আঞ্চলিক সংকট, নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ ও বহিরাগত চাপ মোকাবিলায় মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে বৃহত্তর ঐক্যের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তিনি বলেন, ইসলামী বিশ্বের বিপুল সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হলে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সমন্বয় ও সহযোগিতা বাড়ানোর বিকল্প নেই। এজন্য একটি শক্তিশালী মুসলিম জোট গঠনের আহ্বান জানান তিনি।

বুধবার (২৪ জুন) পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে দেশটির সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের সঙ্গে বৈঠককালে তিনি এ আহ্বান জানান।

বৈঠকে পেজেশকিয়ান বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক পরিস্থিতিতে মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদার করা অত্যন্ত জরুরি। ইসলামী বিশ্বের দেশগুলো যদি পারস্পরিক সমন্বয় ও সহযোগিতা বৃদ্ধি করতে পারে, তাহলে তারা বহুমাত্রিক সংকট মোকাবিলায় আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।

ইরানের প্রেসিডেন্ট পাকিস্তান সরকার, জনগণ, প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এবং দেশটির সামরিক নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, আঞ্চলিক শান্তি প্রতিষ্ঠা, উত্তেজনা প্রশমন এবং মধ্যস্থতামূলক কূটনৈতিক উদ্যোগে পাকিস্তান যে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেছে, তা প্রশংসার দাবিদার।

তিনি আরও বলেন, ‘শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় ভ্রাতৃপ্রতিম ও বন্ধুত্বপূর্ণ দেশ পাকিস্তানের প্রচেষ্টা অত্যন্ত মূল্যবান এবং প্রশংসনীয়।’

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে পেজেশকিয়ান বলেন, ইরানের জনগণ, সরকার এবং সশস্ত্র বাহিনী জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করেছে এবং দেশের বিরুদ্ধে পরিচালিত চাপ ও ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় সফল হয়েছে।

তিনি উল্লেখ করেন, পাকিস্তানের সক্রিয় কূটনৈতিক সম্পৃক্ততা প্রমাণ করে যে দেশটি মুসলিম বিশ্বের ঐক্য ও সংহতির গুরুত্ব গভীরভাবে উপলব্ধি করে।

ইরান-পাকিস্তান সম্পর্ক প্রসঙ্গে পেজেশকিয়ান আশা প্রকাশ করেন, দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক ও কৌশলগত সহযোগিতা আগামী দিনে আরও শক্তিশালী হবে এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে।

তিনি বলেন, ‘ইসলামী বিশ্বের রয়েছে বিপুল রাজনৈতিক শক্তি, অর্থনৈতিক সম্ভাবনা এবং মানবসম্পদ। এসব সক্ষমতাকে সমন্বিতভাবে কাজে লাগানো গেলে আঞ্চলিক সংকট সমাধান সহজ হবে এবং মুসলিম দেশগুলোর সম্মিলিত স্থিতিস্থাপকতা আরও বৃদ্ধি পাবে।’

অন্যদিকে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির ইরানের প্রেসিডেন্টকে সাম্প্রতিক কূটনৈতিক আলোচনা এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষরের অগ্রগতি সম্পর্কে অবহিত করেন। এ সময় তিনি পেজেশকিয়ানসহ ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের সহযোগিতা ও সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

আসিম মুনির বলেন, ‘বহিরাগত চাপ বা চ্যালেঞ্জ যাই থাকুক না কেন, পাকিস্তান বিশ্বাস করে কোনো মুসলিম দেশকে একা ফেলে রাখা উচিত নয়।’ তিনি ইসলামী বিশ্বের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা, সংহতি এবং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের গুরুত্বও তুলে ধরেন।

পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আরও বলেন, সাম্প্রতিক সংকটকালে ইরান যে দৃঢ়তা ও স্থিতিশীলতার পরিচয় দিয়েছে, তা গোটা মুসলিম বিশ্বের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা। নিজেদের সার্বভৌম অধিকার ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় ইরান সক্ষমতার পরিচয় দিয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইরান ও পাকিস্তানের এ উচ্চপর্যায়ের বৈঠক মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে বৃহত্তর ঐক্য ও সহযোগিতা জোরদারের প্রচেষ্টাকে নতুন মাত্রা দিতে পারে।



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews