নমিতা থাপা ভারতের অন্যতম একজন শীর্ষ ব্যবসায়ী। এমকিওর ফার্মাসিউটিক্যালসের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর। তবে দর্শকদের কাছে তিনি বেশি পরিচিত সনি টিভির রিয়েলিটি শো ‘শার্ক ট্যাঙ্ক ইন্ডিয়া’র বিচারক হিসেবে। ইনস্টাগ্রামে নমিতা বিভিন্ন সময়ে স্বাস্থ্যবিষয়ক রিলস পোস্ট করেন। গত ২৫ মার্চ নামাজের উপকারী দিক নিয়ে একটি ভিডিও পোস্ট করেছিলেন। এ নিয়ে উগ্রবাদী হিন্দুরা তার উপর চটেছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় তাকে নিয়ে ট্রোল চলছে। গত তিন সপ্তাহ ধরে তীব্র হেনস্তার শিকার হচ্ছেন বলে জানিয়েছেন তিনি। এমনকি তার মাকে নিয়েও কটূক্তি করা হচ্ছে। তবে তাতে দমে যাননি নমিতা। গত ২১ এপ্রিল একটি ভিডিও পোস্ট করে ট্রলের কড়া জবাব দিয়েছেন তিনি। তিনি জানান, মার্চের শেষের দিকে ঈদ পালন করতে এক বন্ধুর বাড়িতে যান। সেখানে গিয়ে বন্ধুর সঙ্গে কথাবার্তা বলে তার মনে হয়, নামাজ একটি সুন্দর আধ্যাত্মিক অভ্যাস। এর ফলে শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য ভালো থাকে। মনোযোগ বৃদ্ধি পায়। মানসিক চাপ কমে। এছাড়া নামাজ পড়ার সময়কার শারীরিক ভঙ্গিগুলো হজম শক্তি বাড়াতে, রক্ত সঞ্চালন উন্নত করতে এবং জয়েন্টের নমনীয়তা বজায় রাখতে সাহায্য করে। একজন ফার্মাসিউটিক্যাল বিশেষজ্ঞ হিসেবে তিনি এটিকে সুস্থতার দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দেখেছিলেন। কিন্তু নেটিজেনদের একটি অংশ একে ধর্মীয় রং দিয়ে তাকে এবং তার পরিবারকে নিয়ে অত্যন্ত কুরুচিকর মন্তব্য শুরু করে। ভিডিওতে নমিতা বলেন, তিন সপ্তাহ ধরে আমাকে আক্রমণ করা হচ্ছে। কিছু বলিনি। হয়তো কিছু বলতামও না। যখন আমার মাকে এতে টেনে আনা হচ্ছে, নিজের পরিবারের দিকে অকারণে আক্রমণ শুরু করেছে, তখন চুপ করে সহ্য করার কোনো মানে হয় না। তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, তিনি যখন নিয়মিত হিন্দুধর্মীয় ঐতিহ্য যেমন সূর্য নমস্কার বা বিভিন্ন যোগব্যায়ামের উপকারিতা নিয়ে ভিডিও বানান, তখন কেউ কোনো আপত্তি করে না কেন? নামাজের স্বাস্থ্যগত দিক নিয়ে কথা বলতেই কেন এই আক্রমণ? নমিতা মনে করেন, প্রতিটি ধর্মের ভালো দিকগুলোকে সম্মান জানানোই একজন প্রকৃত মানুষের পরিচয়। সচেতন ভারতীয়দের প্রতি নমিতা অনুরোধ করেন যেন, এ ধরনের অন্যায় ও ধর্মীয় অসহিঞ্চুতার বিরুদ্ধে তারা মুখ খোলেন। সমালোচনাকারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনারা আমাকে নিয়ে নোংরা কথা বলে যান, তাতে কিছু যায় আসে না। তবে মনে রাখবেন, হিন্দুধর্মে কর্ম বলে একটা ব্যাপার আছে। ঈশ্বর সব দেখছেন। এই কৃতকর্মের ফল একদিন আপনাদেরই ভোগ করতে হবে। নমিতার এই সাহসী অবস্থান প্রশংসিত হচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়ায়।