হাম প্রতিরোধে মানুষের মাঝে সচেতনতা বাড়াতে রাজবাড়ীতে বসুন্ধরা শুভসংঘের জেলা শাখার উদ্যোগে প্রচারণা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে।
শনিবার (১৬ মে) দুপুরে শহরের বড় বাজার, ১নম্বর রেলগেট, রেলস্টেশন, রিকশা ও অটোস্ট্যান্ড এলাকায় লিফলেট বিতরণ ও সামাজিক প্রচারণা চালানো হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের রাজবাড়ী জেলা শাখার সভাপতি ও রাজবাড়ী সরকারি কলেজের অধ্যাপক আশরাফ হোসেন খান, উপদেষ্টা ও অংকর স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রধান শিক্ষক নাজমুল আলম চৌধুরী, উপদেষ্টা ও দৈনিক কলের কণ্ঠের রাজবাড়ী জেলা প্রতিনিধি জাহাঙ্গীর হোসেন, সহ-সভাপতি ও শেরে বাংলা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রেজাউল করিম, সাধারণ সম্পাদক হাফিজুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও মীর মোশাররফ হোসেন কলেজের সবহারী অধ্যাপক রাজ্জাকুল আলম, কর্ম ও পরিকল্পনা বিষয়ক সম্পাদক মো. হাবীবুল্লাহ, সমাজ সেবক আব্দুস সাত্তার মন্ডলসহ অন্যান্যরা।
বসুন্ধরা শুভসংঘ রাজবাড়ী জেলা শাখার সভাপতি ও রাজবাড়ী সরকারি কলেজের অধ্যাপক আশরাফ হোসেন খান বলেন, বসুন্ধরা শুভসংঘ দীর্ঘতিন ধরে সামাজিক উন্নয়নমূলক কাজ পরিচালনা করে আসছে। এর অংশ হিসেবে রাজবাড়ীতে ‘হাম প্রতিরোধে প্রচারণামূলক’ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এ ধরণের ক্যাম্পেইন অব্যাহত থাকবে।
উপদেষ্টা ও অংকর স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রধান শিক্ষক নাজমুল আলম চৌধুরী বলেন, হাম অত্যন্ত ছোঁয়াচে ভাইরাসজনিত রোগ, যা প্রধানত ৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের বেশি আক্রান্ত করছে। হামে ইতোমধ্যেই দেশে সাড়ে ৪ শতাধিক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বিষয়টি উদ্বেগজনক।
সহ-সভাপতি ও শেরে বাংলা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রেজাউল করিম বলেন, সাধারণ মানুষের কাছে বসুন্ধরা শুভসংঘ একটি আস্থার নাম। এ সংগঠন সর্বদায় জনসেবামূলক কাজ করে থাকে। হাম প্রতিরোধে এ উদ্যোগও সাধারণ মানুষের সচেতনতায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে।
এ সময় হাম প্রতিরোধে জরুরি বার্তা পাঠ করেন সাধারণ সম্পাদক হাফিজুর রহমান। বার্তায় বলা হয়, হাম রোগের প্রধান লক্ষণ হলো তীব্র জ্বর, কাশি, সর্দি, চোখ লাল হয়ে পানি পড়া, শরীরে লাল ফুসকুড়ি বা র্যাশ দেখা দেওয়া এবং মুখের ভেতরে সাদা দাগ (কোপলিক স্পট) তৈরি হওয়া।
এই রোগ প্রতিরোধে অভিভাবকদের শিশুদের নিয়মিত টিকাদানের আহ্বান জানানো হয়। নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গিয়ে ৯ মাস থেকে ১৮ মাস বয়সী শিশুকে বিনামূল্যে দুই ডোজ হাম-রুবেলা (এমআর) টিকা দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। প্রথম ডোজ ৯ মাস বয়সে এবং দ্বিতীয় ডোজ ১৫ থেকে ১৮ মাস বয়সের মধ্যে দিতে হবে।
শিশু আক্রান্ত হলে তাকে বিশ্রামে রাখা, আলাদা বিছানায় শোয়ানো, প্রচুর পানি ও পুষ্টিকর খাবার খাওয়ানো এবং ব্যবহৃত কাপড়-চোপড় গরম পানি ও সাবান দিয়ে পরিষ্কার করার পরামর্শ দেওয়া হয়। পাশাপাশি শিশু অতিরিক্ত দুর্বল হয়ে পড়লে বা খেতে না পারলে দ্রুত নিকটস্থ সরকারি হাসপাতাল বা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
প্রচারণায় আরও বলা হয়, হামের লক্ষণ দেখা দিলে শিশুকে স্কুল বা জনসমাগমে পাঠানো যাবে না এবং চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো অ্যান্টিবায়োটিক বা ওষুধ সেবন করানো উচিত নয়।
বিডি প্রতিদিন/আরকে