টাইপ করে দীর্ঘ লেখা তৈরির ঝামেলা এখন অনেকটাই কমে যেতে পারে। কারণ এবার এমন একটি নতুন এআই অ্যাপ নিয়ে এসেছে গুগল, যেখানে আপনি শুধু কথা বলবেন আর সেটিই স্বয়ংক্রিয়ভাবে লেখা হয়ে যাবে। অর্থাৎ আলাদা করে টাইপ করার দরকার হবে না। দ্রুত কথা থেকে টেক্সট তৈরি করতে এই নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে।
গুগল জানিয়েছে, এই অ্যাপটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে কথাকে লেখায় রূপান্তর করবে। ব্যবহারকারী কথা বলা শুরু করলেই এটি লাইভ ট্রান্সক্রিপশন মোডে চলে যাবে। অর্থাৎ আপনি যতক্ষণ কথা বলবেন, ততক্ষণ সেটি সঙ্গে সঙ্গে লেখায় রূপান্তরিত হতে থাকবে। মাঝখানে থেমে গেলে ট্রান্সক্রিপশনও সাময়িকভাবে থেমে যাবে।
এই সুবিধা চালাতে গুগল ব্যবহার করছে তাদের নিজস্ব এআই মডেল জেমিনি এআই। আর পুরো অ্যাপটির নাম দেওয়া হয়েছে গুগল এআই এজ এলোকুয়েন্ট। বিশেষ বিষয় হলো এটি আইফোন বা অন্যান্য অ্যাপল ডিভাইসেও অফলাইন মোডে ব্যবহার করা সম্ভব হবে।
গুগলের এই নতুন অ্যাপকে মূলত একটি উন্নতমানের ডিকটেশন অ্যাপ হিসেবে তৈরি করা হয়েছে। সাধারণ কথাবার্তা আর প্রফেশনাল লেখার মধ্যে কিছু পার্থক্য থাকে। অনেক সময় আমরা যেভাবে বলি, ঠিক সেভাবে লিখলে সেটি ভালো শোনায় না। এই অ্যাপটি সেই সমস্যাও কিছুটা সমাধান করতে পারবে বলে আশা করা হচ্ছে।
রিয়েল-টাইমে কথাকে পরিপাটি লেখায় রূপান্তর করার জন্য এতে উন্নত এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। ফলে বক্তৃতা, নোট নেওয়া বা দ্রুত লেখা তৈরির ক্ষেত্রে এটি বেশ সহায়ক হতে পারে।
শুধু অ্যাপ ডাউনলোড করলেই কাজ শেষ নয়। ব্যবহারকারীদের অ্যাপটির সঙ্গে এআই মডেলও ইনস্টল করতে হবে। এই মডেলের মধ্যেই রয়েছে অটোমেটিক স্পিচ রেকগনিশন বা এএসআর প্রযুক্তি, যা মানুষের কথা শনাক্ত করে লেখায় রূপান্তর করে।
চাইলে ব্যবহারকারী ক্লাউড মোড বন্ধ করেও এই সুবিধা ব্যবহার করতে পারবেন। সে ক্ষেত্রে ইন্টারনেট ছাড়াই ফোনে লাইভ ট্রান্সক্রিপশন চলবে। তবে ক্লাউড চালু থাকলে গুগলের এআই সিস্টেম আরও দ্রুত ও নির্ভুলভাবে লেখা তৈরি করতে সাহায্য করবে।
বর্তমানে বাজারে এমন অনেক অ্যাপ রয়েছে, যা কথা থেকে লেখা তৈরি করতে পারে। কিন্তু সেগুলোর অনেক ক্ষেত্রেই সমস্যা দেখা যায়। অনেক সময় অ্যাপগুলো ব্যবহারকারীর কথা ঠিকভাবে বুঝতে পারে না বা ভুল শব্দ লিখে ফেলে।
এই জায়গাতেই এগিয়ে থাকতে চায় গুগল। উন্নত এআই ব্যবহারের কারণে নতুন এই অ্যাপটি তুলনামূলকভাবে বেশি নির্ভুল ও দ্রুত কাজ করবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে বাস্তবে ব্যবহারকারীরা কতটা ভালো অভিজ্ঞতা পান, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
কেএসকে