১৯৭৭ সালের মূল ‘স্টার ওয়ার্স’-এর প্রশংসিত চলচ্চিত্র সম্পাদক অস্কারজয়ী মার্সিয়া লুকাস আর নেই। স্থানীয় সময় শুক্রবার (২৯ মে) পরিবারের একজন আইনজীবী তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর।
লুকাস যিনি ১৯৬৯ থেকে ১৯৮৩ সাল পর্যন্ত ‘স্টার ওয়ার্স’-এর স্রষ্টা জর্জ লুকাসের স্ত্রী ছিলেন। মেটাস্ট্যাটিক ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে গত বুধবার তিনি মারা গেছেন বলে তার আইনজীবী ডেইড্রে ভন রক অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে নিশ্চিত করেছেন। ভন রক বলেন, মার্সিয়া লুকাস ক্যালিফোর্নিয়ার র্যাঞ্চো মিরাজে প্রিয়জনদের মাঝে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
মার্সিয়া লুকাস ১৯৮৩ সালের ‘রিটার্ন অফ দ্য জেডাই’ এবং ‘স্টার ওয়ার্স’-এর আগের জর্জ লুকাস পরিচালিত চলচ্চিত্র ‘টিএইচএক্স ১১৩৮’ ও ‘আমেরিকান গ্রাফিতি’-এর সম্পাদক ছিলেন। এছাড়াও তিনি পরিচালক মার্টিন স্করসেসির ১৯৭০-এর দশকের চলচ্চিত্র ‘ট্যাক্সি ড্রাইভার’, ‘অ্যালিস ডাজন্ট লিভ হিয়ার অ্যানিমোর’ এবং ‘নিউ ইয়র্ক, নিউ ইয়র্ক’-এর সম্পাদনা দলের অংশ ছিলেন।
মার্সিয়া লুকাসকে প্রায়শই ‘স্টার ওয়ার্স’-এর নেপথ্য নায়িকা বলা হতো। এই মূল চলচ্চিত্রটি সিক্যুয়েল, প্রিক্যুয়েল এবং স্পিনঅফগুলোর পর এর উপশিরোনাম ‘আ নিউ হোপ’ নামে পরিচিতি লাভ করেছে।
ক্যালিফোর্নিয়ার মোডেস্টোতে মার্সিয়া লু গ্রিফিন নামে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। এরপর এডিটরস গিল্ডের শিক্ষানবিশ কর্মসূচির মাধ্যমে সম্পাদনা পেশায় প্রবেশের আগে একজন চলচ্চিত্র গ্রন্থাগারিক হিসেবে তার কর্মজীবন শুরু করেন। তিনি ১৯৬৯ সালে চলচ্চিত্র নির্মাতা জর্জ লুকাসকে বিয়ে করেন। এরপর ১৯৮৩ সালে বিবাহবিচ্ছেদের আগে এই দম্পতি বেশ কয়েকটি প্রকল্পে একসঙ্গে কাজ করেছিলেন।
তার প্রজন্মের অন্যতম প্রভাবশালী সম্পাদক হিসেবে ব্যাপকভাবে পরিচিত লুকাস স্টার ওয়ার্স-এ তার কাজের জন্য একটি একাডেমি পুরস্কার জিতেছিলেন। এছাড়াও যুগান্তকারী সাই-ফাই সাগার আবেগঘন স্পন্দন তৈরিতে সাহায্য করার জন্য স্বীকৃতি অর্জন করেন।
চলচ্চিত্রের কিছু কালজয়ী ক্লাসিকের সঙ্গে তার কীর্তি ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছেন। যা আগামীতেও পর্দায় তার প্রভাব অনুভূত হতে থাকবে।
বিডি প্রতিদিন/আরক