গত এপ্রিল মাসের শেষ ভাগে অনুষ্ঠিত পশ্চিমবঙ্গ বিধান সভার নির্বাচন বিভিন্নভাবে আবার নতুন করে এই অমোঘ সত্যটি পুনঃপ্রতিষ্ঠা করলো যে, ১৯৪৭ সালের ১৪ ও ১৫ অগাস্ট ভারত ভেঙে যথাক্রমে স্বাধীন পাকিস্তান ও ভারত প্রতিষ্ঠা ছিলো ইতিহাসের অনিবার্য পরিণতি। বাংলাদেশে ক্ষমতার করিডোরে বিচরণকারীদের অনেকে যখন বলেন যে, ৪৭ এর ভারত বিভাগ মানি না, পশ্চিমবঙ্গ বিধান সভার এই নির্বাচন তাদের জ্ঞানচক্ষু উন্মিলনে সহায়ক হবে বলে মনে করি। তাদের অবগতির জন্য জানাতে চাই যে, পশ্চিমবঙ্গের মোট জনসংখ্যার ২৮ শতাংশ মুসলমান। পক্ষান্তরে বাংলাদেশে মোট জনসংখ্যার ৮ শতাংশ হিন্দু (সবশেষ আদমশুমারি মোতাবেক)। পশ্চিমবঙ্গের ২৮ শতাংশ মানুষ মুসলমান হলেও বিজেপি এই নির্বাচনে যে ২৯৪ জন মানুষকে মনোনয়ন দিয়েছিলো তাদের মধ্যে একজনও মুসলমান ছিলেন না। সুতরাং বিজেপি যে ২০৭টি আসন লাভ করে ভূমিধস বিজয় অর্জন করেছে সেখানে একজন মুসলমানও জয়লাভ করার প্রশ্নই ওঠে না। অনুরূপভাবে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর মন্ত্রিসভায় একজনও মুসলিম মন্ত্রী নাই। পক্ষান্তরে তৃণমূল কংগ্রেসের মমতা বন্দোপাধ্যায় ৪৭ জন মুসলমানকে মনোনয়ন দিয়েছিলেন। তাদের মধ্যে ৩২ জন মুসলমানই বিধান সভার সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। এর আগের নির্বাচনে মমতা ব্যানার্জীর দল থেকে ৩৮ জন মুসলমান বিধান সভার সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।

মমতা ব্যানার্জী ইলেকশনে কেনো হারলেন? আর শুভেন্দু অধিকারীর বিজেপি কেনো জিতলো তার পরিষ্কার ব্যাখ্যা দিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী নিজেই। তার চাঁচাছোলা জবাব, ‘মুসলমানরা মমতাকে ভোট দিয়েছেন। তাই উনি হেরে গিয়েছেন। আর হিন্দুরা বিজেপিকে ভোট দিয়েছে। তাই বিজেপি জিতে গেছে।’ এর চেয়ে ঠোঁটকাটা জবাব আর কিছু হতে পারে না।
পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির ভূমিধস বিজয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ মোটামুটি চার দিকে কট্টর হিন্দুত্ববাদী বিজেপি পরিবেষ্টিত হলো। আমাদের পশ্চিমে রয়েছে শুভেন্দু অধিকারীর বিজেপি সরকার। আমাদের পূবে রয়েছে মানিক সাহার বিজেপি সরকার। মাথার ওপর রয়েছে আসামে হেমন্ত শর্মার বিজেপি সরকার। এছাড়া সারা ভারতের ৩০টি রাজ্যের মধ্যে এখন ২১টি রাজ্যে রয়েছে বিজেপির সরকার।

বাংলাদেশে কোনো কোনো বড় দলের মধ্যে যখন আদর্শের ঘাটতি এবং দুর্বলতা দেখা যায় তখন একসময়ের দলছুট শুভেন্দু অধিকারী শুধুমাত্র বিজেপির আদর্শের প্রতিই আনুগত্য দেখাননি বরং তাদের প্যারেন্ট সংগঠন আরএসএস, বিশ^ হিন্দু পরিষদ, বজরং দল এবং হিন্দু মহাসভার প্রতি আনুগত্যের চরম পরাকাষ্ঠা দেখিয়েছেন।

শুভেন্দু অধিকারী এবং তার মন্ত্রিসভা শপথ গ্রহণ করেছে কলকাতা প্যারেড গ্রাউন্ডে। আমাদের মতো বঙ্গভবনে বা সংসদ ভবনে কোনো সনাতনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নয়। বরং লক্ষ লক্ষ মানুষের মাঝে তিনি শপথ নিয়েছেন। শুভ্র বসন ছেড়ে শুভেন্দু অধিকারী এদিন পরেছিলেন ধুতি ও পাঞ্জাবী। মঞ্চের পেছনে ছিলো সিনেমাস্কোপ পর্দার চেয়েও বড় বিশাল পর্দা। সেই পর্দায় টাঙানো ছিলো আজকের বিজেপির অন্যতম জনক সেদিনের হিন্দু মহাসভার প্রতিষ্ঠাতা শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জির বিশাল প্রতিকৃতি। ঐ দিন ছিলো রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্ম বার্ষিকী। আমরা বাংলাদেশে রবীন্দ্রনাথকে যতোই বাঙ্গালী জাতীয়তাবাদের গুরু হিসাবে অর্চনা করি না কেনো, বিজেপি তথা হিন্দু মহাসভা কিন্তু রবীন্দ্রনাথকে তার বাঙ্গালীয়ানার জন্য নয়, বরং হিন্দু ধর্ম গ্রন্থ ‘উপনিষদের’ অকুণ্ঠ ভক্ত হিসাবে সেদিন শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জির ছবির সাথে টাঙিয়ে ছিলো রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিশাল প্রতিকৃতি। প্রিয় পাঠক, ওরা যে বাঙ্গালিত্বের জন্য রবীন্দ্রভক্ত নয়, তার বড় প্রমাণ আরএসএসের একনিষ্ঠ কর্মী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আজ পর্যন্ত ভারতে যে হিন্দুত্ব বা হিন্দুরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন, সেটি রবীন্দ্রানাথের বাঙ্গালি জাতীয়তাবাদের এ্যান্টিথেসিস, অর্থাৎ সম্পূর্ণ বিরোধী।

॥দুই॥
অবিভক্ত ভারতে যুক্ত বাংলার মন্ত্রিসভা গঠনের জন্য ১৯৪১ সালে শেরে বাংলা এ.কে ফজলুল হক হিন্দু মহাসভা নেতা শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জির সাথে কোয়ালিশন করে যে মন্ত্রিসভা গঠন করেন, তার নাম ছিলো শ্যামা-হক মন্ত্রিসভা। এখানে শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি সম্পর্কে দু’ চারটি কথা বলতে হয়। ১৯১৫ সালে অখিল ভারতীয় হিন্দু মহাসভা (হিন্দু মহাসভা) প্রতিষ্ঠিত হয়। সংগঠনটির অন্যতম প্রধান নেতা নির্বাচিত হন বিনায়ক দামোদর সাভারকর। ১৯৪০ সালে শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি হিন্দু মহাসভার সাথে যুক্ত হন। ১৯৫১ সালে তিনি ভারতীয় জনসংঘ প্রতিষ্ঠা করেন। এই জনসংঘই পরে ভারতীয় জনতা পার্টি বা বিজেপি হিসাবে পরিচিত হয়। সেদিক দিয়ে বলা যায় যে, শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি ছিলেন বিজেপির পূর্বসূরী। সেই হিসাবে লক্ষাধিক লোকের সমাবেশে অনুষ্ঠিত প্যারেড গ্রাউন্ডে শপথ গ্রহণ মঞ্চের পেছনে শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জির ছবি টাঙানো ছিলো ওদের জন্য যুক্তিযুক্ত।
হিন্দু জাতীয়তাবাদের ইতিহাস ১৯ শতক থেকেই বিদ্যমান। রামকৃষ্ণ মিশন, ভারত সেবাশ্রম সংঘ এবং অনুশীলন সমিতির মতো সংগঠনগুলো আধ্যাত্মিক ও সামাজিক সংস্কারের প্রেক্ষাপটে ব্যবহৃত হয়েছে। আরএসএস আধুনিক সহযোগী সংগঠনগুলো কব্জা করে জাতীয় নিরাপত্তার মতো স্পর্শকাতর ইস্যুগুলোতে কাজ করে জনমত গঠন করেছে।

গত কয়েক দশকে ভারতের ধর্মনিরপেক্ষ কাঠামোর পরিবর্তন এবং হিন্দু জাতীয়তাবাদের প্রসারে এই সংগঠনটি পর্দার আড়াল থেকে মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে বলে এক বিশেষ প্রতিবেদনে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনপিআর। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৯২৫ সালে প্রতিষ্ঠিত এই সংগঠনটি আজ বিশ্বের বৃহত্তম স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনে পরিণত হয়েছে, যার সদস্য সংখ্যা প্রায় ৫০ লাখেরও বেশি। ভারতের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নিজেই এই সংগঠনের একজন দীর্ঘকালীন সদস্য। ফলে আরএসএস-এর আদর্শ এখন ভারতের জাতীয় নীতি নির্ধারণে এক বিশাল প্রভাব বিস্তার করছে। আরএসএস-এর মূল উদ্দেশ্য তারতকে একটি ‘হিন্দু রাষ্ট্র’ হিসেবে পুনর্গঠন করা। সংগঠনটির মতে, শত শত বছরের ব্রিটিশ এবং মুঘল শাসন ভারতীয়দের নিজস্ব সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য ভুলিয়ে দিয়েছে। সকালে শরীরচর্চা, ধ্যান এবং সংস্কৃত মন্ত্রোচ্চারণের মাধ্যমে তাদের শাখাগুলোতে সদস্যদের হিন্দু জাতীয়তাবাদের দীক্ষা দেওয়া হয়। তবে আরএসএস-এর এই উত্থান ভারতের ধর্মীয় সংখ্যালঘু বিশেষ করে মুসলমানদের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

যে কথা দৈনিক ‘ইনকিলাব’ বিগত ৪০ বছর ধরে বলে আসছে, আজ ৪০ বছর পর সেই কথাই অত্যন্ত চোস্ত ইংরেজি ভাষায় পুনর্ব্যক্ত করেছেন জাহাঙ্গীর নগর বিশ^বিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক শাহাব এনাম খান। তিনি বলেছেন, ‘বিগত ৭৫ বছর ধরে পশ্চিমবাংলা বলে আসছিলো এক কথা। সেই কথা হলো, পশ্চিমবঙ্গ হলো রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের দেশ, বিবেকানন্দের দেশ, বঙ্কিমচন্দ্র এবং শরৎচন্দ্রের দেশ, অমর্ত্য সেন এবং অভিজিৎ ব্যানার্জীর দেশ, উচ্চবর্গীয় ভদ্রলোক এবং মার্ক্সবাদীদের দেশ। মন্দির এবং মসজিদের রাজনীতি আমাদের নয়। ১৯৪৭ সালের বাংলা ভাগ? আমাদের ওপর জোর করে চাপিয়ে দিয়েছিলো ঐ ভিনদেশীরা এবং মুসলমানরা।’

