বালিকাদের বয়স ১০-১১ বছর হলেই শুরু হয় প্রশিক্ষণ। দীর্ঘ সাত বছর প্রশিক্ষণ শেষে একটি মেয়ে হেনিয়ো হওয়ার দক্ষতা অর্জন করে। বর্তমানে এই দ্বীপে ৮০ বছর বয়স্কা হেনিয়োও আছেন। আর ৯০ শতাংশ হেনিয়োর বয়স এখন ৬০ বছরের ওপর। এককালে তাঁরা সাধারণ সুতি জামা পরেই সমুদ্রে নামতেন। শীতল পানিতে ঘণ্টাখানেক কাজ করার পর তাঁদের উঠে আসতে হতো, আগুনের পাশে বসে শরীর ও জামা শুকিয়ে আবার নামতেন। গ্রীষ্মকালে অবশ্য সময়টা তিন ঘণ্টায় গিয়ে ঠেকত।
বর্তমানে সমুদ্রে নামার জন্য মেয়েরা ডাইভিং মাস্ক, ওয়েট স্যুট, বুকের ওপর শক্ত বেল্ট, ফিন আর গোল ভাসমান বলের সঙ্গে যুক্ত একটা জাল ব্যবহার করেন। এতে তাঁরা পানিতে একটানা ৬ ঘণ্টা থাকতে পারেন! একেকবার ডুব দিয়ে হেনিয়োরা সমুদ্রের প্রায় ২০ মিটার বা ৬৬ ফুট নিচে চলে যান, সমুদ্রের তলদেশে শ্বাস আটকে বিচরণ করতে পারেন টানা ৩ মিনিট। এই বিশেষ শ্বাসপ্রশ্বাস কৌশলের নাম ‘সামবিসোরি’।
জেজুতে আমাদের গাইড অ্যানার সঙ্গে পরিচিত হওয়ার পরই বলেছিল, ‘উইন্ড, উইমেন অ্যান্ড রক—এই তিন হলো আমাদের ল্যান্ডমার্ক। আগ্নেয়গিরি থেকে উৎসারিত এই পাথুরে দ্বীপে সারা দিন উতল হাওয়া খেলা করে। আর আমাদের নারীরা পৃথিবীতে অনন্য।’
‘আমরা কি তাদের দেখতে পাব?’ আমার জিজ্ঞাসার জবাবে সে হেসে বলেছিল, ‘নিশ্চয়ই।’