বিগত ১৭ বছরে দায়ের করা রাজনৈতিক হয়রানিমূলক আরও ১ হাজার ২০২টি মামলা প্রত্যাহারের অনুমোদন দিয়েছে সরকার। গতকাল সচিবালয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের এ তথ্য জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, বিরোধী দলের নেতা-কর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের বিরুদ্ধে করা মামলাগুলো পর্যালোচনা করে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর আগে ১০০৬টি মামলা প্রত্যাহারের অনুমোদন দেওয়া হয়। গত সোমবার আরও ১ হাজার মামলা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তের কথাও জানানো হয়েছিল।
মন্ত্রী বিষয়টি স্পষ্ট করে বলেন, হত্যা, মাদক, অস্ত্র, বিস্ফোরক এবং নারী-শিশু নির্যাতন-সংক্রান্ত মামলা এ তালিকার বাইরে। শুধু রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলাই বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। আরও কিছু মামলা যাচাই চলছে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অপব্যবহার ঠেকাতে যাচাইবাছাই কমিটি গঠন করা হবে। সত্যিকার অর্থে রাজনৈতিক মামলা কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর দায়ের হওয়া মামলার বিষয়ে তিনি বলেন, ব্যক্তিগত স্বার্থে নিরীহ মানুষকে আসামি করার অভিযোগ নজরে এসেছে। এসব মামলাও যাচাই করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এর আগে ৮ ফেব্রুয়ারি আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয় জানায়, জুলাই অভ্যুত্থানের পর ২৩ হাজার ৮৬৫টি মামলা প্রত্যাহারের সুপারিশ করা হয়েছে। ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত সময়ে দায়ের হওয়া এসব মামলার বেশির ভাগই বিএনপি, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, হেফাজতে ইসলাম ও গণঅধিকার পরিষদসহ বিভিন্ন দলের নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে। মন্ত্রণালয় জানায়, জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে জেলা কমিটি ও সাবেক উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের নেতৃত্বে আন্তমন্ত্রণালয় কমিটি গঠন করে আবেদন যাচাই করা হয়। ৩৯টি সভার মাধ্যমে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে ২৩ হাজার ৮৬৫টি মামলা প্রত্যাহারের সুপারিশ করা হয়। সরকার বলছে, রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারের কার্যক্রম চলমান।