কেভিন ডি ব্রুইন, আধুনিক ফুটবলের অন্যতম সেরা মিডফিল্ডার, বেলজিয়ামের ‘গোল্ডেন জেনারেশন’র সেনাপতি। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে জাতীয় দলের হয়ে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স উপহার দিয়ে তিনি বিশ্বের সেরাদের সারিতে নাম লিখিয়েছেন। বেলজিয়ামের জার্সিতে তার অবদান শুধু পরিসংখ্যানেই সীমাবদ্ধ নয়; মাঠে তার উপস্থিতি মানেই খেলার গতি, ছন্দ ও সৃজনশীলতার এক অনন্য প্রদর্শনী। রাশিয়ায় অনুষ্ঠিত ২০১৮ সালের বিশ্বকাপে বেলজিয়ামকে সেমিফাইনালে তুলতে ডি ব্রুইনের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ব্রাজিলের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে তার সেই অসাধারণ গোল এখনো ফুটবলপ্রেমীদের মনে গেঁথে আছে। সেই আসরে তৃতীয় স্থান অর্জন করে বেলজিয়াম তাদের ইতিহাসের সেরা সাফল্য পায়। আর সেই সাফল্যের অন্যতম কারিগর ছিলেন ডি ব্রুইন।
তবে সময় কারও জন্য থেমে থাকে না। বয়সের ভার, চোট-আঘাত এবং দীর্ঘ ক্যারিয়ারের চাপ, সব মিলিয়ে এখন ডি ব্রুইনের সামনে দাঁড়িয়ে আছে নতুন এক বাস্তবতা। আগামী জুন-জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বিশ্বকাপটি হতে পারে তার ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ। যদিও এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে অবসর নিয়ে কিছু বলেননি তিনি। তবুও অনেকেই মনে করছেন, এ আসরেই শেষবারের মতো বিশ্বমঞ্চে দেখা যেতে পারে ৩৫ ছুঁই ছুঁই এই বেলজিয়ান তারকাকে। ডি ব্রুইনের জন্য এই বিশ্বকাপ তাই শুধু আরেকটি টুর্নামেন্ট নয়। এটি হতে পারে এক অসমাপ্ত গল্প পূরণের শেষ সুযোগ। বেলজিয়ামের ‘গোল্ডেন জেনারেশন’ এখন ধীরে ধীরে ভাঙনের পথে। দলের অনেক অভিজ্ঞ খেলোয়াড়ই ক্যারিয়ারের শেষ প্রান্তে। ফলে নতুন প্রজন্মের সঙ্গে অভিজ্ঞতার সেতুবন্ধন গড়ে তোলার দায়িত্বও থাকবে তার কাঁধে।
বেলজিয়ামের জার্সিতে ডি ব্রুইন ইতোমধ্যে ১১৭টি ম্যাচ খেলেছেন। গোল করেছেন ৩৬টি। অ্যাসিস্ট করেছেন ৫৩টি গোলে। ইউরোপিয়ান ফুটবলারদের মধ্যে অ্যাসিস্ট করার দিক দিয়ে হাঙ্গেরির কিংবদন্তি ফুটবলার ফেরেনচ পুসকাসই কেবল ডি ব্রুইনের পাশে আছেন। অবশ্য পুসকাসকে পেছনে ফেলতে কেবল একটা গোলে অ্যাসিস্ট করলেই চলবে ডি ব্রুইনের। একজন অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার হিসেবে তার প্রভাব কতটা গভীর, এই পরিসংখ্যান তা স্পষ্ট করে দেয়। শুধু গোল করা নয়, বরং গোল বানানোতেই তিনি বেশি পারদর্শী। এজন্যই তাকে ‘কমপ্লিট ফুটবলার’ আখ্যা দিয়েছেন ইউরোপের ফুটবল বিশেষজ্ঞরা।
ডি ব্রুইন কেবল জাতীয় দলেই নন, ক্লাব ফুটবলেও নিজের প্রতিভা দেখিয়ে চলেছেন বছরের পর বছর ধরে। ম্যানচেস্টার সিটির জার্সিতে তিনি খেলেছেন প্রায় ১০ বছর। এ সময়ের মধ্যে ৪২২ ম্যাচে ১০৮ গোল করেছেন তিনি। ছয়টি ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ ট্রফি এবং একটি উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগসহ মোট ১৯টি ট্রফি জয় করেছেন ডি ব্রুইন। ম্যানচেস্টার সিটিকে ইউরোপের অন্যতম সেরা ক্লাব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার পেছনে রেখেছেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা।
সামনের বিশ্বকাপে বেলজিয়াম জি গ্রুপে খেলবে মিসর, ইরান ও নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে। গ্রুপ পর্বে ফেবারিট হিসেবেই খেলবে বেলজিয়াম। রাউন্ড অব ৩২ এবং রাউন্ড অব ১৬ সহজেই পাড়ি দিতে পারবে দলটি। তবে কোয়ার্টার ফাইনালেই দেখা হতে পারে স্পেনের সঙ্গে।
এই কঠিন লড়াইয়ে জিতলে সেমিতে দেখা হতে পারে ফ্রান্স কিংবা জার্মানি।