গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ-১৯৭২-এর ১২ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে, ঋণখেলাপিরা নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না। কিন্তু দেখা যায়, নির্বাচনের আগে সম্ভাব্য প্রার্থীরা কিছু টাকা পরিশোধ করে ঋণ নিয়মিত করে ফেলেন। এবং আদালতের স্থগিতাদেশ পেয়ে অনেকেই নির্বাচনে প্রার্থী হন। নির্বাচনে জিততে না পারলে অনেক ক্ষেত্রে তাঁরা আর ঋণ পরিশোধ করেন না। জিতে গেলে ব্যাংকের সঙ্গে সমঝোতা করে ফেলেন। সংসদ সদস্য হিসেবে প্রভাব তখন কাজে লাগে।
সব মিলিয়ে অবস্থা দাঁড়িয়েছে এই যে আইন ঋণখেলাপিদের সবাইকে প্রার্থী হওয়া থেকে বিরত রাখতে পারছে না। একবার নির্বাচনে জিতে যাওয়ার পর ঋণখেলাপি হওয়ার কারণে কারও সংসদ সদস্য পদ বাতিল হয়েছে, এমন নজির খুঁজে পাওয়া যায়নি।
ঋণখেলাপি ও নির্বাচনী যোগ্যতা নিয়ে বিতর্কের মধ্যে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীরের নামটি বিশেষভাবে আলোচিত। খেলাপি হওয়া সত্ত্বেও তিনি ২০১৪ সালের নির্বাচনে আদালতের স্থগিতাদেশ নিয়ে অংশ নেন এবং জয়ী হন। এ স্থগিতাদেশ ছিল সাময়িক। তাঁর সংসদ সদস্যপদ বাতিল হয়নি। কারণ, মামলার নিষ্পত্তি হয় সংসদ সদস্য পদের মেয়াদ পাঁচ বছর শেষ হওয়ার পর।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গত ডিসেম্বরের হিসাবে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৫৭ হাজার ২১৬ কোটি টাকায়, যা মোট ঋণের ৩০ দশমিক ৬০ শতাংশ।
এবার ঋণখেলাপিদের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়ার বিষয়ে এক শুনানি শেষে গত ১৮ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা ঋণখেলাপি যাঁদের ছাড় দিয়েছি, মনে কষ্ট নিয়ে দিয়েছি। শুধু আইন তাঁদের পারমিট করেছে বিধায়।’
নির্বাচনের আগে সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারও এটা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, যাঁরা নির্বাচনে অংশ নেওয়ার যোগ্যই নন, আদালত কি তাঁদের বিজয়ী হওয়ার সুযোগ করে দিলেন? তিনি ১৬ মার্চ প্রথম আলোকে বলেন, স্থগিতাদেশের সুযোগ নিয়ে কেউ চাইবেন পাঁচ বছরই কাটিয়ে দিতে, এমনটা তো হতে পারে না। আর নির্বাচন করার আগে ঋণ নিয়মিত করাটাও বড় কথা না। বড় কথা হচ্ছে সামান্য টাকায় ঋণ নিয়মিত করে নির্বাচনের হিসাব-কিতাবই বদলে দিয়েছেন।