বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) কৃষি অনুষদের জুনিয়র রিসেপশন ও সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা চলাকালে শিক্ষার্থীদের দুই গ্রুপের হাতাহাতির জেরে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে মাঝপথে অনুষ্ঠান স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বিকেল ৪টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের হেলিপ্যাডে কৃষি অনুষদের ৬৪তম ও ৬৩তম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের ‘জুনিয়র রিসেপশন ও সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা’ অনুষ্ঠান শুরু হয়। পরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চলাকালীন রাত ৯টার দিকে হঠাৎ করে দুই গ্রুপ শিক্ষার্থীর মাঝে হাতাহাতি শুরু হয়। এ সময় অনুষ্ঠানস্থলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, কৃষি অনুষদের ৬৪ ব্যাচের একজন ছাত্র এবং একই ব্যাচের এক ছাত্রীর মাঝে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। কিন্তু ৬৩ ব্যাচের পশুপালন অনুষদের আরেকজন ছাত্র ওই নারী শিক্ষার্থীকে মেসেজ দিয়ে বিরক্ত করতো। এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার তারা একত্র হয়ে সমাধানের চেষ্টা করে। এসময় দুই গ্রুপ শিক্ষার্থীর মাঝে কথা কাটাকাটি হয় এবং একপর্যায়ে তা হাতাহাতিতে রূপ নেয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ঈশা খাঁ হল ও শহীদ শামসুল হক হলের শিক্ষার্থীদের মাঝে হাতাহাতির ঘটনা ছড়িয়ে পড়ে।
তবে ব্যক্তিগত সমস্যাকে হল পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া এবং দ্বন্দ্ব সৃষ্টি করে অনুষ্ঠান পণ্ড করায় ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা।
পরে প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সিনিয়র শিক্ষার্থীরা এসে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন। অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে অনুষ্ঠান স্থগিত ঘোষণা করে শিক্ষার্থীদের নিজ নিজ হলে পাঠিয়ে দেয়া হয়।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো: আবদুল আলীম বলেন, ‘সংবাদ পাওয়ার পরেই আমি প্রক্টরিয়াল বডির সবাইকে নিয়ে স্পটে গিয়েছিলাম। মারামারি করে দুই গ্রুপ দু’দিকে চলে গিয়েছিল। তবে ওখানে আরো মারামারির আশঙ্কা ছিল, আমরা তাদের বুঝিয়ে বলেছি। ছাত্ররা আমাদের কথা রেখে প্রোগ্রামটা বন্ধ করে দিয়েছে। মারামারির ভিডিওটা আমাদের কাছে অলরেডি চলে আসছে। আমরা এটা তদন্ত করে দেখব এবং যারা এই সুন্দর একটি পরিবেশ নষ্ট করল, তাদের বিরুদ্ধে শিগগিরই ব্যবস্থা নেবো।’