২০২৬ টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলা হচ্ছে না বাংলাদেশের। নিরাপত্তা ঝুঁকিতে ভারতে খেলতে অপারগতার সাথে ভেন্যু পরিবর্তনের অনুরোধ করেছিল বিসিবি। আমলে না নিয়ে বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে নিয়েছে আইসিসি। সঙ্গে মাঠে বসে বাংলাদেশের সাংবাদিকদের বিশ্বকাপ কাভারের আবেদনও গণ প্রত্যাখ্যান করেছে বিশ্বক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা। ঘটনার পর আইসিসির কাছে সাংবাদিকদের অনুমোদন না দেয়ার কারণ জানতে চেয়েছে বিসিবি।
মঙ্গলবার পূর্বাচলে জাতীয় ক্রিকেট গ্রাউন্ডে সিসিডিএম টি-টুয়েন্টি চ্যালেঞ্জ কাপের উদ্বোধন শেষে সংবাদমাধ্যমকে বিষয়টি জানিয়েছেন বিসিবি পরিচালক ও মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন। গত শনিবার বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশকে বাদ দেয়ার কথা জানায় আইসিসি। সোমবার বাংলাদেশি সাংবাদিকদের আসর কাভারের আবেদন প্রত্যাখ্যান করে।
আমজাদ জানালেন, ‘এটা আপনারা জানেন যে, গতকালই সিদ্ধান্তটা এসেছে এবং তারপর আমরা জানতে চেয়েছি। ব্যাখ্যা জানতে চাওয়া হয়েছে। এটা আপনারা জানেন যে গোপনীয় ব্যাপার। মূল কথা হচ্ছে কেন করা হয়েছে (সাংবাদিকদের আবেদন বাতিল) আমরা জানতে চেয়েছি বিষয়টা।’
১৯৯৬ ওয়ানডে বিশ্বকাপ এবং ২০১৩ সালে আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে অংশ নেয়নি বাংলাদেশ। তবে বাংলাদেশের সাংবাদিকরা টুর্নামেন্ট দুটি কাভার করেছিলেন। ফিফা বিশ্বকাপে বাংলাদেশ কখনও অংশগ্রহণ না করলেও সাংবাদিকরা কাভারের অনুমোদন পেয়ে থাকেন।
আমজাদ বললেন, ’গণমাধ্যমকর্মীদের ম্যাচ কাভারের জন্য সেই দলের টুর্নামেন্টে যে অংশগ্রহণ করতেই হবে, সেটা অত্যাবশ্যকীয় নয়। যে উদাহরণ দিয়েছেন, চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে বাংলাদেশ অংশগ্রহণ করেনি। কিন্তু তারপরও আমাদের সাংবাদিকরা গিয়েছিলেন। এছাড়া ফিফা বিশ্বকাপে বাংলাদেশ কখনও অংশগ্রহণ করেননি, কিন্তু আমাদের সাংবাদিকরা থাকেন, যেহেতু আমরা ফিফার একজন সদস্য। পূর্ণ সদস্যের দেশ হিসেবে আমাদের হয়তবা করতে পারলে ভালো হতো। তবু এটা তাদের (আইসিসি) সিদ্ধান্ত। এখানে আমাদের কিছু বলার নেই।’
বিসিবির মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যানের মতে, বাংলাদেশের সাংবাদিকদের টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ কাভার করার সুযোগ দেয়া উচিত ছিল। বলেছেন, ‘যেকোনো ক্ষেত্রেই আমাদেরকে সেই সুযোগটা দেয়া উচিত ছিল, আমাদের গণমাধ্যমকর্মীদের কাভার করার জন্য। যতগুলো পূর্ণাঙ্গ টেস্ট খেলুড়ে দেশ আছে, আইসিসির ১২টা সদস্য, তার মধ্যে তৃতীয় সর্বোচ্চ দর্শক আমাদের। আমাদের দেশ না খেললেও কিন্তু বিশ্বকাপ হচ্ছে এবং আমাদের গণমাধ্যমকর্মীরা হয়তো সেটা আমাদের দর্শকদের কাছে উপস্থাপন করতে পারত।’
টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ কাভার করতে শতাধিক বাংলাদেশি সাংবাদিক কার্ডের জন্য আবেদন করেছিলেন। একসঙ্গে সবার আবেদন বাতিল করেছে আইসিসি। বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থার এক কর্মকর্তার বরাতে ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানাচ্ছে, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির মাঝে ভারত ভ্রমণকে ‘অনিরাপদ’ বলে বাংলাদেশ সরকার যে মন্তব্য করেছিল, তার প্রেক্ষিতেই এই অবস্থান নেয়া হয়েছে।