ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে একটি ফিলিং স্টেশনে তেল নিতে আসা মোটরসাইকেল চালকদের পেটানো ও অসদাচরণের অভিযোগে এক পুলিশ কর্মকর্তাকে পুলিশ লাইনে ক্লোজড করা হয়েছে। অভিযুক্ত ওই কর্মকর্তা কালীগঞ্জ থানার এএসআই আব্দুল্লাহ আল মামুন।
শনিবার (২৮ মার্চ) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কালীগঞ্জ শহরের যশোর-ঝিনাইদহ সড়কের আয়েশা ফিলিং স্টেশনে এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে সেখানে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছিলেন। এ সময় মোটরসাইকেল চালকদের লাইনে দাঁড়িয়ে তেল নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
অভিযোগ রয়েছে, এএসআই মামুন কয়েকজন মোটরসাইকেল চালককে লাঠি দিয়ে মারধর করেন এবং তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন। এমনকি কয়েকটি মোটরসাইকেলেও আঘাত করে ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাংবাদিকদের ক্যামেরায় তার আচরণের ভিডিও ধারণ করা হয়, যা পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
ভিডিওটি ভাইরাল হলে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে সন্ধ্যায় ঝিনাইদহ জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে তাকে পুলিশ লাইনে ক্লোজড করা হয়। স্থানীয়দের দাবি, এর আগেও তার বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগ রয়েছে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে এএসআই আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, তিনি শৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে দায়িত্ব পালন করছিলেন। বাইক চালকদের সিরিয়াল মেনে তেল নেওয়ার জন্য বলা হয়েছিল। একপর্যায়ে একজন বাইকার অসাবধানতাবশত তার পায়ের ওপর মোটরসাইকেল তুলে দেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতেই তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়। কাউকে লাঠিপেটা করা হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
কালীগঞ্জ থানার ওসি জেল্লাল হোসেন জানান, ঘটনার একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তে তাকে পুলিশ লাইনে ক্লোজড করা হয়েছে। এটি ভিডিওর কারণে, নাকি অন্য কোনো প্রশাসনিক কারণে-তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ প্রশাসন।
বিডি-প্রতিদিন/আব্দুল্লাহ