বিগত ৭৫ বছর ধরে যে কথা পশ্চিম বাংলার ঠাকুর পুজারীদের কর্ণকুহরে প্রবেশ করানো হচ্ছিলো সেই কথা গত ৪ মে সম্পূর্ণ উল্টে দিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী এবং তার দল বিজেপি। শতবর্ষ আগে ১৯২৩ সালে ভি.ডি সাভারকার যে বইটি লেখেন তা অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়। বইটির নাম, Hindutva: Who is a Hindu?. বইটির যেটি মূল সূর তা হলো, ভারত একটি ‘হিন্দু সভ্যতার ভূমি’, যাদের ‘পিতৃভূমি’ ও ‘পূণ্যভূমি’ ভারত তারাই প্রকৃত জাতির অংশ। এটিই এখন ভারতের আদর্শ। সেই আদর্শ ধারণ করেই ১৯২৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘ (আরএসএস)। এর প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন কে. বি হেডগেওয়ার। আরএসএস প্রতিষ্ঠার মূল লক্ষ্য ছিলো, ‘হিন্দু সমাজকে সংগঠিত করা’। ‘জাতীয় চরিত্র গঠন’ এবং ‘সাংস্কৃতিক পুনর্জাগরণ’।
অন্তত ৩টি পুস্তিকাতে আরএসএসের আদর্শ ব্যাখ্যা করা হয়েছে। এগুলো হলো, Bunch of Thoughts, We or Our Nationhood Defined, Hindutva. সংক্ষেপে, তারা ভারতীয় জাতীয়তাবাদে নয়, তারা বিশ^াস করে ভারতের সাংস্কৃতিক জাতীয়তাবাদে। এই জাতীয়তাবাদ হলো, ভারতবাসী একটি একক সাংস্কৃতিক জাতি, যেটি ফুটে উঠেছে হিন্দুত্বের আদর্শে।
॥তিন॥
২০২০ সালের মধ্যভাগ পর্যন্ত শুভেন্দু অধিকারী মমতা ব্যানার্জীর তৃণমূলেই ছিলেন। তিনি ২০১১ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত মমতা ব্যানার্জীর অধীনে মন্ত্রী ছিলেন। ২০২০ সালে তিনি বিজেপিতে যোগ দেন। তারপর থেকেই তিনি More
Catholic than the Pope. বিজেপিতে আরএসএসের হার্ডকোর সদস্য হলেন নরেন্দ্র মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ প্রমুখ। এখন তাদের সারিতে স্থান নিতে চান শুভেন্দু অধিকারী। তাই তার শপথ অনুষ্ঠানে দিল্লী থেকে উড়ে আসেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং, যোগী আদিত্যনাথ এবং যেসব রাজ্যে বিজেপি সরকার রয়েছে তার অধিকাংশ মুখ্যমন্ত্রী।
শুভেন্দু অধিকারী শুধু যে আরএসএসের শিষ্য তাই নয়, তিনি অতি বড় আওয়ামীপ্রেমিক। তাই তিনি বলেছেন, ‘শেখ হাসিনা ওয়াজেদ বৈধ প্রধানমন্ত্রী। সেদেশের বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার অবৈধ। শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী হিসেবেই হজরত শাহ জালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামবেন এবং তাকে স্যালুট দিয়ে নিয়ে যেতে হবে।’
বাংলাদেশে খুব জ¦ল্পনা-কল্পনা চলছে যে, বিজেপির পশ্চিমবঙ্গ বিজয় ভারত বাংলাদেশ সম্পর্কের ওপর কতখানি প্রভাব বিস্তার করবে। আমি এগুলো সব পড়েছি। আসলে এগুলো পড়ার দরকার নাই। আজকের কলামে আমি আরএসএস, জনসংঘ, বিশ^ হিন্দু পরিষদ, হিন্দু মহাসভা, বজরং দল প্রভৃতি সংগঠনের সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দিলাম। সেই সাথে তাদের আদর্শ এবং উদ্দেশ্যও ব্যাখ্যা করলাম।
এক শতকেরও বেশি কাল ধরে যে আদর্শ ওরা লালন করছে, যে আদর্শ চারাগাছ থেকে আজ মহীরুহে পরিণত হয়েছে সেই আদর্শ যে তারা বাংলাদেশের ওপর চাপিয়ে দেবে না, সেব্যাপারে কারো সন্দেহ থাকা উচিত নয়। হাসিনার কথা শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন। আর ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রনধীর জয়শোয়াল বাংলাদেশের সাহায্য চেয়েছেন। কী সাহায্য? ভারত থেকে, বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গ ও ভারতের পূর্বাঞ্চল থেকে অবৈধ বাংলাদেশিদেরকে বিতাড়নের ব্যাপারে বাংলাদেশ যেনো সাহায্য করে।
দুই দেশের সম্পর্কে কী প্রভাব পড়বে, সেটি কি আর বুঝতে বাকি থাকে? সব বিষয়েই তো আঁটি ভেঙে শাঁস দেওয়ার প্রয়োজন নাই।

Email:[email protected]



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews