বিশ্বের সবচেয়ে আলোচিত প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্ক আবার বড় ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, স্পেসএক্স (SpaceX) তার এআই কোম্পানি এক্সএআই (xAI) কিনে নিচ্ছে। এই একীভূতকরণ পুরো চুক্তির মূল্য ধরা হয়েছে ১.২৫ ট্রিলিয়ন ডলার। তবে অনেক বিশ্লেষক বলছেন, এটা প্রযুক্তির উন্নতির জন্য যতটা না, তার চেয়ে বেশি লোকসানে থাকা এক্সএআইকে বাঁচানোর চেষ্টা।
কারণ, এক্সএআই বর্তমানে বড় ধরনের আর্থিক চাপে আছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এক্সএআই প্রতি মাসে প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার করে ক্ষতি করছে। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে এক্সএআইয়ের ক্ষতি হয় ১.৪৬ বিলিয়ন ডলার। একই সময়ে আয় ছিল মাত্র ১০৭ মিলিয়ন ডলার (প্রতিদ্বন্দ্বীদের তুলনায় খুব কম)।
অন্যদিকে স্পেসএক্স লাভজনক প্রতিষ্ঠান। খবরে বলা হয়, স্পেসএক্সের আয় বছরে প্রায় ১৫-১৬ বিলিয়ন ডলার। লাভ প্রায় ৮ বিলিয়ন ডলার। স্টারলিংক (Starlink) সেবার গ্রাহকও বেড়েছে। নাসা ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তরের সঙ্গে বড় বড় চুক্তি আছে। এই দুই প্রতিষ্ঠানের আর্থিক অবস্থার মধ্যে বড় পার্থক্য থাকায় অনেক বিনিয়োগকারী প্রশ্ন তুলেছেন—স্পেসএক্স কি এক্সএআইয়ের লোকসান টানবে?
মাস্ক বলেছেন, এই চুক্তির উদ্দেশ্য হলো ভবিষ্যতে মহাকাশে ডেটা সেন্টার বানানো। তার দাবি, ভবিষ্যতে মহাকাশে বসে এআই চালানোই সবচেয়ে কম খরচ হবে।
তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কাজটি সহজ নয়। কারণ, মহাকাশে কম্পিউটারের তাপ বের করা কঠিন,মহাকাশের রেডিয়েশন যন্ত্র নষ্ট করতে পারে, লক্ষ লক্ষ স্যাটেলাইট লাগলে খরচ হবে ‘অত্যন্ত বিশাল’।
এদিকে স্পেসএক্সের সম্ভাব্য শেয়ারবাজারে আসা (IPO) নিয়েও আলোচনা চলছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এক্সএআইকে সঙ্গে নেওয়ায় স্পেসএক্সের সেই পরিকল্পনায় ঝুঁকি ও জটিলতা বাড়তে পারে।
বিডিপ্রতিদিন/কবিরুল