নওগাঁ, ২২ এপ্রিল – নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলায় একই পরিবারের চারজনকে গলাকেটে হত্যার ঘটনার মূল রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে নিহত হাবিবুর রহমানের তিন স্বজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ধারালো হাঁসুয়া ও ছুরি উদ্ধার করেছে পুলিশ।

বুধবার জেলা পুলিশের এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম এসব তথ্য জানান।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন নিহত হাবিবুর রহমানের ভাগ্নে সবুজ রানা, দুলাভাই শহিদুল ইসলাম এবং শহিদুলের ছেলে শাহিন মন্ডল।

পুলিশ জানায়, গত সোমবার রাতে বাহাদুরপুর গ্রামে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই পুলিশ তদন্ত শুরু করে। তদন্তে বেরিয়ে আসে যে, পরিবারের কর্তা নমির উদ্দিন তার একমাত্র ছেলেকে ১৩ বিঘা জমি দিলেও মেয়েদের দিয়েছিলেন মাত্র ১০ কাঠা করে। এই বৈষম্য নিয়ে জামাতা ও নাতিদের মধ্যে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ ছিল। উত্তরাধিকারীদের শেষ করে দিতে পারলে জমির বড় অংশ পাওয়া যাবে এমন পরিকল্পনা থেকেই এই হত্যাকাণ্ড চালানো হয়।

পুলিশ সুপার জানান, হত্যার পরিকল্পনা অনুযায়ী ঘটনার দিন রাতে অভিযুক্তরা হাবিবুরের বাড়িতে অবস্থান নেন। রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে তারা ঘরে ঢুকে একে একে হাবিবুর রহমান, তার স্ত্রী পপি সুলতানা এবং দুই শিশু সন্তান পারভেজ ও সাদিয়াকে গলাকেটে হত্যা করেন। বৃদ্ধ নমির উদ্দিন যেন বাইরে বের হতে না পারেন সেজন্য তার ঘরের দরজা বাইরে থেকে আটকে দেওয়া হয়েছিল।

হত্যাকাণ্ডের পর অভিযুক্ত শাহিনের বাড়ির কাছ থেকে এবং একটি পুকুর থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় নিহত পপি সুলতানার বাবা মোয়াজ্জেম হোসেন বাদী হয়ে নিয়ামতপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।

গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ রিমান্ডের আবেদন করা হবে। এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

এনএন/ ২২ এপ্রিল ২০২৬



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews