শীত প্রায় শেষের দিকে। গরম পড়তে আর বেশি দেরি নেই। শরীরে গরম কাপড় প্রায় আলমারিতে ঢুকে পড়েছে। অন্যদিকে গরম পড়ার কারণে আপনার বাসার এসির কথাও  মনে পড়ছে। কিন্তু শীতের কারণে দীর্ঘদিন এসি বন্ধ রয়েছে। এটি চালু করা দরকার। অনেকেই আবার এসি চালু করছেন।

কিন্তু কয়েক মাস বন্ধ থাকার পর সরাসরি এসি চালু করা মোটেই বুদ্ধিমানের কাজ নয়। এতে যেমন ঠান্ডা কম পাওয়া যায়, ঠিক তেমনই হঠাৎ করে বড়সড় যান্ত্রিক সমস্যাও দেখা দিতে পারে। তাই এসি চালানোর আগে কিছু জরুরি সার্ভিসিং করানো অত্যন্ত প্রয়োজন।

চলুন জেনে নেওয়া যাক, এসি চালুর আগে কোন কোন সার্ভিসিং করানো উচিত-

এয়ার ফিল্টার

আপনার বাসার এসি দীর্ঘদিন বন্ধ থাকলে এয়ার ফিল্টারের মধ্যে প্রচুর ধুলা, ময়লা ও জীবাণু জমে যায়। এর ফলে বাতাস চলাচলে বাধা সৃষ্টি হয় এবং এসি ঠিকমতো ঠান্ডা দিতে পারে না। অনেক সময় ঘরের ভেতরে অস্বস্তিকর গন্ধও ছড়িয়ে পড়ে। তাই এসি চালুর আগে অবশ্যই ফিল্টার খুলে পরিষ্কার করে নেওয়া উচিত। আর ফিল্টার বেশি পুরোনো বা ক্ষতিগ্রস্ত হলে নতুন ফিল্টার লাগানোই উত্তম।

ইনডোর ইউনিট

এসির ইনডোর ইউনিটের কুলিং কয়েল এবং ব্লোয়ার ফ্যানে ধুলা জমে থাকলে কুলিং ক্ষমতা অনেকটাই কমে যায়। শুধু তাই নয়, এতে বিদ্যুৎ খরচও বেড়ে যায়। আর দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর এই অংশে ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাকের আস্তরণ তৈরি হওয়ার আশঙ্কাও থাকে। তাই পেশাদার টেকনিশিয়ানের মাধ্যমে ইনডোর ইউনিট ভালোভাবে পরিষ্কার করানো জরুরি।

আউটডোর ইউনিট

সাধারণত আউটডোর ইউনিট খোলা জায়গায় থাকে বলে সেখানে পাতা, ধুলা, ময়লা কিংবা পাখির বাসা জমে যাওয়া খুবই স্বাভাবিক। এতে তাপ বের হওয়ার প্রক্রিয়া ব্যাহত হয় এবং এসির ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে যায়। ফলে কুলিং কমে যায় এবং যন্ত্রাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। সুতরাং এসি চালানোর আগে আউটডোর ইউনিট পরিষ্কার এবং ফ্যান ঠিক আছে কি না তা পরীক্ষা করে নেওয়া উচিত।

রেফ্রিজারেন্ট গ্যাস লেভেল

এসি দীর্ঘদিন বন্ধ থাকলে ধীরে ধীরে রেফ্রিজারেন্ট গ্যাস কমে যেতে পারে। আর গ্যাস কম থাকলে এসি চললেও পর্যাপ্ত ঠান্ডা পাওয়া যায় না এবং কম্প্রেসারের ওপর বাড়তি চাপ পড়ে। তাই এসি চালুর আগে গ্যাস লিক আছে কিনা পরীক্ষা করে নেওয়া উচিত। প্রয়োজনে গ্যাস রিফিল করা উচিত।

ইলেকট্রিক কানেকশন ও রিমোট পরীক্ষা

এসি দীর্ঘদিন ব্যবহৃত না করলে ইলেকট্রিক সংযোগ ঢিলে হয়ে যায় কিংবা তারে সমস্যা দেখা দিতে পারে। এতে শর্টসার্কিট কিংবা হঠাৎ করে এসি বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। এর পাশাপাশি রিমোট কন্ট্রোলের ব্যাটারি শেষ হয়ে যাওয়াও খুব সাধারণ সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই মেইন সুইচ, প্লাগ, তার ও রিমোট— সবকিছু ভালোভাবে পরীক্ষা করা ভীষণ জরুরি।

ড্রেন পাইপ ও পানি নিষ্কাশনব্যবস্থা পরীক্ষা

এসি চালু করার আগে ড্রেন পাইপ ও পানি নিষ্কাশনব্যবস্থা পরীক্ষা করা জরুরি। কারণ ইনডোর ইউনিট থেকে পানি বের হয় ড্রেন পাইপের মাধ্যমে। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকলে এ পাইপে শ্যাওলা বা ময়লা জমে ব্লকেজ তৈরি হতে পারে। ফলে ঘরের ভেতরে পানি পড়ার সমস্যা দেখা দেয়। এসি চালানোর আগে ড্রেন পাইপ পরিষ্কার করা হলে এ ঝামেলা এড়ানো যায়।

ট্রায়াল দেওয়া

এসির সব রকমের সার্ভিসিং শেষ হওয়ার পর অন্তত ১৫-২০ মিনিট এসি চালিয়ে দেখা উচিত। এতে কুলিং ঠিক আছে কিনা, অস্বাভাবিক শব্দ হচ্ছে কিনা এবং কোথাও পানি পড়ছে কিনা— এসব আগেই ট্রায়াল করা উচিত। আর এ ট্রায়াল রান ভবিষ্যতে বড় সমস্যার ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করবে।



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews