তাহলে কেন নিতিন নবীন প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে যেতে চেয়েছিলেন? এটাই মোদিকে ভাবিয়েছিল। বিজেপির এক সূত্রের কথায়, জন সুরাজ পার্টির হয়ে প্রশান্ত কিশোর বিরোধী প্রার্থী হলেও তখনো কিন্তু ২০ জুলাইয়ের যন্তর মন্তর হয়নি। বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতির ওই আবদারই নাকি মোদিকে বুঝিয়েছিল, বাঁকিপুরে সবকিছু হয়তো ঠিকঠাক নেই। তাই বলে বিজেপি হেরে যাবে, মোদি তা ভাবেননি।
তেমন ভাবার কারণও ছিল না। মাত্র আট মাস আগে বিজেপি–জেডিইউয়ের এনডিএ জোট হই হই করে বিহারে ক্ষমতায় এসেছে। ২৪৩ আসনের মধ্যে বিজেপি একাই জিতেছিল ৮৯ আসন। জোটের আসন ২০০ পার। চার মাস আগে নীতীশ কুমারকে সরিয়ে মুখ্যমন্ত্রিত্ব আদায় করেছে বিজেপি। প্রথমবারের মতো।
এই অল্প সময়ের মধ্যে পরিবর্তন বলতে দুটি। এক. প্রশান্ত কিশোরের প্রার্থী হওয়া, দুই. দিল্লিতে আরশোলা আন্দোলনে পুলিশি অত্যাচার এবং তার ঢেউ বিহারে আছড়ে পড়া। এসব সত্ত্বেও বিজেপি ভেবেছিল, বিরোধী ভোটে ভাগ বসাবেন আরজেডি প্রার্থী রেখা কুমারীও। কাজেই বিজেপির নীরজ কুমার সিনহার জয় স্রেফ সময়ের প্রতীক্ষা।
কিন্তু কথায় আছে, পচা শামুকেও পা কাটে। বাঁকিপুর বিধানসভা আসনে বিজেপির পা–কাটা শামুক যদিও পচা নয়। রীতিমতো টাটকা। একটি নয়, দুটি। প্রশান্ত কিশোর ও জেন–জি। বিজেপি তাই রক্তাক্ত হয়েছে। আট মাস আগে যে আসন নিতিন নবীন জিতেছিলেন ৫২ হাজার ভোটের ব্যবধানে, প্রশান্ত কিশোর তা জিতলেন ১৯ হাজার ৩২৪ ভোটে।
এর অর্থ, আট মাসে ৭২ হাজার ভোট বাড়তি পেয়েছেন সেই ব্যক্তি, যাঁর দল জন সুরাজ পার্টি বিধানসভা ভোটে সব আসনে প্রার্থী দিয়ে একটিতেও জেতেনি, প্রাপ্ত ভোটের হার ছিল সাড়ে ৩ শতাংশেরও কম। প্রশান্ত কিশোর এবার পেয়েছেন প্রায় ৫০ শতাংশ ভোট, বিজেপি ৩৪ শতাংশ।