প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, অনেক রাজনীতিবিদ আছে— যাদেরকে আমরা ভুলে যেতে বসেছি। কিন্তু তাদের যথেষ্ট অবদান ছিল বাংলাদেশের রাজনীতি, পুনর্গঠন এবং বাংলাদেশকে শক্তিশালী করার বিষয়ে। যাদেরকে ভুলে যাওয়া হচ্ছিল— কিংবা যাদেরকে ভুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছিল— মারুফ কামাল খান তাদেরকে সামনে নিয়ে এসেছেন।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট ) বিকেলে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে সূচীপত্র প্রকাশিত মারুফ কামাল খান-এর লেখা রাজনীতির সদরে-অন্দরে বইয়ের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন।

নজরুল ইসলাম খান বলেন,  মারুফ কামাল খানের বইয়ের মধ্যে অনেক কিছু বোঝার এবং শেখার বিষয় আছে। বেশ কিছু তথ্য আছে আমি পড়েছি, যেটা আমি আগে নিজেও জানতাম না।

যেমন এক জায়গায় উনি বলেছেন, যে সোহরাওয়ার্দী সাহেব এই শাহবাগে একটা অনুষ্ঠানে এসেছেন এবং তার সঙ্গে একজন অভিনেত্রী— খুব উদীয়মান তরুণী অভিনেত্রী। তার কাছাকাছি কোনো জায়গা নাই, এই সময়ে শেখ সাহেব আসলেন এবং এটাতে উনি খুব মনে কষ্ট পেলেন এবং বলতেছিলেন যে, নেতা না হয়ে অভিনেতা হইলে বোধহয় ভালো হইতো। সোহরাওয়ার্দী সাহেবট তাকে বললেন, ‘তুই আবার নেতা হলি কবে?’ এই বইটা না পড়া পর্যন্ত— এই ধরনের আরও অনেক বিষয় আছে, যেটা আপনারা জানতে পারবেন না।

তিনি বলেন, এ দেশের রাজনীতিতে যারা নন্দিত— তাদের কথা বলার অনেক লোক আছে। কারণ এটা বলা সহজ, এটা সাধারণের কাজ। কিন্তু যারা— যেকোনো কারণেই হোক— কিছুটা নিন্দিত, তাদের সম্পর্কে কিছু অভিযোগ কিংবা সন্দেহযুক্ত বলে তারা রাজনীতিতে পিছিয়ে পড়েছে— অতীত বলতে পারেন।

মারুফ কামাল খানের এই বইটা পড়লে বুঝবেন যে— ওইসব মানুষগুলির জীবনের রাজনীতির কিছু ভালো দিক তিনি তুলে ধরেছেন এখানে। অর্থাৎ— মানে সাধারণ মানুষ উদীয়মান সূর্যের পূজা করে। যারা বিখ্যাত, যারা গ্রহণীয়, যারা আরও জনপ্রিয়— তাদের কথা। কিন্তু যারা কিছুটা হলেও পিছিয়ে পড়েছে, কিছুটা নিজে একটু রয়েছে, কিন্তু তাদের মধ্যেও যে যোগ্যতা আছে, তাদেরও যে ইতিহাস আছে, তাদেরও যে অবদান আছে— এই বিষয়গুলি তুলে ধরার মধ্যে দিয়ে মারুফ কামাল খান প্রমাণ করেছেন যে তিনি সাধারণ না, তিনি অসাধারণ।

তিনি আরও বলেন, আমরা বহু রাজনীতিবিদের সম্পর্কে অনেক কথা জানি, অনেক কথা জানি না। জেনারেল ওসমানী সাহেবের দুইটা কুকুর ছিল— একটার নাম ছিল ফিল্ড মার্শাল, আর একটার নাম ছিল ইন্দিরা।

আপনি— এর মধ্যকার যে ব্যঙ্গটা, এটা অনুভব করার— একটু চিন্তা থাকা দরকার। পাকিস্তান আমলে ফিল্ড মার্শাল আইয়ুব খান এবং পরবর্তী পর্যায়ে মুক্তিযুদ্ধের সময়ে— আমাদের মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক হওয়ার পরেও তিনি তৎকালীন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী সম্পর্কে কি ধারণা পোষণ করতেন?

পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ফিল্ড মার্শাল মোহাম্মদ আইয়ুব খান এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী শ্রীমতী ইন্দিরা গান্ধী। পর দুটো কুকুরের নাম দিলেন উনি— ফিল্ড মার্শাল এবং ইন্দ্রিরা। এই ধরনের অনেক কিছু আপনারা এই বইটা পড়লে পাবেন।

নিজেদের জ্ঞান বৃদ্ধি, চিন্তা এবং চেতনাকে শাণিত করার জন্যে— এই বইটা কাজে লাগবে উল্লেখ করে তিনি বলেন,  উনি (লেখক) খুব ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছেন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে। কিন্তু আপনি খেয়াল করবেন— যে সম্ভবত আতাউল গণি উসমানী সম্পর্কে উনি যত ক্ষেত্র কথা লিখেছেন, যত পৃষ্ঠা লিখেছেন— এমনকি বেগম খালেদা জিয়া সম্পর্কে ততখানি লেখেন নাই।

নজরুল ইসলাম খান বলেন,  অনেক রাজনীতিবিদ আছে— যাদেরকে আমরা ভুলে যেতে বসেছি, কিন্তু তাদের যথেষ্ট অবদান ছিল বাংলাদেশের রাজনীতি, পুনর্গঠন এবং বাংলাদেশকে শক্তিশালী করার বিষয়ে। যাদেরকে ভুলে যাওয়া হচ্ছিল— কিংবা তাকে— যাদেরকে ভুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছিল— মারুফ কামাল খান তাদেরকে সামনে নিয়ে এসেছেন।

তিনি বলেন, সাংবাদিক এবং  সচেতন রাজনৈতিক কর্মী— দুটো মিলিয়ে যে অনুভূতিটা— সেখান থেকে এটা পেয়েছে। আমার ধারণা— এই বইটা কালোত্তীর্ণ হবে ইনশাআল্লাহ।

এই বইয়ের প্রত্যেকটা অধ্যায় আপনাকে ভাবতে শেখাবে, আপনাকে জানতে আগ্রহী করবে, আপনার জ্ঞানকে সমৃদ্ধ করবে। সেই কারণেই এই বই টিকে যাবে ইনশাআল্লাহ। ইতিহাসের অংশ হবে মারুফ কামাল খানের ‘রাজনীতির সদরে অন্দরে’।

তিনি আরও বলেন, আমি নিশ্চিত জানি যে তার ভাণ্ডারে আরও রত্ন আছে। সেগুলো যেন উনি আমাদের সঙ্গে শেয়ার করেন। আপনাদের সবার পক্ষ থেকে অনুরোধ আমি তাকে জানাচ্ছি— যে আপনি আরও লিখুন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, বইটা পাঠ করলেই কমবেশি কিন্তু অনেক অনেক বিষয় বেরিয়ে পড়ে সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ যে বিষয়টি বেরিয়ে পড়ে তা হচ্ছে, আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতির যে প্রবাহমান ধারা তার মধ্যের যে আকাবাঁকা জটিল পথ অতিক্রম করে যে রূপান্তরিত হচ্ছে পরিবর্তিত হচ্ছে বিবর্তিত হচ্ছে তা কিন্তু বোঝা যায় এবং রাজনীতির সঙ্গে ক্ষমতার সম্পর্ক রাজনীতির সঙ্গে বৃত্তের সম্পর্ক রাজনীতির সঙ্গে মানুষের প্রবৃত্তির সম্পর্ক সবই কিন্তু কমবেশি বেরিয়ে পড়ছে তার এই বইয়ের মধ্য দিয়ে বইয়ের ব্যাপ্তিকালও কম না প্রায় স্বাধীনতা উত্তরকাল থেকেই চরিত্রগুলি সবই এখানে এসেছে।

সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, ঐতিহাসিক কারণে আমরা নানানভাবে পিছিয়ে থাকা দেশ, কিন্তু আমি বিশ্বাস করি, আমরা যদি সঠিক নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত করতে পারি, তাহলে এই বাংলাই হবে সমকালীন পৃথিবীতে অন্তত এশিয়ার শীর্ষ একটি দেশে পরিণত হবে।

