ওমান উপকূলে ড্রোন হামলায় ভারতের পতাকাবাহী একটি জাহাজ ডুবে গেছে। এর আগেই জাহাজটির নাবিকদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়। হরমুজ প্রণালির কাছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপকূলে পৃথক আরেকটি জাহাজ জব্দ হয়েছে। জাহাজটিকে ইরানের দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে ইউকে মেরিটাইম এজেন্সি। এ ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বড় হামলা চালাতে পারে বলে সতর্ক করেছেন দেশটির এক আইনপ্রণেতা। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনায় অগ্রগতি হচ্ছে।

গতকাল ওমান উপকূলের কাছে ভারতীয় পতাকাবাহী একটি কার্গো জাহাজ ড্রোন হামলার শিকার হয়েছে। হামলার পর ‘এমএসভি হাজি আলি’ নামের জাহাজটি সাগরে পুরোপুরি ডুবে যায়। তবে এর আগেই ওমান কর্তৃপক্ষ জাহাজটির নাবিকদের উদ্ধার করে নিরাপদে সরিয়ে নেয়। এই হামলার ঘটনায় তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র  হামলাকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে উল্লেখ করেন এবং দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য ওমান কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, জাহাজের সব ক্রু সদস্য নিরাপদ আছেন। বাণিজ্যিক জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করা এবং নিরীহ বেসামরিক নাবিকদের জীবন ঝুঁকির মধ্যে ফেলা থেকে বিরত থাকতে হবে। পাশাপাশি নৌ চলাচল ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের স্বাধীনতায় বাধা সৃষ্টি না করার আহ্বান জানানো হয়েছে। এ ছাড়া হরমুজ প্রণালির কাছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপকূল থেকে একটি জাহাজ জব্দ করেছে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা। তারা জাহাজটি ইরানের জলসীমায় নিয়ে গেছে। ইউকে মেরিটাইম এজেন্সি জানিয়েছে, আমিরাতের ফুজাইরাহ থেকে ৭০ কিলোমিটার দূরে নোঙর করা একটি জাহাজ অজ্ঞাত ব্যক্তিরা জব্দ করেছে। এটি ইরানের জলসীমার দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে বড় হামলা চালাতে পারে বলে সতর্ক করেছেন ইরানি আইনপ্রণেতা কামরান ঘাজানফারি। রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন, প্রমাণ ও বিভিন্ন ইঙ্গিত দেখাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল বড় ধরনের অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে। তারা সম্ভবত আমাদের দক্ষিণাঞ্চলের কিছু দ্বীপ দখলের পরিকল্পনা করছে। সেখানে তারা বহু সেনা ও সরঞ্জাম নিয়ে এসেছে। এ ছাড়া ৪০ দিনের যুদ্ধে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পক্ষে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছে বলে অভিযোগ করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। ভারতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নেওয়ার সময় টেলিগ্রামে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, এই আগ্রাসনে সংযুক্ত আরব আমিরাত একটি সক্রিয় অংশীদার এবং এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। আমার দেশের বিরুদ্ধে আগ্রাসনের ঘটনায় সংযুক্ত আরব আমিরাত সরাসরি জড়িত ছিল। এমনকি যখন এই আগ্রাসন শুরু হয়, তারা এর নিন্দা জানাতেও অস্বীকার করেছিল। তিনি আরও বলেন, এটাও স্পষ্ট হয়ে গেছে যে, তারা এই হামলায় অংশ নিয়েছিল এবং সম্ভবত সরাসরি আমাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপও নিয়েছে। তবে ইরানের সঙ্গে আলোচনায় অগ্রগতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। গতকাল হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, আমার মনে হয়, আমরা উন্নতি করছি। তবে মূল প্রশ্ন হলো, আমরা কি প্রেসিডেন্টের বেঁধে দেওয়া সীমার মধ্য থেকে যথেষ্ট অগ্রগতি করতে পারছি?’ ভ্যান্স আরও বলেন, প্রেসিডেন্টের শর্ত খুবই স্পষ্ট। তাকে এ বিষয়ে নিশ্চিত হতে হবে যে, আমরা এমন কিছু সুরক্ষা ব্যবস্থা কার্যকর করেছি, যাতে ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে।



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews