কাঁচা পাট, পাটের সুতা ও কাপড়ের হোগলা, চামড়া, কলাগাছের বাকল, কচুরিপানাসহ বিভিন্ন উপাদান ব্যবহার করে প্রায় ১২ হাজার হস্তজাত পণ্য প্রস্তুত ও রপ্তানি করে ক্রিয়েশন প্রাইভেট লিমিটেড। গাজীপুরের পুবাইল ও নরসিংদীর বিসিক শিল্পাঞ্চলে তাদের দুটি কারখানা রয়েছে। লোডশেডিংয়ের মধ্যে উৎপাদন চালাতে গিয়ে কারখানা দুটির জেনারেটরের জন্য গত আগস্টে ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা খরচ করেছে প্রতিষ্ঠানটি। গত মাসে তার চেয়েও ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা বেশি খরচ হয়েছে।
এ বিষয়ে ক্রিয়েশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. রাশেদুল করিম প্রথম আলোকে বলেন, দুই সপ্তাহ ধরে বিদ্যুতের অবস্থা বেশি খারাপ হয়েছে। দিনে পাঁচ থেকে ছয় ঘণ্টা লোডশেডিং হচ্ছে। ঘনঘন লোডশেডিংয়ের কারণে কারখানার যন্ত্রপাতি নষ্ট হচ্ছে। এরই মধ্যে একটি জেনারেটর নষ্ট হয়ে গেছে। সেটি মেরামত করতে মোটা অঙ্কের টাকা খরচ করতে হয়েছে। তিনি বলেন, ‘বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতি করতে সরকার একেক এলাকার শিল্পাঞ্চলের জন্য একেক দিন সাপ্তাহিক ছুটি ঘোষণা করে। আমরাও সেটি মেনে নিয়েছিলাম। তারপরও বিদ্যুৎ পরিস্থিতির কোনো উন্নতির হয়নি।’
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের জালকুড়ি এলাকায় ফতুল্লা অ্যাপারেলস নামের একটি রপ্তানিমুখী পোশাক কারখানায় কাজ করেন ৫০০ কর্মী। লোডশেডিংয়ের কারণে ছোট এ কারখানার দৈনিক খরচ দিনে এক লাখ টাকা বেড়ে গেছে। যার পুরোটাই জেনারেটরের তেলের পেছনে খরচ হচ্ছে।
ফতুল্লা অ্যাপারেলসের স্বত্বাধিকারী ফজলে শামীম এহসান বলেন, সপ্তাহখানেক ধরে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি বেশি খারাপ হয়েছে। দিনের বেলায় তিন থেকে সাড়ে তিন ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না। লোডশেডিংয়ের সময় ডিজেলচালিত জেনারেটর দিয়ে উৎপাদন সচল রাখতে হচ্ছে। বিদ্যুতের পাশাপাশি গ্যাস–সংকটে বয়লার চালু রাখতেও বাড়তি খরচ হচ্ছে।
কারখানায় জেনারেটর ব্যবহারের জন্য কম দামে ডিজেল পেতে গত সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে চিঠি দিয়েছে তৈরি পোশাক খাতের ব্যবসায়ীদের সংগঠন বিজিএমইএ। চিঠিতে বলা হয়, লোডশেডিংয়ের কারণে কারখানায় উৎপাদন কার্যক্রম সচল রাখতে তাঁরা জেনারেটর ব্যবহারে বাধ্য হচ্ছেন। এতে ডিজেল বেশি লাগছে। বিশ্ববাজারে ডিজেলের দাম কমেছে। তাই আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে স্থানীয়ভাবে ডিজেলের মূল্য পুনর্নির্ধারণ করা হলে সবাই উপকৃত হবেন।