বার্সেলোনার আধিপত্যের অবসান ঘটায়। ২০১১-১২ মৌসুমে রেকর্ড ১০০ পয়েন্ট নিয়ে লিগ শিরোপা জেতে তারা। এ মৌসুমে অক্টোবরের শেষ দিকে বার্সেলোনায় যাবে রিয়াল মাদ্রিদ। সেটিই হবে এবারের প্রথম এল ক্লাসিকো, যা এরই মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করেছে।

তবে তার আগে, শনিবার এস্পানিওলের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু করে মরিনহোর হাতে থাকবে প্রায় দুই মাস। এই সময়ে দলকে শারীরিকভাবে প্রস্তুত, আত্মবিশ্বাসী এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণভাবে একই লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধ করে তুলতে হবে তাকে।

সূত্র: বাসস



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews