ডান পায়ের কাফের গ্রেড-টু ইনজুরিতে পড়া নেইমার জুনিয়রকে ঘিরে ব্রাজিলের বিশ্বকাপ পরিকল্পনায় নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এই মুহূর্তে তারকা এই ফরোয়ার্ডকে স্কোয়াড থেকে বাদ দেয়া হবে কি না, সে সিদ্ধান্ত এখনো চূড়ান্ত করতে পারেনি ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশন (সিবিএফ)। তবে ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, যেকোনো সিদ্ধান্ত নিতে হবে একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা ও শর্তের ভেতর থেকেই। চিকিৎসকদের ধারণা, এই ধরনের ইনজুরি থেকে পুরোপুরি সেরে উঠতে অন্তত দুই থেকে তিন সপ্তাহ সময় লাগতে পারে, যা বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে তার খেলাকে বড়সড় শঙ্কায় ফেলে দিয়েছে।
বিশ্বকাপের নিয়ম অনুযায়ী, আগামী ১ জুনের মধ্যে চূড়ান্ত স্কোয়াড জমা দিতে হবে। এর পরও কোনো খেলোয়াড়কে দলে পরিবর্তন করতে হলে সেটি কেবল গুরুতর ইনজুরি বা অসুস্থতার ক্ষেত্রেই সম্ভব হবে, যার জন্য ফিফার চিকিৎসা কমিটির কাছ থেকে বাধ্যতামূলক অনুমোদন নিতে হবে। ফিফার নিয়মে স্পষ্টভাবে বলা আছে, দলের প্রথম ম্যাচ শুরু হওয়ার ঠিক ২৪ ঘণ্টা আগ পর্যন্ত ইনজুরির কারণে খেলোয়াড় বদলানোর সুযোগ থাকবে। তবে এ ক্ষেত্রে শর্ত হলো, নতুন করে যাকে দলে নেওয়া হবে তাকে অবশ্যই পূর্বে ঘোষিত প্রাথমিক তালিকায় থাকতে হবে।
এই নিয়মের কারণে ব্রাজিলের সামনে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা রয়েছে। আগামী ১৩ জুন মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে সেলেসাওরা। সেই হিসেবে, ফিফার নিয়ম অনুযায়ী আগামী ১২ জুন পর্যন্ত খেলোয়াড় পরিবর্তনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানোর সুযোগ পাবে ব্রাজিল।
আপাতত ব্রাজিল কোচিং স্টাফ তাড়াহুড়ো না করে নেইমারকে যতটা সম্ভব সময় দিতে চাইছে। কারণ এখনই তাকে দল থেকে বাদ দিলে, টুর্নামেন্টের পরের দিকে ফিট হয়ে উঠলেও তাকে আর খেলানো যাবে না। সিবিএফের মেডিকেল বিভাগ জানিয়েছে, নেইমারের সুস্থ হওয়ার গতি সন্তোষজনক হলেও মরক্কোর বিপক্ষে তার খেলা প্রায় অসম্ভব। তাই হাইতির বিপক্ষে পরের ম্যাচকে লক্ষ্য করেই তার পুনর্বাসন প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে। এদিকে নেইমারকে ছাড়াই ১ জুন পানামার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচসহ নিজেদের প্রস্তুতি ম্যাচগুলো খেলার পরিকল্পনা করছে ব্রাজিল, যেখানে কোচিং স্টাফ মূলত বিকল্প আক্রমণভাগ গুছিয়ে নেওয়ার দিকেই নজর দিচ্ছে।
বিডি প্রতিদিন/এনএইচ