মাভাবিপ্রবি প্রতিনিধি
মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে সাম্প্রতিক সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষাগুলো একের পর এক বাঁধার মুখে পড়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে সেশন জটের আশঙ্কা বাড়ছে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের দ্বিতীয় সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা শুরু হয়। বিভাগীয় প্রধান ও ডিনদের সমন্বয়ে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের তত্ত্বাবধানে অ্যাকাডেমিক ক্যালেন্ডার অনুযায়ী পরীক্ষার রুটিন প্রণয়ন করা হয়েছিল।
কিন্তু পরীক্ষার মাঝপথেই শুরু হয় নানা অনিশ্চয়তা। এর মধ্যে জাতীয় নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে ভোটগ্রহণ ও সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়।
এ জন্য দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির কথা উল্লেখ করে জরুরি ভিত্তিতে ৮ থেকে ১৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ক্যাম্পাস বন্ধের জন্য প্রশাসনের প্রতি আলটিমেটাম দেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা তুশার আহমেদ। তার এ ঘোষণাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।
পরে জুনিয়র শিক্ষার্থীদের দাবির প্রসঙ্গ তুলে তুশার আহমেদ এক ফেসবুক পোস্টে জানান, সবার শতভাগ চাহিদা পূরণ করা সম্ভব নয় এবং সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামত বিবেচনায় নিয়ে ৯ থেকে ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ক্যাম্পাস বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
তবে শিক্ষার্থীদের একাংশের মতে, এ ধরনের ঘোষণার ফলে চলমান অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম আরো অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে।
এ সময় বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠন ও নেতৃত্বের পক্ষ থেকেও একই ধরনের দাবিতে বিবৃতি দেয়া হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রশাসন কর্তৃক ১৫ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য সকল পরীক্ষা স্থগিত করা হয় এবং পরবর্তীতে সেগুলো পুনঃনির্ধারণ করা হয়।
তবে ৮ মার্চ হঠাৎ সরকারি সিদ্ধান্তে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধের ঘোষণা দেয়া হলে পরীক্ষাগুলো দ্বিতীয়বারের মতো পিছিয়ে যায়। ফলে স্থগিত পরীক্ষাগুলো নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
শিক্ষার্থীরা এখনো স্পষ্টভাবে জানেন না কবে নাগাদ এসব পরীক্ষা সম্পন্ন হবে। ধারাবাহিকভাবে পরীক্ষা স্থগিত হওয়ায় সেশন জটের আশঙ্কা নিয়েও শিক্ষার্থীদের মধ্যে আলোচনা চলছে।
এ বিষয়ে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ড. মো: মোস্তাফিজুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘চলমান সেমিস্টার পরীক্ষা শেষ করা এবং নতুন সেমিস্টারের অ্যাকাডেমিক ক্যালেন্ডার নির্ধারণের উদ্দেশে ১০ মার্চ সকল ডিন ও বিভাগীয় প্রধানদের নিয়ে একটি সভা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকায় সভাটি করা সম্ভব হয়নি। যার ফলে কবে নাগাদ কি হবে তা এ মুহূর্তে সুনিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।’
তিনি আরো বলেন, ‘কয়েকটি বিভাগের তিন থেকে চারটি করে পরীক্ষা স্থগিত রয়েছে। সেশন জটের সম্ভাবনা কিছুটা তৈরি হয়েছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয় খোলার পর দ্রুত ধারাবাহিকভাবে কাজগুলো সম্পন্ন করা গেলে এর প্রভাব খুব বেশি নাও হতে পারে।’