ছোটবেলায় একবার গ্রামে গিয়েছিলাম বড় মামার বিয়েতে। তখন বিয়ের দিনটির চেয়েও বেশি আনন্দ হয়েছিল বিয়ের আগের দিন। যে দিনকে আমরা বলি গায়েহলুদ। নানাবাড়ির উঠানে সেদিন যেন উৎসবের আমেজ। আশপাশের বাড়ি ও পাড়া থেকে শিশু, তরুণ-তরুণী থেকে শুরু করে বাড়ির বয়স্ক মানুষ—সবাই এসে জড়ো হয়েছিল।
উঠানজুড়ে হাসি, গল্প আর হইচই। বড় মামাকে পিঁড়িতে বসিয়ে নাচতে নাচতে গীত গাইতে লাগলেন প্রতিবেশী একদল নারী। গীতগুলো প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে গেয়ে চলেছেন নারীরা। কখনো কখনো বর বা বউয়ের নাম মিলিয়ে তাৎক্ষণিক কিছু লাইনও যোগ হচ্ছিল, যা শুনে হেসে উঠছিল সবাই।
এরপর শুরু হয় হলুদ মাখানোর পালা। বয়সে যিনি সবচেয়ে বড়, তিনিই আগে হলুদ দিয়ে আয়োজনটির শুভসূচনা করেন। একে একে আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী সবাই হলুদ লাগান বর বা কনেকে। গায়ে হলুদ মাখা শেষে কলসভর্তি পানি ঢেলে গোসল করানো হয় বরকে। কনের বাড়িতেও প্রায় একইভাবে গায়েহলুদ হয়। যদিও জায়গাভেদে কিছু পার্থক্য খেয়াল করা যায়।