নিউজিল্যান্ডের মূল স্কোয়াডের অধিকাংশ ক্রিকেটারই নেই। মিচেল স্যান্টনার, গ্লেন ফিলিপস, লুকি ফার্গুসন, রাচিন রবীন্দ্র, ডেভন কনওয়ে, ফিন অ্যালেন, ডার্ক মিচেল ও ম্যাট হেনরি খেলছেন আইপিএলে। ডুগি ব্রেসওয়েল, বেন সিয়ার্স, জিমি নিশাম খেলছেন পিএসএলে। খর্ব শক্তির দল নিয়ে টম ল্যাথামের নেতৃত্বে ৩টি করে ওয়ানডে ও টি-২০ ম্যাচ খেলতে নিউজিল্যান্ড এখন ঢাকায়। ওয়ানডে সিরিজ শুরু হয়েছে গতকাল। বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে প্রথম ওয়ানডে মাঠে গড়িয়েছে সকাল ১১টায়। প্রিয় দলের খেলা উপভোগ করতে প্রচণ্ড গরম উপেক্ষা করে মাঠে উপস্থিত ছিলেন হাজার দশেক ক্রিকেটপ্রেমী। এ ছাড়া খেলা উপভোগ করেছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মেয়ে জাইমা রহমান। কিন্তু জিততে পারেনি মেহেদি হাসান মিরাজের নেতৃত্বে বাংলাদেশ। ব্যাটারদের দায়িত্বহীন ব্যাটিং এবং বড় জুটির অভাবে ২৬ রানে হেরেছে টাইগাররা। ম্যাচ শেষে টাইগার অধিনায়ক মিরাজ বোলিং বিভাগের প্রশংসা করলেও স্বীকার করেছেন বড় জুটির অভাবের কথা, ‘বোলাররা দারুণ বোলিং করেছেন। দীর্ঘদিন পর সুযোগ পেয়ে নিজেকে মেলে ধরেছেন শরীফুল। এ ছাড়া আমরা যদি ক্যাচ দুটি ধরতে পারতাম, তাহলে দুই শ-এর নিচে নিউজিল্যান্ডকে আটকে ফেলতাম। তখন কাজটি সহজ হতো। ম্যাচ জিততে আমাদের ভালোভাবে শেষ করতে হবে। যদি বড় জুটি গড়তাম, অবশ্যই ম্যাচটি জিততাম।’ সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডে ২০ এপ্রিল, মঙ্গলবার মিরপুরে সকাল ১১টায়।
টার্গেট মামুলী ২৪৮ রান। ওয়ানডের আধুনিক যুগে ওভার-প্রতি ৫ রান, খুবই সহজ সমীকরণ। সেই সহজ কাজটিই করতে পারেনি মিরাজ বাহিনী। যদিও হাফ সেঞ্চুরি করেছেন ওপেনার সাইফ হাসান ও মিডল অর্ডার ব্যাটার তাওহিদ হৃদয়। টি-২০ অধিনায়ক লিটনও মিরপুরের ধীরলয়ের উইকেটের সঙ্গে মানিয়ে প্রত্যয়ী ব্যাটিং করেছেন। কিন্তু আফিফ হোসেন, অধিনায়ক মিরাজ, ওপেনার তানজিদ তামিম, টেস্ট অধিনায়ক নাজমুল শান্তরা এতটাই বিরক্তির ব্যাটিং করেছেন যে, ব্যাটিংয়ের সময় মনে হচ্ছিল ভয় পাচ্ছেন। শুরুতে নাথান ইয়াংয়ের সুইংয়ে নাকাল হয়েছেন। শেষ দিকে ব্লেয়ার টিকনারের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে টাইগার ব্যাটিং লাইন ধসে পড়ে। ব্লেয়ার ১০ ওভারের স্পেলে ৪০ রানের খরচে নেন ৪ উইকেট। টানা দুই বলে তানজিদ ও নাজমুল শান্তকে বোল্ড করে হ্যাটট্রিকের আশা জাগিয়ে তোলেন স্মিথ। ৪৫ রানের খরচে নেন ৩ উইকেট। দুই কিউই বোলারের সাঁড়াশি বোলিংয়েও সাইফ ৫৭ রানের ইনিংস খেলেন ৭৬ বলে ৮ চার ও ১ ছক্কায়। অবশ্য ব্যক্তিগত ১ রানে জীবন পেয়েছিলেন স্মিথের ব্যর্থতায়। দলীয় ২১ রানে নাথান স্মিথের বলে বোল্ড হন তানজিদ। পরের বলে সুইংয়ে পরাস্ত হয়ে বোল্ড হন নাজমুল শান্ত। লিটন ক্রিজে এসে হ্যাটট্রিক রোধ করেন। সাইফের সঙ্গে তৃতীয় উইকেট জুটিতে ১৯.১ ওভারে যোগ করেন ৯৩ রান। সাইফ ১০ ওয়ানডে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় হাফ সেঞ্চুরি করে আউট হন। ম্যাচসেরা ডিন ফক্সক্রফটের টার্নে পরাস্ত হয়ে বোল্ড লিটন ব্যক্তিগত ৪৬ রানে। ৬৮ বলের ইনিংসটিতে ছিল মাত্র ৩টি চার। লিটনের বিদায়ের পর হৃদয় ও আফিফ ৭৯ বলে যোগ করেন ৫২ রান। আফিফের ধীরলয়ে ব্যাটিংয়ে বিরক্ত দর্শক দুয়ো ধ্বনি দেন। তাওহীদ শেষ দিকে একক চেষ্টায় ৫৫ রান করে আউট হন। ৬০ বলের ইনিংসে ২টি করে চার ও ছক্কা মারেন। বাংলাদেশ পুরো ইনিংসে চার মেরেছে ১৩টি ও ছক্কা ৩টি।
টস জিতে নিউজিল্যান্ড ৮ উইকেটে ২৪৭ রান করে। ২০২৩ সালে বাংলাদেশের বিপক্ষে অভিষেকের পর গতকাল ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ম্যাচ খেলতে নামা ফক্সক্রফট ৫৮ বলে ৫৯ রান করেন ৮ চারে। এর আগে ওপেনার হেনরি নিকোল ৬৮ রান করেন ৯৩ বলে। নিউজিল্যান্ড ইনিংসে ছক্কা নেই। চার ছিল ২৩টি।