কিংবদন্তি নাট্যব্যক্তিত্ব আতাউর রহমানের স্মরণসভা শনিবার (২৩ মে) সন্ধ্যা ৬টায় রাজধানীর বাংলাদেশ মহিলা সমিতির নীলিমা ইব্রাহিম মিলনায়তনে আয়োজন করা হয়। এটি আয়োজন করে নাগরিক নাট্য সম্প্রদায়, বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশন ও ইন্টারন্যাশনাল থিয়েটার ইনস্টিটিউট। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন নাসিরুল হক। এ সময় তার সহকর্মী, শুভানুধ্যায়ী ও প্রিয়জনরা উপস্থিত ছিলেন। প্রায় দুই ঘণ্টার স্মরণসভায় উঠে আসে তার দীর্ঘ নাট্যজীবনের নানা অধ্যায়, সাংগঠনিক নেতৃত্ব, শিল্পভাবনা ও ব্যক্তিজীবনের অজানা স্মৃতি।
স্মরণসভা অনুষ্ঠানে পরিচালক নাট্যব্যক্তিত্ব অভিনেতা আবুল হায়াতের কথায় উঠে আসে কিশোর আতাউর রহমানের সঙ্গে তার পরিচয়ের কথা। চট্টগ্রামে পড়াশোনার সময়ে পরিচয় ও একসঙ্গে নাট্যচর্চার কথা। তারা সবসময় একসঙ্গে দেশের নাটককে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছেন। তিনি আতাউর রহমানের কাছে অভিনয়ের অনুপ্রেরণা পেয়েছেন।
একসঙ্গে পথ চলতে গিয়ে দুজনের মান–অভিমান হলেও পরে আবার তারা একসঙ্গে কাজ করেছেন। অভিমান করলেও পরে তাকে ঠিকই কাছে ডেকে টেনে নিতেন আতাউর রহমান। নাট্যাঙ্গনের বিকাশে অগ্রণী ভূমিকা ছিল প্রয়াত অভিনেতা আতাউর রহমানের বলে জানান আবুল হায়াত।
কিংবদন্তি অভিনেতা বলেন, আতাউর রহমান শেষ সময়ে ভালো ছিলেন না। ভয়ে থাকতেন, ডিপ্রেশনে থাকতেন। তিনি মনে করতেন— এই বুঝি কেউ ধরবে, মারবে। এই বুঝি আমি মরে গেলাম। নানা চিন্তায় ডিপ্রেশন চরম পর্যায়ে চলে গিয়েছিল। তিনি বলেন, এখানেই আমার সবচেয়ে বড় আপত্তি। শিল্পকর্ম আমাদের পাপ, এটা কি অন্যায়, শিল্পচর্চা করে কি আমরা অপরাধী? ভয় ও শঙ্কার মধ্যে থাকতে হবে— এই বুঝি আমায় ধরল, মারল।
আবুল হায়াত বলেন, ব্যক্তিগতজীবনে খুবই সাধারণ মানুষ ছিলেন আতাউর রহমান। বাজার করতে পছন্দ করতেন। শান্তিনগর বাজারে বহুবার দেখা হয়েছে। বিদেশে গিয়েও তিনি কেনাকাটা করতে পছন্দ করতেন। হাসিমুখে সবার জন্য কিনতেন। আমরা সঙ্গে থাকলে নিয়ে যেতেন।
তিনি বলেন, প্রতিযোগিতা নিয়ে আমরা কেনাকাটা করতাম। আবার সেই মানুষটাই রবীন্দ্রনাথ, শেক্সপিয়রের বই নিয়ে মেতে থাকতেন। শেখাতেন— নাটককে কীভাবে এগিয়ে নেওয়া যায়, সেটি নিয়ে ভাবতেন। এমন একটি মানুষের এই সময়ে চলে যাওয়াটা বড় কষ্টের ব্যাপার। এখনো তো তার আরও ভালো কিছু দেওয়ার ছিল। সেই আশাতেই ছিলাম আমরা।
এ অভিনেতা বলেন, আমাকে বলা হয়েছে— সমাপনী বক্তব্য দিতে, সমাপনী কী? আতা সম্পর্কে কিছু বলে শেষ করা যায়? অসম্ভব ব্যাপার। এ কথা যুগ যুগ ধরে চলবে। কত আলোচনা, কত গবেষণা হবে। ন্যায় ও নিষ্ঠার সঙ্গে আতা ভাই নাট্যচর্চা করে গেছেন। আতা ভাইকে আমরা চিরকাল মাথায় করে রাখব।
তিনি বলেন, নাট্যপ্রেমী মানুষের প্রাণের মধ্যে আতা ভাই। আপনি অনেক ওপরে, আপনাকে কেউ সেখান থেকে নামাতে পারবে না। বাংলা ভাষাভাষী প্রতিটি বাঙালি, নাট্যপ্রেমী আপনাকে মাথায় তুলে রাখবে। চিরকাল আপনাকে আমরা মাথায় তুলে রাখব। নাট্যপ্রেমীরা আপনাকে মাথায় তুলে রাখবে। নাটকের কথা বললে প্রাণের স্পন্দন একটি কথাই বলবে— আতাউর, আপনাকে স্যালুট।
উল্লেখ্য, অভিনেতা ও নির্দেশক আতাউর রহমান মারা যান গত ১২ মে। তার জন্ম নোয়াখালীতে। তিনি স্ত্রী, এক মেয়ে ও এক ছেলে রেখে গেছেন।