ক্রিকেট বিশ্বের অন্যতম পরাশক্তি আইসিসি ওয়ানডে বিশ্বকাপের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়া। ওয়ানডে বিশ্বকাপের রেকর্ড ছয়বারের চ্যাম্পিয়ন তারা। তবে অস্ট্রেলিয়ার আভিজাত্যে এবার বড় এক ক্ষত তৈরি হলো। ২০০৯ সালের পর প্রথমবারের মতো টি-২০ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিল অসিরা। ভারত ও শ্রীলঙ্কার যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত ২০২৬ সালের চলতি আসরে মিচেল মার্শের নেতৃত্বাধীন দলটি সুপার এইটে জায়গা করতে ব্যর্থ হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, পরিকল্পনাহীন প্রস্তুতি এবং ইনজুরিই দলটির প্রধান কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। কেউ বলছেন, সংক্ষিপ্ত সংস্করণে এ আসরকে খুব একটা গুরুত্ব দেয় না তারা। তবে বিশ্বকাপে ব্যর্থতার জন্য ক্রিকেটারদের বাজে পারফরম্যান্সকেই দায় দিলেন অসি কোচ অ্যান্ড্রু ম্যাকডোনাল্ড।
প্রথম ম্যাচে আয়ারল্যান্ডকে ৬৭ রানে হারালেও অস্ট্রেলিয়ার বিপর্যয়ের শুরুটা হয় জিম্বাবুয়ের কাছে ঐতিহাসিক ২৩ রানের পরাজয়ের মধ্য দিয়ে। এরপর সহ-আয়োজন স্বাগতিক শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে পাথুম নিশাঙ্কার বিধ্বংসী সেঞ্চুরিতে ৮ উইকেটের বড় ব্যবধানে হারে অসিরা। শেষ পর্যন্ত আয়ারল্যান্ড ও জিম্বাবুয়ের মধ্যকার ম্যাচটি বৃষ্টিতে পরিত্যক্ত হওয়ায় সমীকরণে তাদের বিদায় নিশ্চিত হয়ে যায়। ২০২১ সালে ২০ ওভারের শিরোপা জেতার পর সেমিফাইনালের মুখ না দেখা অস্ট্রেলিয়া এখন তীব্র সমালোচনার মুখে।
এটাও সত্য যে, প্যাট কামিন্স ও জশ হ্যাজলউডের মতো তারকা পেসারদের ইনজুরি বোলিং বিভাগকে দুর্বল করে দিয়েছিল। এ ছাড়া অধিনায়ক মিচেল মার্শ নিজে চোটের কারণে প্রথম দুই ম্যাচে খেলতে পারেননি। গ্লেন ম্যাক্সওয়েল ও ক্যামেরন গ্রিনের মতো অভিজ্ঞদের ফর্মহীনতা এবং স্টিভ স্মিথকে শুরুর দিকে দলে না রাখার মতো সিদ্ধান্তগুলো অসি শিবিরের দৈন্যদশাকেই ফুটিয়ে তুলেছে। সাবেক ক্রিকেটাররা এ ভরাডুবিকে ‘অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটের অন্ধকার অধ্যায়’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। গতকাল রাতে নিয়মরক্ষার ম্যাচে ওমানকে ৯ উইকেটে হারিয়ে টি-২০ বিশ্বকাপ শেষ করেছে সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়।