নবীগঞ্জে স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরও নির্মিত হয়নি কুশিয়ারার শাখা নদীতে স্বপ্নের গোপলা ব্রিজ। সাবেক দুই এমপির (শাহ নওয়াজ মিলাদগাজী ও আমাতুল কিবরিয়া কেয়া চৌধুরী) ব্যক্তিগত মতবিরোধেই নদীর ভূমি জরিপ ও ব্রিজ প্রকল্পের মাপজোক হলেও অজ্ঞাত কারণে বাস্তবায়ন হয়নি। উপজেলার গজনাইপুর ইউনিয়ন তথা দিনারপুর পরগণার প্রয়াত দুই গুণীজনের (সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএসএম কিবরিয়া এবং দেওয়ান ফরিদগাজীর) জামানায়ও ব্রিজ নির্মাণের স্বপ্ন অধরা থেকে যায়। গোপলা নদীর অপর প্রান্তে কয়েক হাজার একর বোরো ফসলের জমি রয়েছে। ১৫-২০টি গ্রামের কৃষক জমি চাষাবাদের পাশাপাশি ওই প্রান্তে বিভিন্ন ক্ষুদ্র শিল্পের প্রকল্প গড়ে তুলেছেন। এ ছাড়াও অপর প্রান্তের বাসিন্দারা নদীপাড়ের নিকটবর্তী মুন্সী বাজারেই প্রয়োজনীয় কাজ করে থাকেন।

বর্ষা মৌসুমে নদী পারাপার হয়ে বাজার সদাইয়ের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে যাতায়াত দুর্বিষহ হয়ে ওঠে। সরজমিন দেখা যায়, গজনাইপুর ইউনিয়নের গজনাইপুর (পূর্ব-পশ্চিম) গ্রামের মধ্যবর্তী কুশিয়ারার প্রশাখা গোপলা নদীর অবস্থান। জনগুরুত্বপূর্ণ ব্রিজটি নির্মাণের দাবি নিয়ে স্বাধীনতার পর থেকেই নির্বাচিত সংসদ সদস্যসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের নিকট প্রতিনিয়ত ধর্ণা দিয়েও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। সাবেক একাধিক সংসদ সদস্য ব্রিজটি নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিলেও তা রক্ষা করেননি। একাধিকবার উপজেলা থেকে ইঞ্জিনিয়ার এসে মাপজোক করে গেলেও অজ্ঞাত কারণে আজও ব্রিজটি আলোর মুখ দেখেনি। নদীর ওপারে রয়েছে কয়েক হাজার একর বোরো ফসলের জমি। কৃষকরা জমিতে অনেক কষ্টে ফসলের চাষাবাদ করলেও প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় পাকাধান ঘরে তুলতে মারাত্মক বিপর্যয়ে পড়েন। একদিকে, প্রাকৃতিক বিপর্যয় এবং অপরদিকে নদী পারাপারের দৈন্যদশা। নদীর দুই পাড়ে রশি টানিয়ে নৌকা পারাপার করতে গিয়ে অনেক সময় নৌকা পানিতে ডুবে কৃষকের ধান তলিয়ে যায়। কৃষিজমি ছাড়াও নদীর তীরবর্তী কয়েকটি গ্রামের কয়েক শতাধিক শিক্ষার্থী গোপলা নদী পার হয়ে নিয়মিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করেন। এটি দু’টি জেলার (হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজার) সংযোগস্থল হিসাবেও কাজ করে। ব্রিজটি নির্মাণ হলে চিকিৎসাসহ প্রয়োজনীয় কাজ সম্পাদনের জন্য ১৫-২০ মিনিটের মধ্যে মৌলভীবাজার শহরে যাতায়াত করা যাবে। এখানে রয়েছে, আইনগাঁও দাখিল মাদ্রাসা, দিনারপুর কলেজ, দিনারপুর উচ্চ বিদ্যালয়, দেবপাড়া দারুল উলুম মাদ্রসা, গজনাইপুর দারুল উলুম মাদ্রাসা, বনগাঁও দারুল উলুম এতিমখানা ও হাফিজিয়া মাদ্রাসা, বনগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কায়স্ত্রগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, লোগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, রোদ্র গ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পূর্বপাড়া মহিলা মাদ্রাসা ও এতিমখানাসহ অনেকগুলো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা নদী পার হয়ে নিয়মিত দুর্ভোগ নিয়ে যাতায়াত করেন। এ নিয়ে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আবুল খায়ের গোলাপ বলেন, কুশিয়ারার শাখা নদী হিসেবে গোপলা নদীর ব্রিজ নিয়ে বিড়ম্বনার শেষ নেই। বিশেষ করে কয়েক হাজার একর বোরো ফসল উত্তোলন ও চাষাবাদ নিয়ে কৃষকদের মারাত্মক দুর্ভোগ পোহাতে হয়। এলাকার বিশিষ্ট সমাজসেবক হারুনুর রশিদ আখঞ্জি বলেন, ১৫-২০ গ্রামের মানুষ স্বাধীনতার পর থেকেই ভোগান্তি নিয়ে নদী পার হন। এ ছাড়াও শিক্ষার্থীরা ঝুঁকি নিয়ে নদী পার হয়ে বিদ্যালয়ে যায়। জরুরিভিত্তিতে ওই নদীতে একটি ব্রিজ নির্মাণের উদ্যোগ নেয়ার জন্য সংসদ সদস্য ড. রেজা কিবরিয়ার কাছে দাবি জানিয়েছেন তিনি। ওই এলাকার বাসিন্দা সবুজ আখঞ্জি, সাদিক মিয়া, সাবাজ মিয়া, সৈয়দ মহিসহ স্থানীয়রা বলেন, ওই ব্রিজ নির্মাণ নিয়ে সাবেক এমপি এডভোকেট আমাতুল কিবরিয়া কেয়া চৌধুরী খুবই আন্তরিক ছিলেন। উদ্যোগও নিয়েছিলেন। অদৃশ্য কারণে ব্রিজটি হয়নি। বর্তমান এমপি ড. রেজা কিবরিয়ার সহধর্মিনী ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের গণসংযোগকালে নৌকা দিয়ে অপর প্রান্তে যান। এসময় তিনি জনগণকে নিশ্চয়তা দিয়ে বলেন, বিজয়ী হলে অবশ্যই ব্রিজ নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হবে। আমাদের প্রত্যাশা বর্তমান এমপি জনদুর্ভোগ লাঘবে দ্রুত পদক্ষেপ নেবেন।



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews