মার্কিন সংবাদ ও বিশ্লেষণধর্মী ওয়েবসাইট 'ভক্স'-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে—লড়াইয়ের ময়দানে ইরানের সামরিক সক্ষমতা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের শুরুর দিকের সব হিসেবনিকেশ চরম প্রশ্নের মুখে পড়েছে। তেহরান এখনও তাদের ড্রোন আর ক্ষেপণাস্ত্র শক্তির বড় একটি অংশ অক্ষত রেখেছে। রক্তক্ষয়ী এই যুদ্ধ যত গড়াবে, মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন বাহিনীর বিপদ ততই বাড়বে।

ইরানের সরকারি বার্তা সংস্থা ইরনা শনিবার (২৫ জুলাই) জানিয়েছে, ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে পদাতিক সেনা পাঠাতে এখনও নারাজ। সেনা হতাহতের ঘটনা বাড়লে দেশে যে রাজনৈতিক ঝড় উঠবে, তা নিয়ে তিনি চিন্তিত। কিন্তু এতে অঞ্চলে থাকা মার্কিন সেনাদের ওপর ঝুঁকির আঁচ বিন্দুমাত্র কমছে না। গত জুনের তথ্যমতে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটির বেশিরভাগই এখনও সুরক্ষিত আছে এবং যুদ্ধপূর্ব ক্ষেপণাস্ত্র মজুতের প্রায় ৭০ শতাংশই তেহরানের হাতে রয়ে গেছে।

গত এপ্রিলের প্রথম অস্ত্রবিরতির পর থেকে সাম্প্রতিক দিনগুলো মার্কিন বাহিনীর জন্য সবচেয়ে মারাত্মক প্রমাণিত হয়েছে। জর্দান ও ইরাকে ইরান-সংশ্লিষ্ট হামলায় তিন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছে। ফেব্রুয়ারিতে 'অপারেশন এপিক ফিউরি' শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ১৭ মার্কিন সেনা প্রাণ হারায়। জবাবে যুক্তরাষ্ট্রও হামলা জোরদার করেছে; যার মধ্যে তাবরিজের সেই ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিও রয়েছে, যেখান থেকে জর্দানে হামলা চালানো হয়েছিল বলে ওয়াশিংটনের দাবি।

সাম্প্রতিক দিনে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার পাশাপাশি বাহরাইন, কুয়েত ও কাতারের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছুড়েছে ইরান। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজেও আঘাত হানা হয়েছে, যার ফলে এই পথে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্য ভাবে কমে গেছে।

হরমুজ প্রণালীতে নৌচলাচল অচল করে দেওয়ার ইরানীয় সক্ষমতা যদি এই যুদ্ধের প্রথম চমক হয়, তবে পুরো অঞ্চলজুড়ে ছড়িয়ে থাকা মার্কিন ঘাঁটি ও জ্বালানি স্থাপনায় অব্যাহতভাবে আঘাত হানার ক্ষমতা বজায় রাখাটা ছিল ওয়াশিংটনের জন্য দ্বিতীয় বড় চমক।

যুদ্ধের শুরুতে মার্কিন বাহিনী তেহরানের ক্ষেপণাস্ত্রের আওতার বাইরে থাকতে বাহরাইন, ইউএই ও কাতার থেকে কিছু সেনা ও সরঞ্জাম জর্দান এবং দখলকৃত ভূখণ্ডে সরিয়ে নিয়েছিল। কিন্তু স্যাটেলাইট ছবি ও খবরে স্পষ্ট দেখা গেছে, ওই ঘাঁটিগুলোও ইরানীয় হামলায় ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, সীমিত কয়েকটি ঘাঁটিতে গাদাগাদি করে সেনা ও সরঞ্জাম রাখায় মার্কিন সেনাদের ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি আরও বেড়ে গেছে।

খুব দ্রুতগতির এবং দিক পরিবর্তন করতে পারা ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের কারণে মার্কিন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাগুলো অভূতপূর্ব চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। ইরান হয়তো এ কাজে রাশিয়া বা চীনের কাছ থেকে গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে সহায়তা পাচ্ছে বলে মার্কিন কর্মকর্তারা দাবি করছেন।

তবে ক্ষেপণাস্ত্র বিশেষজ্ঞ নিকোল গ্রাজুয়েস্কি মনে করেন, এই নিরবচ্ছিন্ন হামলা প্রমাণ করে যে ইরানের সামরিক শক্তি ওয়াশিংটনের কল্পনার চেয়েও অনেক বেশি। যুক্তরাষ্ট্রের প্রাথমিক দাবির তোয়াক্কা না করে তেহরান তাদের শক্তি ধরে রেখেছে এবং বিমান হামলার তীব্রতা কিছুটা কমায় তারা সক্ষমতা পুনর্গঠনের সুযোগও পেয়ে গেছে।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের নিজেদের প্রতিরোধমূলক ক্ষেপণাস্ত্রের মজুতে টান পড়েছে। সেন্ট্রাল ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের তথ্যমতে, এপ্রিলের অস্ত্রবিরতির আগেই ওয়াশিংটন তাদের মোট ২,৩০০ প্যাট্রিওট ক্ষেপণাস্ত্রের ১,০০০টির বেশি এবং থাড ক্ষেপণাস্ত্রের ৫০ থেকে ৮০ শতাংশই খরচ করে ফেলেছে। এসব প্রতিরক্ষা সামগ্রীর ঘাটতি মেটাতে অনেক মাস সময় লাগবে। বিশেষ করে ইরানের তৈরি সস্তা আত্মঘাতী ড্রোনের আকাশজুড়ে আধিপত্য যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহ্যগত আকাশসীমার শ্রেষ্ঠত্বকে খাদের কিনারে এনে দাঁড় করিয়েছে।

প্রতিবেদনে স্পষ্ট বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের নিজেদের মাটিতে গিয়ে সরাসরি যুদ্ধ বা দখল করার শক্তি ইরানের নেই; কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যের বুকেই মার্কিন বাহিনীকে দূরপাল্লার অস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে দীর্ঘমেয়াদে রক্তাক্ত এবং কোণঠাসা করে রাখার মতো যথেষ্ট শক্তি তেহরানের অক্ষত রয়েছে।



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews