এখন থেকে ঠিক চল্লিশ বছর আগে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের নারী আসন নিয়ে সে সময়ের সাপ্তাহিক যায়যায়দিন পত্রিকায় একটি প্রচ্ছদ প্রতিবেদন ছাপা হয়েছিল, যার শিরোনাম ছিল 'সংসদের শোভা তিরিশ সেট অলংকার'।
মূলত সংসদে সংরক্ষিত আসনে এমপি হতে তখন নারীদের দৌড়ঝাঁপ করতে দেখা যেত অনেককে; যে কারণেই অনেকটা বিদ্রূপ করেই ওই প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়েছিল।
তখন রাষ্ট্র ক্ষমতায় ছিলেন প্রয়াত হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ। ওই সংখ্যা প্রকাশিত হওয়ার পর রাষ্ট্রপতি এরশাদ ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন। পরে জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা 'যায়যায়দিন' এর অফিসে হামলা চালিয়েছিল।
পরবর্তীতে পত্রিকার ওই সংখ্যাটি নিষিদ্ধ করা হয়েছিল বলেও রাজনৈতিক গবেষক মহিউদ্দিন আহমদ তার একটি লেখায় উল্লেখ করেছেন।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এর বিপরীতে যারা মাঠ পর্যায়ের রাজনীতি করেন তাদের অনেকেই মনোনয়ন বঞ্চিত হন কিংবা খুব একটা সুযোগ পান না নারী সংসদ সদস্য হিসেবে।
সংসদ সদস্যদের শপথ ও সরকার গঠনের পর এখন সংরক্ষিত আসনের নির্বাচন নিয়ে যাবতীয় প্রস্তুতি শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন।
নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, "সংসদে একটি সংরক্ষিত নারী আসন পেতে কমপক্ষে ছয়টি নির্বাচিত আসন প্রয়োজন। আমরা আমাদের প্রস্তুতি রেখেছি, দলগুলো তাদের তালিকা দিলে সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু করা হবে"।
আইন অনুযায়ী, সাধারণ নির্বাচনের ফলাফল গেজেট প্রকাশের ৯০ দিনের মধ্যে এসব আসনের নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে।
২০০৪ সালে সংবিধানের চতুর্দশ সংশোধনী এনে সংসদে সংরক্ষিত আসন সংখ্যা বাড়িয়ে ৪৫টি করা হয়, এর প্রতিবাদে কর্মসূচি পালন করতে দেখা যায়
ছবির ক্যাপশান, ২০০৪ সালে সংবিধানের চতুর্দশ সংশোধনী এনে সংসদে সংরক্ষিত আসন সংখ্যা বাড়িয়ে ৪৫টি করা হয়, এর প্রতিবাদে কর্মসূচি পালন করতে দেখা যায়
বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।
বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশনের তথ্য বলছে, এবারের নির্বাচনে ২৯৯টি আসনে নারী প্রার্থী ছিলেন ৮৬ জন। এর মধ্যে নির্বাচিত হয়েছেন মাত্র সাত জন। যার ছয়জনই বিএনপির এবং একজন বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী।
জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত মহিলা আসনের নির্বাচন আইন ২০০৪ অনুসারে, অর্থাৎ একটি রাজনৈতিক দলের ছয় জন যদি নির্বাচিত সাংসদ হন, তাহলে ওই দল থেকে একজন প্রার্থী সংরক্ষিত নারী আসনের সাংসদ হবেন।
তখন ওই সংরক্ষিত আসনের নির্বাচনে ওই বিশেষ রাজনৈতিক দল থেকে একাধিক নারী প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন এবং সেই দলের নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের ভোটে বিজয়ী হয়ে সংরক্ষিত আসনের এমপি হতে পারবেন ওই প্রার্থী।