ব্রাসিলিয়া, ২৬ জুলাই – ব্রাজিলের আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে হস্তক্ষেপের আশঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্রের দুইজন সরকারি কর্মকর্তার ভিসার আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছে দেশটির সরকার। ব্রাজিলের কর্মকর্তাদের দাবি, দেশটির নির্বাচনী ব্যবস্থা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করে রাজনৈতিকভাবে পরিস্থিতি প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যেই এই সফরের পরিকল্পনা করা হয়েছিল।
গত শনিবার আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন ব্রাজিলের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। প্রতিবেদনে জানা গেছে, ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের দুইজন কর্মকর্তার চলতি মাসের শেষ দিকে ব্রাসিলিয়া সফরের কথা ছিল। তবে তাদের সফরটি নির্বাচনী পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে এমন আশঙ্কায় শুক্রবারই ভিসার আবেদন নাকচ করে দেয় ব্রাজিল।
এই প্রতিনিধিদলে গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও শ্রম বিষয়ক ব্যুরোর সহকারী সচিব রাইলি বার্নস এবং উপ সহকারী সচিব স্যামুয়েল স্যামসন থাকার কথা ছিল। তাদের সফরের উদ্দেশ্য ও গতিবিধি পর্যালোচনার পরই সরকার এই কঠোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। এদিকে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ব্রাজিলের এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানিয়েছে, নির্বাচনের স্বচ্ছতা, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করতেই এই সফরের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। এটি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ এবং এর সাথে নির্বাচনে হস্তক্ষেপের কোনো সম্পর্ক নেই।
আগামী অক্টোবরে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ব্রাজিলের নির্বাচনে বর্তমান প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভার বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন ডানপন্থী সিনেটর ফ্লাভিও বোলসোনারো। ফ্লাভিও সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বোলসোনারোর ছেলে এবং ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত।
ইতোমধ্যেই তিনি ব্রাজিলের ভোটব্যবস্থা নিয়ে বিভিন্ন বিতর্কিত দাবি তুলেছেন। এর আগে ২০২২ সালের নির্বাচনের ফলাফল পাল্টে দেওয়ার ষড়যন্ত্রের অভিযোগে জাইর বোলসোনারোকে ২০৩০ সাল পর্যন্ত নির্বাচনের অযোগ্য ঘোষণা করা হয় এবং বর্তমানে তিনি গৃহবন্দী অবস্থায় রয়েছেন।
এস এম/ ২৬ জুলাই ২০২৬