‘বিদায়ী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হয়েছে। তার পদত্যাগের পর সংবিধান অনুযায়ী নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ। একই সঙ্গে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদে দেশের ২৩তম নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।
গতকাল শুক্রবার (২৪ জুলাই) নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়ে তিনি বলেন, সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যেই নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন করা হবে।
তিনি বলেন, বিদায়ী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হয়েছে। এখন সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বাচন আয়োজন করা হবে।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন-১৯৯১ অনুযায়ী পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়া পরিচালিত হবে। এ নির্বাচনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করবেন।
নিয়ম অনুযায়ী, জাতীয় সংসদের ৩৫০ জন সদস্য রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। এ জন্য দ্রুত ভোটার তালিকা প্রস্তুত ও চূড়ান্ত করবে ইসি।
নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ আরো জানান, ভোটার তালিকা চূড়ান্ত হওয়ার পরই নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক তফসিল ঘোষণা করা হবে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচন পদ্ধতি অনেকটা সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনের মতো হবে।
তিনি বলেন, একাধিক প্রার্থী থাকলে নির্ধারিত দিনে জাতীয় সংসদে ভোটগ্রহণ হবে। আর একক প্রার্থী থাকলে তাকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করা হবে।
শনিবার (২৫ জুলাই) সাপ্তাহিক ছুটির কারণে কমিশনের কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। আগামী রবিবার বা পরবর্তী সময়ে বৈঠক করে তফসিল ঘোষণার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলে জানিয়েছে ইসি।
উল্লেখ্য, মো. সাহাবুদ্দিনের প্রায় ৩ বছরের দায়িত্বকাল ছিল দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের অন্যতম ঘটনাবহুল সময়। তার মেয়াদকালেই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। এরপর অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্বকাল শেষ হলে অনুষ্ঠিত হয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এই সময়ের মধ্যে তিনি তিনজন সরকারপ্রধানকে শপথবাক্য পাঠ করান, যা দেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে একটি ব্যতিক্রমী ঘটনা।
এর আগেও একাধিক রাষ্ট্রপতি মেয়াদ পূর্ণ না করেই বিদায় নিতে হয়েছে। তবে এবার স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে বিদায় নিলেন সাহাবুদ্দিন। বিশ্লেষকরা বলেছেন, তার পদত্যাগের অন্যতম কারণ সরকারের সঙ্গে দূরত্ব।
এইচএ