সাম্প্রতিক সরকারি জলবায়ু নীতির কারণে নিউজিল্যান্ড নিজস্ব কার্বন নিঃসরণ হ্রাসের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে নাও পারে বলে একটি প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে।

জলবায়ু পরিবর্তন কমিশনের প্রতিবেদনটি চলতি মাসের শুরুতে প্রকাশ করা হলেও বুধবার (২২ জুলাই) এটি ব্যাপকভাবে আলোচনায় আসে। এতে বলা হয়, ওয়েলিংটনের ডানপন্থী সরকার ২০২৫ সালে কার্বন নিঃসরণ কমানোর বিষয়ে কমিশনের পরামর্শ উপেক্ষা করেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘আমরা লক্ষ্য আরো শক্তিশালী করার সুপারিশ করেছিলাম। যাতে জৈব উৎসের মিথেন নিঃসরণ আরো বেশি কমানো এবং অন্যান্য সব গ্রিনহাউস গ্যাসের ক্ষেত্রে নিট ঋণাত্মক নিঃসরণ (নিঃসরণের চেয়ে বেশি অপসারণ) নিশ্চিত করা হয়।’

এতে আরো বলা হয়, ‘সরকার আমাদের পরামর্শের জবাবে জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিক্রিয়া আইন সংশোধন করেছে। এতে ২০৫০ সালের মধ্যে জৈব উৎসের মিথেন কমানোর বাধ্যবাধকতা শিথিল করা হয়েছে। তবে ২০৫০ সালের নিট-শূন্য গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণের লক্ষ্য অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।’

প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘পথ সংশোধনের জন্য হাতে থাকা সময় এখন খুবই কম।’

এতে সতর্ক করা হয়, কৃষি খাতকে কার্বন নিঃসরণ মূল্য নির্ধারণের বাইরে রাখা, পরিচ্ছন্ন যানবাহন-সংক্রান্ত নীতিমালায় পরিবর্তন, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রতিবেদন দাখিলের বাধ্যবাধকতা কমানো এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি টার্মিনাল নির্মাণের পরিকল্পনার ফলে অন্য খাতে অর্জিত নিঃসরণ হ্রাসের সুফল ছাড়িয়ে মোট নিঃসরণ বেড়ে যাবে।

কমিশনের প্রধান নির্বাহী জো হেন্ডি বলেন, এ প্রতিবেদন একটি ‘স্পষ্ট সতর্কবার্তা’।

তিনি বলেন, ‘কার্বন নিঃসরণ ধীরে ধীরে কমছে। কিন্তু ২০২৪ সালে সেই অগ্রগতি থেমে গেছে। বর্তমান নীতিমালা প্রয়োজনীয় গতিতে ফল দিচ্ছে না।’

জো হেন্ডি আরো বলেন, ‘আগামী ১২ থেকে ২৪ মাসে সরকারের নেয়া সিদ্ধান্তগুলো দেশকে আবার সঠিক পথে ফিরিয়ে আনতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে।’

প্রতিবেদনে বলা হয়, গত এক বছরে নিউজিল্যান্ড এমন কয়েকটি নীতি গ্রহণ করেছে, যা কার্বন নিঃসরণ কমাতে সহায়ক হবে।

তবে এতে বলা হয়, ‘নিঃসরণ বাড়াতে পারে এমন অন্যান্য পদক্ষেপের কারণে এসব উদ্যোগের ইতিবাচক প্রভাব ম্লান হয়ে যেতে পারে।’

এতে পরিবেশবিষয়ক স্বতন্ত্র মন্ত্রণালয় বিলুপ্ত করার ওয়েলিংটনের সিদ্ধান্তকেও একটি ঝুঁকি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

মন্ত্রণালয়টিকে নব গঠিত নগর, পরিবেশ, অঞ্চল ও পরিবহনবিষয়ক বিভাগে একীভূত করা হবে।

চলতি বছর জলবায়ু নীতির কারণে সরকারের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা হয়। ‘লইয়ার্স ফর ক্লাইমেট অ্যাকশন’ এবং ‘এনভায়রনমেন্টাল ল ইনিশিয়েটিভ’ অভিযোগ করে, নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সরকার যথেষ্ট পদক্ষেপ নিচ্ছে না।

মামলাটির রায় আগামী কয়েক মাসের মধ্যে দেয়া হতে পারে।

সূত্র: বাসস



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews