২০২৫ সালের ব্লকবাস্টার ‘ধুরন্ধর’ সিনেমার সিক্যুয়েল ধুরন্ধর ২ মুক্তি পাওয়ার পর থেকেই সিনেমাপ্রেমীদের মাঝে ঝড় উঠেছে। এর মধ্যেই বক্স অফিসে ব্যাপক সাফল্য অর্জন করেছে সিনেমাটি।
কিন্তু সামাজিক মাধ্যমে নেটিজেনদের মাঝে এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। যদিও এর আগে প্রথম কিস্তি ধুরন্ধর ফ্র্যাঞ্চাইজি নিয়ে বেশ কয়েকবার বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
‘ধুরন্ধর টু’ সিনেমায় অভিনেতা রণবীর সিং অভিনয় করেছেন এক ভারতীয় গুপ্তচরের চরিত্রে। যার প্রকৃত পরিচয় জসকিরত সিং রাঙ্গি-একজন শিখ। পরিবারের ওপর হওয়া অন্যায়ের প্রতিশোধ নিতে গিয়ে তিনি জেলে যান এবং পরে গুপ্তচর হিসেবে পাকিস্তানে যান।
রণবীর সিং ছাড়াও এ সিনেমায় অভিনয় করেছেন অক্ষয় খান্না (রেহমান ডাকাইত হিসেবে), সঞ্জয় দত্ত, অর্জুন রামপাল, আর মাধবন এবং সারা অর্জুন প্রমুখ।
গত বছরের শেষের দিকে 'ধুরন্ধর' সিনেমার প্রথম কিস্তিতে ‘পাকিস্তানবিরোধী থিম’ উঠে আসার অভিযোগে মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কয়েকটি দেশে সিনেমাটি নিষিদ্ধ করা হয়। এরপর গত ১৯ মার্চ মুক্তি পায় এ সিনেমার দ্বিতীয় কিস্তি ‘ধুরন্ধর টু: দ্য রিভেঞ্জ’। এটি নিয়েও বিতর্ক উঠেছে।
অভিযোগ করা হয়েছে— এ সিনেমার একটি পোস্টারে অভিনেতা রণবীর সিংকে পাগড়ি ও কড়া পরে সিগারেট খেতে দেখা যাচ্ছে, যা শিখ ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করছে। এ ঘটনায় গত ১৭ মার্চ ‘শিখ অব মহারাষ্ট্র’ নামের একটি সংগঠন এ সিনেমার নির্মাতাদের বিরুদ্ধে পুলিশের কাছে অভিযোগ করেছে।
অন্যদিকে ভারতের লোকসভা সদস্য ও অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলেমিনের (এআইএমআইএম) সভাপতি আসাদউদ্দিন ওয়াইসি ‘ধুরন্ধর টু: দ্য রিভেঞ্জ’ সিনেমার তীব্র সমালোচনা করেছেন।
সম্প্রতি একটি সম্মেলনে অংশ নিয়ে এ সিনেমাটিকে ‘অবান্তর’ ও ‘তিন ঘণ্টার আবর্জনা’ বলে অভিহিত করেছেন এআইএমআইএমে সভাপতি। বিশ্বজুড়ে ‘ধুরন্ধর টু: দ্য রিভেঞ্জ’ সিনেমাটি নিয়ে উন্মাদনা থাকলেও এর বিষয়বস্তু নিয়ে আপত্তির কথা জানিয়েছেন এ রাজনীতিবিদ।
আসাদউদ্দিন ওয়াইসি বলেন, ওটা কি কোনো সিনেমা? যেন তিন ঘণ্টার আবর্জনা। আমার কাছে তিন ঘণ্টা বসে ওই সিনেমা দেখার মতো সময় নেই। ওই সিনেমায় গালাগাল আর সহিংসতা ছাড়া কী আছে? দর্শকদের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, এ ধরনের সিনেমা সমাজে বিদ্বেষ ছড়াচ্ছে। এসব দেখে সময় নষ্ট করার কী প্রয়োজন।
অবশ্য এর আগে ‘ধুরন্ধর টু: দ্য রিভেঞ্জ’ সিনেমার প্রযোজক আদিত্য ধর বলেন, শিখ সম্প্রদায়ের প্রতি তার গভীর শ্রদ্ধা রয়েছে এবং সিনেমার বিষয়গুলো অত্যন্ত সংবেদনশীলতা ও সম্মানের সঙ্গে উপস্থাপন করা হয়েছে। এ ধরনের এডিট করা কনটেন্টকে তিনি দুরভিসন্ধিমূলক বলেও মন্তব্য করেন।
এমন সময়ে রাজনীতিক আসাদউদ্দিন ওয়াইসির মন্তব্য নতুন করে সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।