আজকের যুগ যান্ত্রিক সভ্যতার যুগ। যন্ত্র চালাতে চাই জ্বালানি। যার প্রধান দুই উৎস খনিজ তেল ও গ্যাস। এ দুই ক্ষেত্রেই বাংলাদেশ এখন পরনির্ভরশীল। গত সাড়ে তিন দশকে দেশে ব্যাপক শিল্পায়ন হয়েছে। গড়ে উঠেছে কলকারখানা। যানবাহনের সংখ্যা বেড়েছে বহুগুণ। ঘরে ঘরে বিদ্যুৎসংযোগের ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত তেল ও গ্যাসের চাহিদাও বেড়েছে। স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ পাঁচ দশক ধরে গ্যাসের ক্ষেত্রে স্বনির্ভর থাকলেও জ্বালানি তেলের ক্ষেত্রে সব সময়ই পরনির্ভর। গত কয়েক বছর বিদেশ থেকে গ্যাস কিনে চাহিদা মেটাতে হচ্ছে। দেশের স্থলভাগে নতুন গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কারের সম্ভাবনা না থাকায় এখন সাগর প্রান্তই ভরসা। কিন্তু দেশের সাগরসীমাসংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির পরও সাগর প্রান্তে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে এ যাবৎ কোনো অগ্রগতি অর্জিত হয়নি। বর্তমান সরকার দেশের জ্বালানিসংকট নিরসনে এ বিষয়ে গরজ অনুভব করছে। স্মর্তব্য, আওয়ামী লীগ আমলে ২০২৪ সালের ১০ মার্চ বঙ্গোপসাগরে জ্বালানি অনুসন্ধানে দরপত্র আহ্বান করা হয়। এতে আমন্ত্রণ জানানো হয় ৫৫টি আন্তর্জাতিক কোম্পানিকে। ওই বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দরপত্র জমা দেওয়ার সময় নির্ধারিত থাকলেও অন্তর্বর্তী সরকার আরও তিন মাস (৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত) মেয়াদ বৃদ্ধি করে। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, চীন, ভারতসহ বিভিন্ন দেশের বেশ কয়েকটি কোম্পানি সমুদ্রে বহুমাত্রিক জরিপের তথ্য কিনলেও শেষ পর্যন্ত কেউ দরপত্রে অংশ নেয়নি। আগামী ১ জুন আন্তর্জাতিক দরপত্রের যে প্রমোশনাল প্যাকেজ বিক্রি শুরু হবে, তা জমা দেওয়ার শেষ সময় ৩০ নভেম্বর। এর মধ্যে আগ্রহী বিদেশি কোম্পানিগুলো বঙ্গোপসাগরের জরিপতথ্য ও কারিগরি উপাত্ত সংগ্রহ করে দরপত্রে অংশ নিতে পারবে। আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে দেশে ও বিদেশে রোড শো, সংবাদ সম্মেলন এবং বিভিন্ন দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগের উদ্যোগ নেওয়া হবে। সমুদ্রসীমায় তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাংলাদেশের নেই। এই বাস্তবতা মনে রেখেই বহুজাতিক কোম্পানিগুলো যাতে এ ক্ষেত্রে এগিয়ে আসে সে ব্যাপারে তাদের প্রত্যাশার দিকে নজর দেওয়া হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, এ-সংক্রান্ত দরপত্রে সাড়া পাওয়া যাবে এবং তা বাংলাদেশের জ্বালানিসংকট নিরসনে অবদান রাখবে।