২০১৫ সালের ৫ জানুয়ারি পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বর্ষপূর্তির দুদিন আগে রাজধানীর গুলশানের নিজ কার্যালয়ে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন বিএনপির মরহুম চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। পরদিন ৪ জানুয়ারি থেকে পুলিশের ঘেরাওয়ের মধ্যে কার্যালয়ের সামনের রাস্তা ইট ও বালুভর্তি ডজনখানেক ট্রাক রেখে আটকে দেওয়া হয়।

যে রাস্তায় খালেদা জিয়ার অফিস, সেই ৮৬ নম্বর সড়কের দুদিকে আড়াআড়িভাবে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রাখা হয় ১১টি ট্রাক। এছাড়া জলকামান, এপিসি নিয়ে বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা সেখানে অবস্থান নেন।  ৫ জানুয়ারি ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবস’ হিসেবে পালনের ঘোষণা দিয়ে সমাবেশ ও কালো পতাকা মিছিলের কর্মসূচি দেওয়ার পর খালেদা জিয়াকে আটকে দেওয়া হয়।এরপর পুলিশ কার্যালয়ের মূল ফটকও আটকে দিলে ভেতরে একদল নেতাকর্মীসহ অবস্থান নেন বিএনপি চেয়ারপারসন। 

অবরুদ্ধ অবস্থায় ১৪ দিন অতিবাহিত হওয়ার পর ১৮ জানুয়ারি খালেদা জিয়ার গুলশানের কার্যালয়ের সামনে থেকে পুলিশের ভ্যান ও জলকামান সরিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি অতিরিক্ত পুলিশও প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।

এর আগে ২০১৩ সালে ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বিএনপির কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে গুলশানে খালেদা জিয়ার বাসার সামনের সড়কও একইভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল।

২০১৫ সালে অবরুদ্ধ থাকার ওই সময়টাতে গুলশান কার্যালয়ের সামনে পুলিশের সঙ্গে স্থানীয় আওয়ামী লীগ, যুবলীগের নেতাকর্মীরাও বাসার সামনে অবস্থান নিতেন।  কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য শাজাহান খানের নেতৃত্বে একদল ক্যাডার বাহিনী নিয়মিত মহড়া দিত। এছাড়া হাসিনা সরকারের সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিমের সঙ্গেও অভিনয় শিল্পীরা গুলশান কার্যালয়ের সামনে আসতেন। তাদের মধ্যে ছিলেন অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী।

ওই সময়ে গুলশান কার্যালয়ের সামনে চঞ্চলের ভূমিকা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন সাংবাদিক ও লেখক মারুফ কামাল খান; যিনি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার প্রেস সচিবের দায়িত্বে ছিলেন। 

১০ বছর আগের এ ঘটনার স্মৃতিচারণ করে গত শুক্রবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে মারুফ কামাল খান লেখেন, ‘বনলতা এক্সপ্রেস ছবির অন্যতম প্রধান চরিত্র চিত্রন করেছে চঞ্চল চৌধুরী। চঞ্চল ভালো অভিনেতা। তবে হাসিনা ভক্ত ও আওয়ামী সমর্থক। তাতেও আমার আপত্তি নেই। কিন্তু চঞ্চল হাসিনা গংয়ের ফ্যাসিবাদী অপরাধে মদত জুগিয়েছে। গুলশান অফিসে ম্যাডাম খালেদা জিয়াসহ আমাদেরকে যখন তিন মাস অন্যায়ভাবে জবরদস্তি করে আটকে রাখা হয়েছিল, তখন এই চঞ্চল আরও অনেকের সঙ্গে এসে মস্তানি করত। আমাদের ফাঁসি দাবি করত। আমাদের ওপর আক্রমণ চালাবার মহড়া করত। তাই ওর নাম শুনলে বা চেহারা দেখলেই রাগে ক্ষোভে দুঃখে ঘৃণায় আমার শরীর কাঁপতে থাকে।

প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে তিনি আরও লেখেন, তারেক রহমান দেশের নেতা। তাকে ব্যক্তিগত অনুভূতির ঊর্ধে উঠে সব কিছু বিবেচনা করতে হয়। আমি সামান্য মানুষ। তাই সব কিছু ভুলতে পারি না।

উল্লেখ্য, রাজধানীর ধানমন্ডির সীমান্ত সম্ভার প্রেক্ষাগৃহে গত শুক্রবার (৩ এপ্রিল) সন্ধ্যায় মেয়ে জাইমা রহমানকে নিয়ে সিনেমা দেখতে যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেখানে তারা ‘প্রোজেক্ট হেইল মেরি’ সিনেমাটি উপভোগ করেন। কিন্তু তার আগে বেশ কয়েকটি গণমাধ্যমে খবর প্রকাশ করে- তারা ঈদে মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমা ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ দেখতে গেছেন। পরে জানা যায় এ তথ্যটি সত্য নয়।

মেয়েকে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ দেখতে সিনেমা হলে গেছেন- শুরুতে এমন খবর সংবাদমাধ্যমে প্রচার হলে সোশ্যাল মিডিয়ায় ওই স্ট্যাটাস দেন মারুফ কামাল খান। 

স্ট্যাটাসটির বিষয়ে জানতে চাইলে রোববার রাতে মারুফ খান কামাল যুগান্তরকে বলেন, ওই সময় শাজাহান খান তার ক্যাডার বাহিনী সঙ্গে গাড়ি নিয়ে এসে মহড়া দিত।এছাড়া তারানা হালিমের নেতৃত্বে একদল আওয়ামী মদতপুষ্ট অভিনয় শিল্পীরা আসত। 

ওই সময়ের স্মৃতি মনে করে তিনি বলেন, আমরা ওই সময় তিন মাস অবরুদ্ধ ছিলাম। ম্যাডামের অফিস তালা দেওয়া হয়েছিল। আমাদের খাবার সরবারহ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। শুধু ম্যাডামের খাবার বাসা থেকে আসত। আর আমরা চিড়া-মুড়ি খেয়ে থাকতাম।



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews