বিশ্বজুড়ে অস্থির ভূরাজনীতি ও যুদ্ধের প্রভাবে বর্তমানে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে জ্বালানিতেলের সংকট দেখা দিয়েছে। কিছুদিন যাবত দেশের পাম্পগুলোতে জ্বালানিতেল নিয়ে অস্থিরতা চলছে। বিশ্বজুড়ে অস্থির ভূরাজনীতি ও যুদ্ধের সাথে তাল মিলিয়ে কিছু অসাধু সুযোগসান্ধানী ব্যবসায়ী অধিক ফায়দা লাভের আশায় এই সংকটকে আরও বেশি তীব্র করে তোলার জন্য কৃত্রিম সংকট তৈরি করে চলেছে। ফলে গণপরিবহন, ব্যক্তিগত পরিবহন, মোটরসাইকেলসহ অন্যান্য বাহনে জ্বালানি নেওয়ার আশায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও পাচ্ছে না কাক্সিক্ষত জ্বালানি। পাশাপাশি খোলাবাজারে জ্বালানির দামও কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিকে ঘিরে পাতানো সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যও বেশ বেড়ে গেছে। ফলে মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহনের চালকরা বিপাকে পড়েছে। গণপরিবহন কিংবা ব্যক্তিগত গাড়িতে যাতায়াতকারী সব শ্রেণির মানুষই এ সংকট ও পাতানো সিন্ডিকেটের ভুক্তভোগী।
একথা অনস্বীকার্য যে, জ্বালানিতেলের সংকট শুধুমাত্র পরিবহন সেক্টরে সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং এটি একটি দেশের পুরো অর্থনীতি ব্যবস্থার ওপর বহুমুখী ও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। কেননা, জ্বালানিতেলের সাথে একটি দেশের অনেক কিছুই জড়িত। একথা বলতেই হয় যে, জ্বালানিতেল আধুনিক অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি, তাই এর সরবরাহ ব্যাহত হলে বা দাম বাড়লে উৎপাদন থেকে শুরু করে ভোক্তা পর্যন্ত পুরো সাপ্লাই চেইন ভেঙে পড়ে। বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণে এমনটি পাওয়া যায় যে, জ্বালানিতেলের সংকটে উৎপাদন ও শিল্প খাতে স্থবিরতা, বিদ্যুৎখাতে অস্থিরতা, কৃষি খাতে নেতিবাচক প্রভাব, পরিবহন ও সরবরাহ চেইন ভেঙে পড়া, মুদ্রাস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধি, বাণিজ্যঘাটতি ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের উপর চাপ সৃষ্টিসহ কর্মসংস্থান হ্রাস পাওয়ার সম্ভবনা আছে। এজন্য এই সংকট মোকাবেলায় সরকারের পাশাপাশি ব্যক্তি পর্যায়ের সকলের সমন্বিত পদক্ষেপ একান্ত কাম্য। যদিও আধুনিক সভ্যতার যুগে এই পদক্ষেপগুলো একটু চ্যালেঞ্জিং, তারপরেও এই সচেতনা অতীব জরুরি।
জ্বালানিতেলের সংকট মোকাবেলায় সর্বপ্রথম যে বিষয়গুলোর দিকে প্রাধান্য দিতে হবে তার মধ্যে অন্যতম বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি আমদানি, রেশনিং, সাশ্রয়ী ব্যবহার এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ওপর জোর দেওয়া প্রয়োজন। এই নবায়নযোগ্য জ্বালানির মধ্যে সোলার প্যানেল তথা সৌরবিদ্যুৎ, উইন্ড মিল থেকে পাওয়া বিদ্যুৎশক্তি, পানি হতে পাওয়া পানিবিদ্যুৎ ইত্যাদি হতে পারে। এককথায় সৌরবিদ্যুৎ ও অন্যান্য নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে হবে। একটি বিষয়ে না বললেই নয়, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহারের জন্য বিভিন্ন সময়ে সরকারের গৃহীত অধিকাংশ প্রকল্প অজানা কারণে সাফল্যের মুখ দেখতে পারেনি। প্রকল্পের পেছনে কাড়ি কাড়ি অর্থ ব্যয় করা হলেও ঐ সকল প্রকল্প থেকে জাতীয় পর্যায়ে কোনো কাক্সিক্ষত বেনিফিট আসেনি। এখন সময় এসেছে উক্ত প্রকল্পগুলোর দিকে নজর দেওয়ার। উক্ত প্রকল্প সমূহ থেকে কিভাবে সর্বোচ্চ আউটপুট পাওয়া যায়, সে বিষয়ে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা। স্ব স্ব বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের সুচিন্তিত মতামতের ভিত্তিতে নবায়নযোগ্য শক্তি, যেমন: সূর্য, বায়ু, পানিকে কাজে লাগিয়ে সেখান থেকে কীভাবে সর্বোচ্চ পরিমাণ নবায়নযোগ্য শক্তি পাওয়া যায়, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষকে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে হবে।
জ্বালানিসংকট মোকাবেলায় পরিবহন সেক্টরে সুচিন্তিত পদক্ষেপ নেওয়া আবশ্যক। নিঃসন্দেহে ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার কমিয়ে গণপরিবহন ব্যবহার সংকট কমাতে সহায়ক। গণপরিবহন যাতে করে ধনী-গরিব, নারী-পুরুষ সকলের ভ্রমণের জন্য সহনশীল হয় সেই বিষয়ে অধিক গুরুত্ব আরোপ করতে হবে। সেইসাথে জনগণকে সাইকেলের ব্যবহার কিংবা পায়ে হেঁটে চলাকে উৎসাহিত করা যেতে পারে। বিশ্বের বিভিন্ন উন্নত দেশেও অনেক আগে থেকেই সাইকেলের ব্যবহার প্রচলিত আছে। এছাড়াও বর্তমান উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবেলায় অর্থাৎ জ্বালানিসংকট নিরসনে অনেক দেশ ইতোমধ্যে সাইকেলের ব্যবহারের উপর গুরুত্ব আরোপ করেছে। সাইকেলের ব্যবহার শুধু জ্বালানি সাশ্রয় বা অর্থনৈতিক দিকেই নয়, পরিবেশ রক্ষায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। এজন্য এই কঠিন সময়ে বিকল্প ও সাশ্রয়ী বাহন হিসেবে চিরচেনা সাইকেল হতে পারে কার্যকর সমাধান। তবে হ্যাঁ, বিশ্বের অনেক দেশ বহু আগে থেকে বিষয়টি অনুধাবন করে আসছে এজন্য সেই অনুযায়ী কার্যকর পদক্ষেপও গ্রহণ করেছে।
একথা সবার জানা যে, প্রযুক্তির ক্ষেত্রে বিশ্বজুড়ে এগিয়ে রয়েছে চীন। খোদ এই চীনেই সাইকেল শুধু একটি বাহন নয়, বরং জনগণের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। চীনে সাইকেলের সংখ্যা প্রায় ৫০০ মিলিয়ন। তাই চীনকে বলা হয় বিশ্বের সর্ববৃহৎ সাইকেল ব্যবহারকারী দেশ। বহু আগে থেকে ধনী-গরিব, নারী-পুরুষ, সবাই সমান তালে পরিবহন হিসেবে সাইকেল ব্যবহার করে আসছে। সাংহাই শহরের ৬০ শতাংশ মানুষ প্রতিদিন সাইকেল ব্যবহার করে। পরিবেশবান্ধব ও শহুরে জীবনে সুবিধাজনক বলে দেশটিতে সাইকেলের ব্যবহার দিনকে দিন আরও জনপ্রিয় হচ্ছে। জার্মানির জনসংখ্যা প্রায় ৮২ মিলিয়ন। কিন্তু দেশটিতে সাইকেলের সংখ্যা প্রায় ৮১ মিলিয়ন। মোটরগাড়ি উৎপাদনের ক্ষেত্রে অন্যতম বড় দেশ হওয়া সত্ত্বেও সাইকেল চালানো জার্মানিদের কাছে খুবই জনপ্রিয়। এজন্য জার্মানিকে ‘সাইকেল আরোহীদের দেশ’ বলা হয়। নেদারল্যান্ডসকে বলা হয় ‘সাইকেলের দেশ’। দেশটিতে জনসংখ্যার চেয়ে সাইকেলের সংখ্যা বেশি। নেদারল্যান্ডস সরকার ও স্থানীয় প্রশাসন সাইকেলের ব্যবহার বাড়াতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। ডেনমার্কে সাইকেল ব্যবহার খুবই জনপ্রিয়। দেশটিতে একজন ব্যক্তি গড়ে দৈনিক সাইকেল চালান ১ দশমিক ৬ কিলোমিটার। কোপেনহেগেন শহরকে ২০১৫ সালে বিশ্বের সাইকেলবান্ধব শহর হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। ডেনমার্ক সরকার সাইকেলের ব্যবহার বাড়ানোর জন্য রাস্তায় লেন, সাইকেল ব্রিজ এবং পার্কিং সুবিধায় বড় বিনিয়োগ করেছে। সেখানে ‘ট্যুর দে ডেনমার্ক’ নামের সাইকেল প্রতিযোগিতা খুব জনপ্রিয়। এছাড়াও নরওয়ে, সুইজারল্যান্ড, বেলজিয়াম, জাপান, সুইডেন, ফিনল্যান্ডসহ নানান দেশে বাহন হিসেবে সাইকেলের বেশ জনপ্রিয়তা রয়েছে।
উপরোক্ত দেশগুলোতে সাইকেল চলাচলের জন্য রয়েছে উন্নত অবকাঠামো, পৃথক লেন ও পর্যাপ্ত ফুটপাত। রাস্তাগুলোতে বিভিন্ন কোম্পানির সাইকেল জনগণের উদ্দেশে রাখা থাকে। নামে মাত্র মূল্য পরিশোধের মাধ্যমে এসব সাইকেল যেকেউ ব্যবহার করতে পারে। ব্যবহারকারী গন্তব্যে পৌঁছে সাইকেল রাস্তার পাশেই লক করে রেখে যায়। নির্দিষ্ট অ্যাপ ব্যবহারের মাধ্যমে পরবর্তীতে পুনরায় অন্যজন ঐ সাইকেল ব্যবহারের সুযোগ পায়। কোম্পানির সাইকেল ছাড়াও অনেকেই ব্যক্তিগত সাইকেল ব্যবহার করে থাকে। জনগণের ব্যবহারের সুবিধার্থে রাত-দিন সবসময় বিভিন্ন কোম্পানির সাইকেল রাস্তায় রাখা থাকে। তবে একথা সত্য যে, আমাদের শহরগুলোতে, বিশেষ করে ঢাকা শহরে সেই অবকাঠামো নেই। নিরাপত্তার যথেষ্ট ঘাটতিও রয়েছে। নেই পর্যাপ্ত সিসি ক্যামেরা। ফুটপাত দখল, রাস্তাঘাট দখল, অপরিকল্পিত নগরায়ন এই ব্যবস্থাকে আরও বেশি বেমানান করে তুলেছে। এ বিষয়গুলোও মাথায় রেখে কাজ করতে হবে। সেই সাথে ঢাকা শহরসহ অন্যান্য শহরে যুক্ত হয়েছে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা। রাজধানী জুড়ে পঙ্গপালের মত ছড়িয়ে ছিটিয়ে চলাচল করা এসব ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা একদিকে যেমন শহরগুলোর রাস্তাঘাট আরো বেশি বিশৃঙ্খল করে তুলেছে অন্যদিকে বিদ্যুতের ঘাটতির অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে এই ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা।
দেশে যে ঠিক কতসংখ্যক ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচল করছে, তার সুনির্দিষ্ট তথ্যও সরকারের কাছে নেই। বেসরকারি বিভিন্ন সংগঠনের তথ্যানুযায়ী, এর সংখ্যা ৫০ লাখের উপরে। কোনো নীতিমালা ও নিবন্ধন না থাকায় সহজেই এই বাহন আমদানি, বিক্রি ও চলাচল আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে বলে মত বিশেষজ্ঞেদের। পঙ্গপালের মতো এসব অটোরিকশার সংখ্যা বাড়ার পাশাপাশি বাড়ছে বিদ্যুতের চাহিদাও। পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি সূত্রমতে, দেশে কয়েক হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার চার্জিং পয়েন্ট রয়েছে। প্রতিটি চার্জিং পয়েন্টে ৫-২০টি রিকশা চার্জ দেওয়া হয়। একটি ব্যাটারিচালিত রিকশার ব্যাটারি চার্জে দৈনিক ১০-১২ ইউনিট বিদ্যুৎ প্রয়োজন হয়। কোনো কোনো স্থানে এই সংখ্যা আরও বেশি। ফলে বিদ্যুৎঘাটতির অন্যতম কারণ হিসেবে ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক ও রিকশাকে দ্বায়ী করা যায়। স্বাভাবিক অবস্থাতেই বিদ্যুৎঘাটতি মেটাতে হিমশিম খায় সরকার, সেখানে ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক ও রিকশা বিদ্যুৎঘাটতির বিষয় তথা জ্বালানিসংকটকে নিঃসন্দেহে উস্কে দিচ্ছে। যেখানে প্যাডেলচালিত রিকশায় একজন চালক কায়িক শ্রম দিয়ে রিকশা চালনা করায় সেখানে কোন বিদ্যুৎ এর প্রয়োজন হয় না। কিন্তু উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিদ্যুতের চাহিদা নিরসনে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা বন্ধের বিষয়ে কোন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না কিংবা এখনো পর্যন্ত তাদের প্রতি কোনরকম শর্ত আরোপ করা হয়নি। সরকারের যথাযথ দপ্তরকে এই বিষয়ে এখুনি পদক্ষেপ নিয়ে ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক ও রিকশা বন্ধে উপযুক্ত পদক্ষেপ নিয়ে প্যাডেলচালিত রিকশা এবং সাইকেল ব্যবস্থার প্রচলন শুরু করা বাঞ্ছনীয়।
কেননা, মোটরযানের পরিবর্তে প্যাডেলচালিত রিকশা বা সাইকেল থেকে পরিবেশ ও মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকিসরূপ বিভিন্ন ধরনের ক্ষতিকর গ্যাস নির্গত হয়না। তাই বিশ্বের অনেক দেশ জ্বালানিনির্ভর যানবাহনের বিকল্প হিসেবে সাইকেলকে গুরুত্ব দিচ্ছে। এছাড়া কেউ কেউ স্বাস্থ্য সচেতনায় ব্যায়াম হিসেবেও সাইকেল চালান। তাই স্বল্প দূরত্বে যাতায়াতের জন্য সাইকেল সবচেয়ে উত্তম ও পরিবেশবান্ধব বাহন। বিশ্বে সাইকেল কেবল যাতায়াতের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয় না। এটি পরিবেশ ও সুস্থ জীবনধারার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। উন্নত সাইকেল অবকাঠামো, নিরাপদ পথ, সরকারি প্রণোদনা এবং স্থানীয় সংস্কৃতির সমন্বয়ে মানুষকে সাইকেল ব্যবহারে উৎসাহিত করার পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে। এটি শুধু খরচ বাঁচাতেই নয়, বরং পরিবেশবান্ধব, স্বাস্থ্যকর এবং টেকসই পরিবহন ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
বিদ্যুৎঘাটতি পূরণে প্রয়োজন অনুযায়ী ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ বা অফিস সময়সূচি পুনর্বিন্যাস করা যেতে পারে। গরমের দিনে যেহেতু ভোরের আলো বেশ আগেভাগেই ফোটে এজন্য সকল প্রতিষ্ঠানের কর্মঘণ্টা এগিয়ে আনা যেতে পারে। যদিও সরকার ইতোমধ্যে সকল অফিসের কর্মঘন্টা ১ ঘণ্টা কমিয়ে এনেছে। কিন্তু সূর্যের আলোর সর্বোচ্চ ব্যবহারের নিমিত্ত সকল অফিস আদালত, স্কুল-কলেজসহ সকল প্রতিষ্ঠান সকাল ৭ কিংবা ৮ টায় শুরু করার বিকল্প চিন্তা করা যেতে পারে। বর্তমানে প্রচলিত সময় অপেক্ষা যদি ২ কিংবা ১ ঘণ্টা কর্মঘণ্টা এগিয়ে আনা যায় তাহলে সূর্যের আলোর সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত হবে এবং অফিস আদালত এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উপর বাড়তি কোনো চাপ পড়বে না বলে ধারণা করা যেতে পারে। সরকার ইতোমধ্যে শপিংমলের সময়সূচিতে পরিবর্তন এনেছে। এই পরিবর্তনের সাথে বাড়তি সংযোজন হিসেবে শপিংমলগুলোর প্রবেশ পথে বিশেষ ধরনের তাপরোধী মোটা স্বচ্ছ প্ল্যাস্টিকের পর্দা জাতীয় পদার্থ কিংবা গ্লাসের স্বয়ংক্রিয় দরজা ব্যবহার বাধ্যতামূলক করতে পারে। যেটা বাইরের দেশগুলোতে সামার সিজিনে ব্যবহার করে। আমরা জানি, এসি যদি তাপ নিরোধক রুমের মধ্যে চলে তাহলে বিদ্যুতের খরচ কম হয়। কাচের স্বয়ংক্রিয় দরজা কিংবা মোটা প্ল্যাস্টিকের পর্দা সদৃশ দরজা সংযোজন করে এসির বাতাস বাইরে যাতে না যায় সেই ব্যবস্থা করতে হবে। যদিও নামে মাত্র কিছু সুপারমলে এই ব্যবস্থা পূর্ব থেকেই আছে কিন্তু অধিকাংশ এসিচালিত মার্কেটে তা চোখে পড়েনি। এই বিষয়ে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে হবে। এছাড়াও সকল অফিসে এসি ব্যবহার সীমিতকরণ করে এবং বিদ্যুতের সাশ্রয়ী ব্যবহারে সকলকে উৎসাহিত করা যেতে পারে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে অনেক দেশে পাবলিক পরিবহনের ভাড়া মওকুফ করা হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে শহরগুলোতে ব্যক্তিগত পরিবহন ব্যবহারে নিরুৎসাহিত করতে পাবলিক পরিবহনে ভাড়া কমানো বা মওকুফের বিষয়টিকেও প্রাধান্য দেওয়া যেতে পারে। তেলের কৃত্রিম সংকট তৈরি ও কালোবাজারি রোধে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট ও নজরদারি জোরদার করতে হবে। জনগণের মধ্যে জ্বালানিসাশ্রয় নিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে, যাতে আতঙ্কে অতিরিক্ত তেল মজুত না করে। এই সংকটকালীন সময়ে গাড়ির গতি কমিয়ে বা অযথা ইঞ্জিন চালু না রেখেও ব্যক্তিগত পর্যায়ে জ্বালানিসাশ্রয় করার বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরি করতে হবে। মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প দেশ (যেমন: রাশিয়া) থেকে নিয়মিত তেল আমদানির বিষয়ে ভেবে দেখা যেতে পারে। সর্বোপরি বিদ্যুৎ ও জ্বালানির ব্যবহার কমিয়ে রেশনিং ব্যবস্থা চালু করা অপ্রয়োজনীয় আলোকসজ্জা এবং এসি ব্যবহার সীমিত করতে হবে।
লেখক: গবেষক ও কলামিস্ট।
[email protected]