প্রায় চার মাসের উত্তেজনা ও সংঘাতের পর সমঝোতার পথে হাঁটতে শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। দুই দেশ একটি সমঝোতা স্মারকে সম্মত হলেও স্থায়ী সমাধানের পথ এখনো অনিশ্চিত। আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠেয় গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের আগে চারটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু সামনে চলে এসেছে, যা চূড়ান্ত চুক্তির পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকেরা।

শুক্রবারের বৈঠকে চূড়ান্ত সমঝোতার পথে বড় বাধা হতে পারে যেসব বিষয়-

পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে গভীর বিভেদ

সবচেয়ে জটিল প্রশ্নটি ঘুরপাক খাচ্ছে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে। যুক্তরাষ্ট্র চায় ইরানের কাছে থাকা উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত বিদেশে সরিয়ে নেওয়া হোক অথবা সম্পূর্ণ ধ্বংস করা হোক। কিন্তু তেহরান এ দুই প্রস্তাবই নাকচ করে দিয়েছে।

ইরান অবশ্য ইউরেনিয়ামের ঘনত্ব কমানোর বিষয়ে কিছুটা নমনীয়তার ইঙ্গিত দিয়েছে। তবে নিজেদের ভূখণ্ডে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার অধিকার কোনোভাবেই ছেড়ে দেবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে দেশটি। ফলে এই ইস্যুতেই আলোচনার সবচেয়ে বড় অচলাবস্থা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

হরমুজ প্রণালি নিয়ে টানাপোড়েন

সাম্প্রতিক সংঘাতের সময় হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ আবার চালু হওয়ার কথা থাকলেও পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি।

যুক্তরাষ্ট্র চায় প্রণালিটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য উন্মুক্ত ও টোলমুক্ত থাকুক। অন্যদিকে ইরান বলছে, যুদ্ধপরবর্তী বাস্তবতায় এই কৌশলগত জলপথের ব্যবস্থাপনায় তাদের প্রভাব ও ভূমিকা বজায় রাখতে হবে। এ নিয়ে দুই পক্ষের অবস্থান এখনো অনেক দূরে।

নিষেধাজ্ঞা ও জব্দ সম্পদে মতবিরোধ

অর্থনৈতিক প্রশ্নেও মতপার্থক্য স্পষ্ট। ইরান দ্রুত সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং বিদেশে আটকে থাকা বিপুল পরিমাণ সম্পদ ফেরতের দাবি জানিয়েছে। কিন্তু ওয়াশিংটনের অবস্থান ভিন্ন। যুক্তরাষ্ট্র বলছে, ইরান তার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করছে কি না, তা পর্যবেক্ষণ করেই ধাপে ধাপে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হবে। যদিও প্রাথমিক সমঝোতার অংশ হিসেবে ইরানের তেল রপ্তানিতে কিছু ছাড় দেওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, যা ইতোমধ্যে মার্কিন রাজনৈতিক অঙ্গনে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

ইসরায়েলের অবস্থান নতুন শঙ্কা

চুক্তির ভবিষ্যৎ বাস্তবায়নে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে উঠেছে ইসরায়েলের ভূমিকা। দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু স্পষ্ট করে দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যে কোনো সমঝোতা ইসরায়েলের সামরিক সিদ্ধান্তকে সীমাবদ্ধ করবে না।

বিশেষ করে লেবাননে ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর ক্ষেত্রে তারা নিজেদের অবস্থান থেকে সরে আসবে না বলেই ইঙ্গিত দিয়েছে। ফলে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নতুন করে উত্তপ্ত হওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডের বৈঠককে ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তৈরি হয়েছে ব্যাপক আগ্রহ। তবে পারমাণবিক কর্মসূচি, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা- এই চার ইস্যুতে বড় ধরনের মতপার্থক্য থাকায় চূড়ান্ত সমঝোতা কতটা আগাবে তা এখনো অনিশ্চিত। শুক্রবারের আলোচনা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান সংঘাত বন্ধ হতে পারে আবার অচলাবস্থাকেও দীর্ঘায়িত করতে পারে। 

সূত্র : রয়টার্স



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews