প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাহসী ও ডায়নামিক নেতৃত্বে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে বিপুল সম্ভাবনার দরজা খুলে যেতে শুরু করেছে। ছাত্র-জনতার জুলাই অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিনের কর্তৃত্ববাদী দুঃশাসনের পতনের পর দেশে যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল তারাও আস্থার সংকট পুরোপুরি দূর করতে না পারায় গত দুই বছরেও দেশে প্রত্যাশিত বিনিয়োগ হয়নি। ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি জোটের নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় প্রত্যাবর্তনের মধ্য দিয়ে দেশে একই সঙ্গে গণতান্ত্রিক রাজনীতি ও আস্থার পরিবেশ সৃষ্টি হওয়ায় আঞ্চলিক-আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ ও উন্নয়ন অংশীদাররা বাংলাদেশের সাথে বাণিজ্যিক ও কৌশলগত সম্পর্কোন্নয়নের প্রস্তাব নিয়ে হাজির হচ্ছে। এসব প্রস্তাব ও বিনিয়োগের বিপুল সম্ভাবনা কাজে লাগাতে পারলে আগামী দশকের শুরুতেই লাখ লাখ দক্ষ জনশক্তির কর্মসংস্থানসহ দেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত করা খুব কঠিন হবে না। এ ক্ষেত্রে প্রথমেই দেশে সামাজিক-রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। অতীতমুখী বিভক্তির রাজনীতি প্রত্যাখ্যান করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভবিষ্যৎমুখী ও বাস্তবধর্মী উন্নয়নের রূপকল্প মাত্র ছয় মাসের মধ্যেই দেশি-বিদেশি বিনিয়োগাকারীদের মধ্যে এক ধরনের আস্থা ও অনুকূল পরিবেশের জানান দিচ্ছে। ফেব্রুয়ারিতে শপথ গ্রহণের পর তারেক রহমান নিজের মন্ত্রিপরিষদ, সরকার এবং রাজনৈতিক পরিম-লে যেসব কর্মসূচির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে দিয়েছিলেন, সেসব লক্ষ্যমাত্রা এরই মধ্যে ইতিবাচক ফল দিতে শুরু করেছে। গত পাঁচ মাসে সম্মুখসারির বাণিজ্য ও উন্নয়ন অংশীদারদের প্রায় সবাই বাংলাদেশে এসে তারেক রহমানের প্রতি অকুণ্ঠ সমর্থন, আস্থা ও সম্ভাব্য বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন। চীনা ও কোরিয়ান ইপিজেডগুলোতে নতুন উদ্যমে কর্মতৎপরতা শুরু হয়েছে।
দেশের গার্মেন্ট রফতানি ও টেক্সটাইল শিল্পখাত দীর্ঘদিন ধরেই গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটে ধুঁকছে। গত পাঁচ বছরে শত শত গার্মেন্ট কারখানা বন্ধ হয়ে হাজার হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ মুখথুবড়ে পড়েছে এবং লক্ষাধিক মানুষ কর্মসংস্থান হারিয়েছে। শেখ হাসিনার সরকার এসব বিষয়ে কোনো ভ্রুক্ষেপ করেনি। এমনকি অন্তর্বর্তী সরকারও এসব সমস্যা সমাধানে তেমন কোনো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে আস্থার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে পারেনি। সম্প্রতি দেশের তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল খাতের উদ্যোক্তারা প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাৎ করলে তিনি এসব খাতের সমস্যা সমাধানে কিছু বাস্তবধর্মী নির্দেশনা জারি করেন। এমনকি গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট সমাধানে কিছু তাৎক্ষণিক নির্দেশনার পপাশাপাশি এক বছরের মধ্যে সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেন। দেশের প্রধান রফতানিমুখী খাতের উদ্যোক্তারা প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা ও সামগ্রিক বিবেচনার প্রতি আস্থা রেখেছেন। একইভাবে একের পর এক বিভিন্ন দেশের সরকার ও বিনিয়োগকারীরাও বাংলাদেশে নতুন নতুন বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের প্রস্তাব নিয়ে হাজির হয়েছেন। চীন, জাপান ও কোরিয়ার মতো এশিয়ার শিল্পোন্নত দেশগুলোর বিনিয়োগকারীরা গত দুই দশকে বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশে বিপুল বিনিয়োগের প্রস্তাব নিয়ে হাজির হলেও শুধু রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, অনিশ্চয়তা এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সরকারের সিদ্ধান্তহীনতায় সে সব বিনিয়োগ প্রস্তাবের সিকিভাগও বাস্তবায়িত হয়নি। অতীতের অভিজ্ঞতার কথা মাথায় রেখে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ত্বরিৎ পদক্ষেপ নিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার পথ নির্মাণ করছেন। প্রথম বিদেশ সফরে মালয়েশিয়া ও চীন সফর ছিল তারেক রহমানের সময়োপযোগী ও সাহসী নেতৃত্বে নতুন বাংলাদেশের বার্তা। রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে চীন ও মালয়েশিয়ার প্রতিশ্রুতি আদায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য। মিয়ানমার হয়ে চীনের সাথে বাংলাদেশের কানেক্টিভিটি বা অর্থনৈতিক করিডোর, তিস্তা মহাপরিকল্পনা ও গঙ্গা ব্যারাজের মতো প্রকল্প নিয়ে নতুন আশাবাদ বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় ভবিষ্যতের প্রতি দেশের মানুষের এবং আঞ্চলিক উন্নয়ন সহযোগীদের আস্থা বাড়িয়ে দিয়েছে। জুলাই অভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশে চীন-জাপানের মতো পুরোনো উন্নয়ন অংশীদারদের পাশাপাশি তুরস্ক, সউদী আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো দেশের বিনিয়োগকারীরাও আগ্রহী হয়ে উঠেছেন।
তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় যাত্রায় চীন, জাপান, কোরিয়ার পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগকারীরাও স্বপ্ন দেখাচ্ছেন। চীনা ইপিজেডে লাখো মানুষের কর্মসংস্থান এবং সামরিক-বেসামরিক সর্বাধুনিক প্রযুক্তিগত শিল্প, মাইক্রোচিপ, সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের সমূহ সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া-বিষয়ক মার্কিন উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী সার্জিও গোরের সাম্প্রতিক ঢাকা সফরের সময় ওয়াশিংটন মার্কিনিদের বাংলাদেশ ভ্রমণে হাসিনার সময় জারি করা সতর্কতার মাত্রা হ্রাস করার মধ্য দিয়ে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রতি তাদের আস্থার প্রতিফলন ঘটেছে। আগামী কিছু দিনের মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশ সফরে আসার কথাও জানা গেঝে। এ সপ্তাহে সউদী উপপরাষ্ট্রমন্ত্রী ওরেইদ আল খোরেইজি বাংলাদেশ থেকে আরো দক্ষ শ্রমিক নিয়োগ এবং ফিশারিজ, ফুড, সোলার এনার্জি, আইটি ও এআই খাতে বিনিয়োগ সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন। জাপানের ওসাকায় আয়োজিত ‘বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট প্রমোশন’ সেমিনারে উপস্থিত হয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বাংলাদেশে বিনিয়োগ করে ৩০০ কোটি ভোক্তার কাছে জাপানি পণ্য সহজেই তুলে দেয়ার সুযোগ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন। ভৌগোলিক ও ভূ-রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনার বিষয়টি তুলে ধরার মিশন কাজে লাগাতে সচেষ্ট বর্তমান সরকার। হাজার কিলোমিটারের অভিযাত্রা ঘরের দরজা থেকে প্রথম পদক্ষেপেই শুরু হয়। দেশের কৃষক, শ্রমিক ও বিনিয়োগকারীদের আস্থা, নিরাপত্তা ও সহযোগিতার মধ্য দিয়েই সমৃদ্ধ বাংলাদেশের নবযাত্রা সূচিত হবে। এ ক্ষেত্রেই দেশে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ও অনিশ্চয়তার যেকোনো আশঙ্কাকে শক্ত হাতে মোকাবিলা করতে হবে। সর্বাগ্রে মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়, গ্যাস-বিদ্যুৎ ও মূল্যস্ফীতির সংকট নিরসনে সরকারকে মনোযোগ দিতে হবে। বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের বিপুল সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে তারেক রহমানের গতিশীল নেতৃত্বের প্রতি দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থাপূর্ণ অবস্থান যেকোনো মূল্যে ধরে রাখতে হবে। অতীতেও বিভিন্ন সময়ে দেশে বিপুল বিনিয়োগের সুযোগ এসেছিল। অস্থিতিশীলতা, অনাস্থা ও সিদ্ধান্তহীনতার কারণে সেসব সুযোগ কোনো কাজে আসেনি। এবার তার পুনরাবৃত্তি ঘটবে না, তারেক রহমানের সরকারের কাছে এটিই দেশের মানুষের প্রত্যাশা।