মঙ্গলবার (২৩ জুন) দিল্লির রাষ্ট্রপতি ভবনে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর হাত থেকে ‘পদ্মভূষণ’ নেন এ কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী। কিন্তু এ গৌরবময় মুহূর্তের মাঝে তার শারীরিক অবস্থা দেখে চরম উদ্বেগে পড়েন কোটি কোটি ভক্ত-অনুরাগী।
অনুষ্ঠান মঞ্চে যাওয়ার সময় অলকা ইয়াগনিককে বেশ দুর্বল দেখাচ্ছিল এবং হাঁটার জন্য তাকে একজন স্বেচ্ছাসেবকের সাহায্য নিতে হয়েছিল। সামাজিক মাধ্যমে এমন একটি ভিডিও ভাইরাল হতেই বলিউডের অন্দরে ও ভক্তমহলে শোরগোল পড়ে যায়। অনুরাগীদের সেই উদ্বেগের অবসান ঘটাতে বুধবার (২৪ জুন) সকালে নিজেই সামাজিক মাধ্যম ইনস্টাগ্রামে একটি আবেগঘন পোস্ট দিয়ে তার বর্তমান শারীরিক পরিস্থিতির জানান দিয়েছেন এ কণ্ঠশিল্পী।
সেই পোস্টে অলকা ইয়াগনিক লিখেছেন— বিগত দুই বছর ধরে আমি লাইমলাইট, জনসমক্ষ থেকে দূরে রয়েছি। আপনারা অনেকেই জানেন যে, আমি এক কঠিন শারীরিক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছি।
পদ্মভূষণ পাওয়ার আনন্দ শেয়ার করে এ গায়িকা লিখেছেন— এ সম্মান অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ। আজ আমি যখন এটি নিতে মঞ্চে পা রেখেছিলাম, আমার মন কৃতজ্ঞতায় ভরপুর ছিল। আমি ধীরে ধীরে সুস্থতার পথে ফিরছি। আজ এখানে আসা শুধু নিজের জন্য নয়, আমার সেসব শ্রোতার জন্য, যারা চড়াই-উতরাইয়ের মাঝেও আমার পাশে দাঁড়িয়েছেন।
আরও পড়ুন
আরও পড়ুন বুমরাহকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়লেন কারিনা

বর্তমানে থেরাপির মাধ্যমে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার চেষ্টা চালাচ্ছেন অলকা। বিনোদন দুনিয়ার সহকর্মী থেকে শুরু করে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা তার ভক্ত-অনুরাগীরা এখন একটাই প্রার্থনা করছেন— পদ্মভূষণে সম্মানিত সুরসম্রাজ্ঞী যেন এই কঠিন লড়াই জয় করে খুব দ্রুত আবার গানের জগতে ফিরতে পারেন।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে কণ্ঠশিল্পী অলকা প্রথমবার জানিয়েছিলেন যে, তিনি একটি বিমান থেকে নামার পর হঠাৎ করেই আর কিছু শুনতে পাচ্ছিলেন না। সেই সময় চিকিৎসকরা পরীক্ষা করে জানান, তিনি এক বিরল স্নায়ুজনিত বধিরতা বা 'সেন্সোরিনিউরাল হিয়ারিং লস'-এর শিকার হয়েছেন।
এ বিষয়ে চিকিৎসকরা বলছেন সেন্সোরিনিউরাল হিয়ারিং লস হলো কানের এমন এক জটিল রোগ, যা মূলত ভেতরের কান কিংবা কান থেকে মস্তিষ্কে শব্দ সংকেত পৌঁছানোর প্রধান স্নায়ুটি ক্ষতিগ্রস্ত হলে দেখা দেয়। আবার দীর্ঘক্ষণ অতিরিক্ত চড়া আওয়াজে হেডফোন ব্যবহার, মাথায় আঘাত বা ভাইরাল ইনফেকশন থেকে এ সমস্যা হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে দ্রুত চিকিৎসা শুরু না করলে এ ক্ষতি চিরস্থায়ী রূপ নিতে পারে। অলকা ইয়াগনিকের ক্ষেত্রে সে রকমই একটি আচমকা তীব্র ভাইরাল সংক্রমণ বা 'ভাইরাল অ্যাটাক'-এর কারণে এ শ্রবণ স্নায়ুটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।
এ রোগের লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে— হঠাৎ করে শোনার ক্ষমতা সম্পূর্ণ বা আংশিক হারিয়ে ফেলা। কানে সবসময় এক ধরনের ভোঁ-ভোঁ শব্দ হওয়া এবং উচ্চস্বরের শব্দ বা কথাবার্তা অস্পষ্ট লাগা।