ইমাম হাসান বাগমারা উপজেলার গণিপুর ইউনিয়নের হাসনিপুর গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর বাবা বোরহান উদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে পান চাষ করতেন। বাড়ির পাশের দুই বিঘা জমিতে ছিল পানের বরজ; কিন্তু রোগবালাই ও ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় ধারাবাহিক লোকসানের মুখে পড়েন তিনি। তখন বিকল্প ফসলের চিন্তা শুরু হয়।
ইমাম হাসান ঢাকার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিষয়ে স্নাতক সম্পন্ন করেন। পরে একটি মোবাইল নেটওয়ার্ক অপারেটর প্রতিষ্ঠানে প্রকৌশলী হিসেবে চাকরি শুরু করেন। কিছুদিন পর চাকরি ছেড়ে ট্রাভেল এজেন্সির ব্যবসা শুরু করেন। এরপর গ্রামে ফিরে কৃষিকাজে মনোযোগ দেন।
ইমাম হাসান বলেন, একদিন একটি বেসরকারি টেলিভিশনে আঙুর চাষে সফল এক কৃষকের প্রতিবেদন দেখে বাবার আগ্রহ জন্মায়। বাবা বিষয়টি নিয়ে তাঁর (ইমাম হাসান) সঙ্গে আলোচনা করেন। পরে ইউটিউব ও বিভিন্ন অনলাইন মাধ্যমে আঙুর চাষের পদ্ধতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানেন তিনি। এরপর ২০২৫ সালে পানের বরজ ভেঙে সেখানে আঙুরের চাষ শুরু করেন। পরে আরও এক বিঘা জমি যুক্ত করে মোট তিন বিঘা জমিতে আঙুরের বাগান গড়ে তোলেন। বর্তমানে তাঁর বাগানে ব্ল্যাক ম্যাজিক, কার্নিভ্যাল, হেলিওডর, শাইন মাসকাট, ব্ল্যাক রুবি, গ্রিন লং ও ল্যাম্বরগিনি জাতের আঙুর আছে। এসব জাতের চারা কিনতে বিভিন্ন জেলা থেকে উদ্যোক্তারা আসছেন।