২০১৯ সালের ৫ আগস্ট জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ সাংবিধানিক মর্যাদা (অনুচ্ছেদ ৩৭০ ও ৩৫-এ) বাতিলের পর সাত বছর পার হলেও, অঞ্চলটির মুক্ত চিন্তা এবং স্বাধীন রাজনৈতিক অধিকারের প্রশ্নে এখনও কোন উন্নতি হয়নি, বরং আরও গভীর সংকট ও স্থবিরতা বিরাজ করছে। ২০২৪ সালের বিধানসভা নির্বাচনের মাধ্যমে দীর্ঘ এক দশক পর সেখানে একটি নির্বাচিত সরকার ও আইনসভা প্রতিষ্ঠিত হলেও, কাশ্মীরের স্থানীয় রাজনীতি ও বাকস্বাধীনতার সুযোগ আগের চেয়ে অনেক সংকুচিত বলে অভিযোগ রয়েছে।

কাশ্মীরে বর্তমানে এক ধরণের কঠোর অদৃশ্য সেন্সরশিপ এবং তীব্র প্রশাসনিক নজরদারি বজায় রাখা হয়েছে। গণবিক্ষোভ কিংবা অধিকার আদায়ের উন্মুক্ত আন্দোলনগুলো সম্পূর্ণ অনুপস্থিত।

বিচ্ছিন্নতাবাদী বা হুররিয়াত রাজনীতির দৃশ্যমান উপস্থিতি প্রায় বন্ধ। তবে মেহবুবা মুফতির নেতৃত্বাধীন পিপলস ডেমোক্রেটিক পার্টির (PDP) মতো মূলধারার আঞ্চলিক দলগুলো এখনো পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন ও রাজ্যের মর্যাদা ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে আন্দোলন করছে এবং একে 'কালো দিবস' হিসেবে দেখছে।

মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং বেআইনি কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইন বা ইউএপিএ (UAPA)-এর মতো কঠোর আইনের ভয়ে মুক্ত চিন্তা ও ভিন্নমতের প্রকাশ থমকে গেছে।

২০২৩ সালের ডিসেম্বরে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট কেন্দ্রীয় সরকারের ৩৭০ ধারা বাতিলের সিদ্ধান্তকে বৈধতা দিলেও দ্রুত জম্মু-কাশ্মীরের পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদা ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেয়। সাত বছর পরও সেই রাজ্যমর্যাদা পুনরুদ্ধারের দাবিই এখন উপত্যকার প্রধান রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত হয়েছে।

সাত বছর পরও কাশ্মীরে একদিকে শান্তি ও অর্থনৈতিক সংহতকরণের সরকারি বার্তা, আর অন্যদিকে খাঁচাবন্দি মুক্ত চিন্তা ও রাজনৈতিক অধিকারের আকুতি—এই দুই বিপরীত বাস্তবতার লড়াই চলছে।



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews