আবদুল কাদের তাপাদার, সিলেট

সিলেটে টানা দু‘দিনের অবিরাম বর্ষণ ও উজানের পাহাড়ি ঢলে সুরমা ও কুশিয়ারাসহ সবকটি নদীর পানি বিপৎসীমা ছুঁই ছুঁই করছে। ফলে আবহাওয়া অধিদফতর সিলেট অঞ্চলে যে কোনো মুহূর্তে আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা করছে।

গত মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দিবাগত রাত থেকে শুরু হওয়া মুষলধারে বৃষ্টি বুধবারও (৮ জুলাই) দিনভর ঝরেছে। আজ বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ভোরেও বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে।

অবিরাম বৃষ্টি আর ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে নদ-নদীর পানি উপচে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য মতে, বুধবার (৮ জুলাই) রাত পর্যন্ত সুরমা, কুশিয়ারা, সারি, গোয়াইন নদীর পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি অবস্থান করছে। আগের দিনের চেয়ে পয়েন্ট ভেদে সুরমা-কুশিয়ারা নদীর পানি দুই সেন্টিমিটার পর্যন্ত বেড়েছে। ফলে যেকোনো মুহূর্তে পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে।

সিলেট আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ রুদ্র তালুকদার জানান, মঙ্গলবার সকাল ৬টা থেকে বুধবার ৮ জুলাই রাত ১২টা পর্যন্ত সিলেটে ১৬০ দশমিক ছয় মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।

টানা বৃষ্টিতে নগরীর জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে দিনমজুর ও খেটে খাওয়া মানুষ ভয়াবহ বিপাকে পড়েছেন।

আবহাওয়ার পূর্বাভাস বলছে, আগামী সোমবার পর্যন্ত সিলেটে টানা বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। ফলে সিলেট বিভাগে আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ডের দৈনিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, সিলেট জেলার সবকটি নদ-নদীর পানি হু হু করে বাড়ছে। বুধবার সন্ধ্যা ৬টায় সুরমা নদীর কানাইঘাট পয়েন্ট পানির উচ্চতা ছিল ১১ দশমিক ৪৫ সেন্টিমিটার, এ নদীর সিলেট পয়েন্ট পানির উচ্চতা ছিল নয় দশমিক সাত সেন্টিমিটার। কুশিয়ারা নদীর আমলশিদ পয়েন্ট পানির উচ্চতা ছিল ১২ দশমিক ৫৯ সেন্টিমিটার, শেওলা পয়েন্ট ১০ দশমিক ৭২, ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে নয় দশমিক ২০, শেরপুর পয়েন্ট সাত দশমিক ৯০ সেন্টিমিটার।

এছাড়া সারি ও গোয়াইন নদীর সারিঘাট পয়েন্টে পানির উচ্চতা ছিল নয় দশমিক ৮৪ সেন্টিমিটার, নদীর গোয়াইনঘাট পয়েন্টে আট দশমিক ৮৯ সেন্টিমিটার, পিয়াইন নদীর জাফলংয়ে নয় দশমিক ২১, লোভাছড়া নদীর লোভাছড়া পয়েন্টে ১১ দশমিক ৯১ এবং ধলা নদী ইসলামপুর পয়েন্ট পানির উচ্চতা ছিল আট দশমিক ৭৩ সেন্টিমিটার।

এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় সুরমা নদীর কানাইঘাট পয়েন্টে ৩৮ মিলিমিটার, সিলেটে ৫৭ মিলিমিটার, বিয়ানীবাজারের শেওলায় ৪৯ মিলিমিটার ও মৌলভীবাজারের শেরপুরে ১২৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।

সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী দিপক রঞ্জন দাশ জানান, টানা বৃষ্টিপাতের সাথে উজানের ঢল নামায় নদ-নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। এতে সিলেটের নিচু এলাকাসমুহে আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। তবে বৃষ্টিপাত কমে গেলে প্লাবিত অঞ্চল থেকে পানি নেমে যাবে।



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews