ইরানের নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী অধিকারকর্মী নার্গিস মোহাম্মদি হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে তেহরানের নিজ বাসায় ফিরে গেছেন।
তেহরান থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি সোমবার তার পরিবার ও সমর্থকদের বরাতে জানায়, জামিন পাওয়ার পর তিনি হাসপাতাল থেকে ছাড়া পান।
তারা সতর্ক করে বলেছেন, যেকোনো সময় তাকে আবার কারাগারে ফেরত পাঠানোর ঝুঁকি রয়েছে। ২০২৩ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী নার্গিস মোহাম্মদি হৃদরোগে ভুগছেন এবং গত ডিসেম্বরের সর্বশেষ গ্রেফতারের পর তার শারীরিক অবস্থা গুরুতরভাবে অবনতি ঘটে।
তার ফাউন্ডেশন এক বিবৃতিতে জানায়, তিনি রোববার জাঞ্জানে ১৮ দিনের চিকিৎসার পর হাসপাতাল থেকে বের হন এবং পরে তেহরানে স্থানান্তরিত হন।
হাসপাতালে করা পরীক্ষায় দেখা গেছে, তার হৃদযন্ত্র ও রক্তচাপজনিত সমস্যা দীর্ঘমেয়াদি ও তীব্র মানসিক চাপ, ক্রমাগত উদ্বেগ এবং কঠিন পরিবেশগত চাপের সাথে সরাসরি সম্পর্কিত।
বিবৃতিতে আরো বলা হয়, যেকোনো পরিস্থিতিতেই তাকে কারাগারে ফেরত পাঠানো উচিত নয় এবং তার চিকিৎসা কঠোরভাবে হাসপাতাল বা কারাগারের বাইরে অব্যাহত রাখতে হবে।
তার মেয়ে কিয়ানা রহমানি বলেন, ‘তার সুস্থতার জন্য কারাগারের বাইরে কঠোর চিকিৎসা পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন। তাকে আবার আটক করা মানে মৃত্যুদণ্ডের সমান।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের নিশ্চিত করতে হবে তিনি মুক্ত থাকবেন, তার বিরুদ্ধে আনা সব ভিত্তিহীন অভিযোগ স্থায়ীভাবে বাতিল করা হবে এবং নির্যাতন বন্ধ হবে।’
কিয়ানা ও তার যমজ ভাই আলি বর্তমানে প্যারিসে থাকেন এবং গত এক দশকের বেশি সময় ধরে তারা তাদের মাকে দেখতে পারেননি।
নার্গিস মোহাম্মদিকে ১০ মে হাসপাতালে থাকা অবস্থায় জামিনে মুক্তি দেয়া হয় এবং পরে চিকিৎসার জন্য তেহরানে স্থানান্তর করা হয়।
তার সমর্থকদের দাবি, কারাগারে থাকাকালে তিনি দুইবার হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা করেছিলেন এবং মৃত্যুর ঝুঁকিতে ছিলেন।
তার আইনজীবীদের মতে, বিভিন্ন নিরাপত্তা সংক্রান্ত মামলায় তার বিরুদ্ধে এখনো প্রায় ১৮ বছরের কারাদণ্ড বাকি রয়েছে।
সমর্থকদের দাবি, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল যুদ্ধ চলাকালে জাঞ্জানের কারাগারের কাছে অন্তত তিনবার বিমান হামলা হয়, যা তার শারীরিক ও মানসিক অবস্থাকে আরো ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।
৫৪ বছর বয়সী নার্গিস মোহাম্মদি গত দুই দশকের বেশির ভাগ সময়ই মানবাধিকার আন্দোলনের কারণে কারাবন্দী অবস্থায় কাটিয়েছেন। ২০২২-২৩ সালের মাহসা আমিনির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া আন্দোলনের পক্ষে তিনি জোরালো সমর্থন দেন, তবে বৃহৎ আন্দোলন শুরুর আগেই তিনি গ্রেফতার হন।
সূত্র : এএফপি/বাসস