দীর্ঘ ১৮ বছরের আন্দোলন-সংগ্রাম ও চরম নির্যাতনের কারণে বিএনপির নেতাকর্মীদের মনে কিছুটা অস্থিরতা থাকা স্বাভাবিক, তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে সবাইকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু। একই সঙ্গে তিনি অন্যান্য গণতান্ত্রিক দলগুলোকে বর্তমান সরকারকে দক্ষতা ও ধৈর্যের সঙ্গে সমর্থন দেওয়ার অনুরোধ জানান।

রোববার (৫ জুলাই) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে এক দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। 

জাতীয়তাবাদী কর্মজীবী দলের উদ্যোগে বিএনপির তিন প্রবীণ শীর্ষ নেতা—মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান ও ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া এবং জুলাই-আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানে আহতদের আরোগ্য কামনায় এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। 

শামসুজ্জামান দুদু বলেন, বিগত ১৮ বছর ধরে বিএনপির ছোট-বড় সব স্তরের নেতাকর্মী ও তাদের পরিবার স্বৈরাচার শেখ হাসিনা সরকারের চরম নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তাদের প্রাপ্তির খাতা ছিল শূন্য। এমনকি যাদের চাকরি পাওয়ার যোগ্যতা ছিল, তারাও বঞ্চিত হয়েছেন। দীর্ঘদিনের এই বঞ্চনার কারণে নেতাকর্মীদের মধ্যে একধরনের অস্থিরতা থাকতেই পারে। তবে এই মুহূর্তে সবাইকে সর্বোচ্চ ধৈর্য ধরতে হবে, কারণ বর্তমান সরকার নির্যাতিতদের প্রতি অত্যন্ত সহানুভূতিশীল। 

আরও পড়ুন

আরও পড়ুন

পুলিশের ৩৩ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠাল সরকার

পুলিশের ৩৩ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠাল সরকার

তিনি আরও বলেন, ১৯৯০ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর দীর্ঘ সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বেগম খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন। একইভাবে দীর্ঘ ১৮ বছরের রাজপথের লড়াই এবং ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে তারেক রহমান আজ জনগণের হৃদয়ে দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের আসনে বসেছেন। দেশবাসী গণ-অভ্যুত্থানের প্রধান শক্তি হিসেবে বিএনপিকেই গ্রহণ করেছে।

বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বিএনপির এই নেতা বলেন, একটি মহল দেশের বিভিন্ন স্থানে ছোটখাটো ঘটনাকে বড় রূপ দিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। এই বিষয়ে দেশের সব গণতান্ত্রিক শক্তিকে সতর্ক থাকতে হবে। কোনোভাবেই যেন কেউ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির সুযোগ না পায়, সে জন্য সরকারকে দক্ষতা ও ধৈর্যের সঙ্গে সমর্থন দিয়ে যেতে হবে।

স্বৈরাচার আওয়ামী লীগ সরকারের হিংস্র রাজনীতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, ১/১১-এর সময় তারেক রহমানকে নির্যাতন করে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল, কিন্তু আল্লাহর রহমতে তিনি বেঁচে গেছেন। অন্যদিকে, বেগম খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলায় তিলে তিলে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে, এমনকি তাকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাও দেওয়া হয়নি। সেই হিংস্রতার অন্ধকার পেরিয়ে এখন বাংলাদেশকে একটি প্রকৃত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে রূপান্তরিত করতে হবে।

তিনি জানান, দলের অন্যতম শীর্ষ নেতা মির্জা আব্বাস বর্তমানে উন্নত চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে অবস্থান করছেন, নজরুল ইসলাম খান হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এবং ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া দীর্ঘদিন ধরে গুরুতর অসুস্থ রয়েছেন। এ প্রবীণ নেতারা মানুষের অধিকার ও গণতন্ত্রের জন্য নিজেদের পুরো জীবন উৎসর্গ করেছেন। তিনি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন, তারা যেন দ্রুত সুস্থ হয়ে আবার জনগণের সেবায় ও দলীয় কর্মকাণ্ডে সক্রিয় হতে পারেন। 

আরও পড়ুন

আরও পড়ুন

চার ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেলকে শোকজ

চার ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেলকে শোকজ

জাতীয়তাবাদী কর্মজীবী দলের সভাপতি সালাউদ্দিন খানের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক আলতাফ হোসেন সরদারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম, কৃষক দলের সাবেক দপ্তর সম্পাদক এস কে সাদি, দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও আন্দোলনের সভাপতি কেএম রকিবুল ইসলাম রিপন প্রমুখ।



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews