সিলেটে ঐতিহাসিক কীর্তি গড়েছে বাংলাদেশ। পাকিস্তানকে ধবলধোলাই করেছে টাইগাররা। এমন কীর্তির পর যেমন তৃপ্তির ঢেঁকুর ওঠে, তেমনি বেড়ে যায় প্রত্যাশার পারদ।
দেশের মাঠে স্পোর্টিং উইকেট তৈরি করে বলে-কয়ে সিরিজ জেতা- বড় গর্বের উপলক্ষ বটে। বাংলাদেশের ২৬ বছরের টেস্ট ইতিহাসে এমন ঝলমলে সময় আর কবে এসেছে!
এই সিরিজ জয়ে মিলেছে বড় বড় পুরস্কার। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট তালিকায় ভারত-ইংল্যান্ডকে পেছনে ফেলে উঠে এসেছে ৫ নম্বরে। সেই সাথে প্রথমবারের মতো র্যাঙ্কিংয়ে উঠেছে সাতে।
তবে সামনে অপেক্ষা করছে চ্যালেঞ্জিং সময়। খেলতে হবে দক্ষিণ আফ্রিকা ও অস্ট্রেলিয়ার মতো দলের বিপক্ষে। যদিও অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত আত্মবিশ্বাসী।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘প্রত্যেকটি টেস্ট ম্যাচই জিততে পারলে ভালো লাগে। তার মাঝে যদি এরকম দাপট এমন মানসম্পন্ন দলের বিপক্ষে জিততে পারি, অবশ্যই অনেক গর্বের ব্যাপার।’
তিনি বলেন, ‘অনেক পরিশ্রম ছিল, প্রত্যেক ক্রিকেটার যে প্রস্তুতি নিয়েছে, কষ্ট করেছে এবং মাঠে গিয়ে দলের জন্য খেলার চেষ্টা করেছে। সবার চিন্তা ছিল যে কিভাবে এই দুটি ম্যাচ আমরা জিততে পারি। ওই জায়গাটা থেকে বলব যে, সবার ওই কষ্ট বিফলে যায়নি।’
শান্ত আরো বলেন, ‘এখান থেকে আমাদের সামনের দিকে আরো এগিয়ে যেতে হবে এবং আমি মনে করি যে আরো কিছু কিছু জায়গা আছে, যদি আমরা ফাইন টিউন করে উন্নতি করতে পারি, তাহলে দল আরেকটু ভালো অবস্থানে যাবে।’
আগের অন্য সব জয় থেকে এবারের জয়ের একটি বাড় পার্থক্য হলো, মাঠের ভেতরে ছোট ছোট অনেক লড়াইয়ে জিতেছে বাংলাদেশ। কথার লড়াই, স্লেজিং,মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ, ভয়-চাপ, শঙ্কা-সংশয়- সবকিছুতেই ছাপ রেখেছে টাইগাররা।
যদিও কিছু কিছু ঘাটতিও নোটিশ করেছেন অধিনায়ক। সুনির্দিষ্ট করে বললেন দুটি দিক। বলেন, ‘আমাদের বোলিং আক্রমণ ভালো, তবে নতুন বলে আমরা অনেক রান দিয়ে ফেলি অনেক সময়। এই জায়গাটাতে যদি আমরা শুরু থেকেই প্রতিপক্ষকে কঠিন সময় দিতে পারি, তাহলে দলের জন্য ভালো হবে।’
শান্ত বলেন, ‘টপ অর্ডারদেরও ভালো করতে হবে। লাল বলে কঠিন কন্ডিশনে ব্যাটিং করাটা অনেক চ্যালেঞ্জের। এই জায়গাটাতে প্রয়োজন একটু বড় জুটি। এই দুটি জায়গায় যদি আমরা আরেকটু ঠিক করতে পারি, তাহলে দলটা আরো ভালো অবস্থানে থাকবে।’