যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে একটি বড় অভিবাসন আটক কেন্দ্রে বন্দিদের ওপর তীব্র নির্যাতন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে মামলা হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অবৈধ অভিবাসী তাড়ানোর বিশেষ পরিকল্পনার অধীনে ‘ক্যাম্প ইস্ট মন্টানা’ নামের এই বিশাল তাঁবু শিবিরটি তৈরি করা হয়েছিল।
এটি চালুর মাত্র নয় মাসের মধ্যে সেখানে তিনজন বন্দির মৃত্যু হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ২৭০০-এরও বেশি বন্দির সুরক্ষার দাবি জানিয়ে আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়নসহ কয়েকটি মানবাধিকার সংগঠন যৌথভাবে আদালতে এই মামলাটি করেছে।
মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে যে, মরুভূমির মধ্যে অবস্থিত এই কেন্দ্রের ভেতরে বন্দিদের জানালাবিহীন অন্ধকার ঘরে আটকে রাখা হয়। রক্ষীরা তাদের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালায়।
ভেনিজুয়েলা ও ক্যামেরুন থেকে আসা কয়েকজন বন্দি জানিয়েছেন, জোর করে দেশ থেকে তাড়ানোর কাগজে সই করাতে এবং সামান্য হাঁপানির ওষুধ চাওয়ায় রক্ষীরা তাদেরকে নির্মমভাবে মারধর করেছে। গত জানুয়ারি মাসে এখানে এক কিউবান নাগরিক মারা যান, ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা যেটিকে হত্যাকাণ্ড বলে নিশ্চিত করেছেন। রিপোর্টে বলা হয়েছে, ঘাড় চেপে শ্বাসরোধ করে তাকে মেরে ফেলা হয়েছে। এ ছাড়া আরেকজন বন্দি ক্যান্সারের চিকিৎসা না পেয়ে মুক্তির পরপরই মারা যান।
অবশ্য মার্কিন সরকারের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগবন্দিদের ওপর নির্যাতনের এই সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে দাবি করেছে। তাদের মতে, এখানে কোনো বন্দি চিকিৎসাবঞ্চিত বা মারধরের শিকার হচ্ছেন না। তবে গত ফেব্রুয়ারি মাসে সরকারের এক তদন্তেই ধরা পড়েছে যে, এই ক্যাম্পটি বন্দিদের আটকে রাখার অন্তত ৪৯টি নিয়ম লঙ্ঘন করেছে, যার মধ্যে চিকিৎসা ও অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের মতো গুরুতর বিষয় রয়েছে। মানবাধিকার আইনজীবীরা জানিয়েছেন, আর কোনো মানুষ যেন এমন অমানবিক আচরণের শিকার না হয়, তা নিশ্চিত করতেই তারা এই আইনি লড়াই শুরু করেছেন।
সূত্র : রয়টার্স
বিডি প্রতিদিন/নাজিম