আমরা সেই স্বপ্ন দেখি, আমরা আমাদের যাত্রা বিমান নিয়ে এগিয়ে যেতে চাই, উই আর ন্যাশনালিস্ট। আওয়ার ডিউটি ইজ টু প্রটেক্ট ন্যাশনাল ইকোনমি, আওয়ার ডিউটি ইজ টু সেভ আওয়ার ন্যাশনাল ইন্টারেস্ট— এই কথাগুলো বলে আমি মারুফ কামাল খানের প্রকাশনা উৎসব এসেছে, আমি সবাইকে বলতে চাই, আপনারা দেখুন মারুফ কামাল খান আরও লিখবে।

নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে মারুফ কামাল খান বলেন, আপনারা হচ্ছেন বিচারক। আমি এখন কাঠগড়ায় আজকে। পাঠকের কাঠগড়ায়। শেষে এসে তা বলতে পারেন, আপনারা ভালোবেসে বললেন কিন্তু বাস্তবে কাঠগড়ায়। তো কাঠগড়ায় থেকে আমি সকলের কথা শুনছিলাম, শুনে অভিভূত হয়েছি, ভালো লেগেছে। উদ্দীপ্ত হয়েছি, উৎসাহিত হয়েছি। এই ভালোবাসা অব্যাহত থাকলে হয়তো সামনে আরও কিছু লিখবার চেষ্টা করতে, লিখতে পারব।

প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ বলেন, মারুফ কামাল খান বেগম খালেদা জিয়ার সান্নিধ্য থেকে উনি অনেক রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গের সান্নিধ্য নিয়ে এসেছেন। তো সেই বিষয়গুলো তিনি বইয়ের মধ্যে তুলে ধরেছেন। আমি যদিও বইটা পুরোপুরি পড়তে পারিনি, তবে তার খণ্ড খণ্ড বিভিন্ন চিত্র, তার যে ফেসবুক পোস্টে আমি পড়েছি অত্যন্ত ভালো। এবং সোহেল ভাইয়ের লেখা খুব ভালো। সাংবাদিকতার যে নৈর্ব্যক্তিক গদ্য হ্যাঁ সুললিত ভাষায় বইটি উনি রচনা করেছেন আমি যতটুকু দেখেছি। তো আমি তার এই বইয়ের বহুল প্রচার কামনা করি এবং আশা করব যে, সোহেল ভাই আরও বই লিখবেন।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী বলেন, আমরা যদি প্রত্যেকটা লেখা পড়ি, ব্যক্তি-চরিত্রগুলোকে নিয়ে, তাহলে আমরা একটার সঙ্গে একটা মিলিয়ে ওই সময়টা, ওই যে চলমান সময়ে যিনি লিখেছিলেন, যাদেরকে নিয়ে লিখেছিলেন, সেই সময়টার একটু চিত্র পাই এবং আমাদের রাজনীতির সদরে-অন্দরে বইটার মধ্যে যে মানুষগুলো ওই সময়ে কী অবদান রেখেছেন এবং তারা আজকের বাংলাদেশে কতটা প্রাসঙ্গিক, এর একটা ধারণা আমরা পাই।

যুগান্তর সম্পাদক কবি আব্দুল হাই সিকদার বলেন,  মারুফ কামাল খানকে এই লাইনটা দিয়েই আমি অভিনন্দন জানাতে চাই— যে আপনার দিকে চাহিয়া আমাদের বিস্ময়ের সীমানা নাই!

বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব কাদের গণি চৌধুরী বলেন, এই বইটিতে সেই শিক্ষাকে আমরা নিতেছি বেগম জিয়ার রাজনীতি থেকে। আমরা এই দেশকে ভালোবাসবো, দেশের মাটি মানুষে ভালোবাসবো, ভিন্ন মতের প্রতি আমরা শ্রদ্ধা জানাবো, আবার ফ্যাসিস্ট ঐক্যবদ্ধভাবে তাড়াবো।

প্রকাশনা সংস্থা সূচীপত্রের প্রকাশক ও প্রধান নির্বাহী সাঈদ বারীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তৃতা করেন সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক আবু সাঈদ,জাতীয় শ্রমিক দলের আহ্বায়ক শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সেক্রেটারি আশিক ইসলাম, জাতীয় গ্ৰন্থকেন্দ্রের পরিচালক আফসানা বেগম, ডা. মো. বজলুল গণি ভুঁইয়া প্রমুখ।‌



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews