চাকরি নাকি অভিনয়
স্কুল-কলেজ থেকেই সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন জিলানী। কণ্ঠ ভালো তাই আবৃত্তি, নাটক, বই পড়া—সবকিছুতেই নাম দিতেন শিক্ষকেরা। নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েও বিভিন্ন ক্লাব কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় বর্ষে পড়ার সময় জানতে পারেন, একটি এফএম রেডিওতে আরজে নেওয়া হবে। এভাবে সিটি এফএমে যুক্ত হন, এরপর যান রেডিও দিনরাতে।
সময়টা ২০১৫-১৬। ছোটবেলা থেকেই অভিনয়ে আগ্রহ ছিল। রেডিওতে কাজ করতে অভিনয়ের টানটা আরও ভেতর থেকে টের পান। দেরি না করে প্র্যাচ্যনাট অ্যাক্টিং স্কুলের ৩৩তম ব্যাচে ভর্তি হয়ে গেলেন।
‘ওখানে ভয়েস অ্যাক্টিংসহ অভিনয়ের বিভিন্ন প্রক্রিয়া শিখতে শিখতে মনে হয়, আমাকে অভিনয়টাই করতে হবে,’ বলছিলেন জিলানী।
২০১৯ সালে, গোলাম সোহরাব দোদুলের ‘সাপলুডু’ সিনেমায় সুযোগ এল। মাত্র তিন-চার মিনিটের উপস্থিতি। একটি দৃশ্যে ছবির নায়ক আরিফিন শুভর বিকল্প হিসেবে একজনকে দরকার। উচ্চতা, কাঠামো—সব জিলানীর সঙ্গে মিলে যায়। ছবিতে ওপর থেকে পানিতে লাফ দেওয়ার একটা স্টান্টও নিজেই করেছিলেন জিলানী। কিন্তু এমন ‘সাহসী’ শুরুর পরই আসে নতুন চ্যালেঞ্জ।
কোভিডকাল। কাজ নেই, কোনো চাকরিতেও যোগ দেননি। বাড়ির বড় ছেলে জিলানী। কেউ চাপ না দিলেও তিনি বোঝেন, মা-বাবা ভালো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়িয়েছেন, তাঁদের প্রত্যাশা অনেক। তাই ২০২১ সালে একটা ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানিতে চাকরি নিলেন।
টুকটাক অভিনয়ের সুযোগ মিললে অফিস থেকে দু-এক দিনের ছুটি ম্যানেজ করেন। কিন্তু একবার বড় কাজ এল, ১২ দিন ছুটি লাগবে। অফিস কি আর তা মানে! বাসায় ফিরে স্ত্রীকে বললেন সব ঘটনা। অভিনয়ের প্রতি জিলানীর আগ্রহ আর মনমতো কাজ করতে না পারায় যে বিষণ্নতায় ভুগছিলেন, সেটা ভালোই জানতেন স্ত্রী। তাই বললেন, চাকরি ছাড়ো। তবে মা আপত্তি করলেন। কিন্তু জিলানী ঠিক করলেন, নিজের স্বপ্নের পথে ছুটবেন। চাকরি ছাড়লেন, প্রভিডেন্ট ফান্ডের ২৯ হাজার টাকা নিয়ে বাড়ি ফিরলেন।
তত দিনে ওজন বেড়ে হয়েছে ১১৮ কেজি। প্রভিডেন্ট ফান্ডের টাকায় জিমে ভর্তি হলেন, শুরু হলো নিজেকে তৈরি করা। ‘আমি আসলে এটাকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছিলাম। আমার পরিবারের কেউ অভিনয়ে নেই, মিডিয়ায়ও পরিচিত কেউ নেই। আগে নিজেকে ফিট করেছি, সঠিক ডায়েট করেছি। ইন্টারনেট ঘেঁটে, বই পড়ে নিজেকে চ্যালেঞ্জের জন্য তৈরি করেছি। চার-পাঁচ মাসের মধ্যেই ওজন ১১৮ থেকে ৮৯-এ নিয়ে এসেছিলাম,’ বলছিলেন জিলানী।