যুক্তরাষ্ট্রের ৪৭তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র এক বছরের মাথায় বড় ধরনের জনসমর্থন সংকটে পড়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। সাম্প্রতিক এক জনমত জরিপে দেখা গেছে, ট্রাম্পের জনপ্রিয়তার হার আশঙ্কাজনকভাবে কমেছে, যা তার প্রশাসনের জন্য এক বড় সতর্কবার্তা। নিউ ইয়র্ক টাইমসের বিশেষ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, এপ্রিল ২০২৬-এর এই নতুন জরিপে ট্রাম্পের অ্যাপ্রুভাল রেটিং বা জনসমর্থন এখন দ্বিতীয় মেয়াদের সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিশেষ করে অর্থনীতি পরিচালনা, ইরান সংকট এবং অভিবাসন নীতির মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে সাধারণ আমেরিকানদের মধ্যে চরম অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

জরিপে অংশ নেওয়া অধিকাংশ নাগরিকই জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয় এবং জ্বালানি তেলের উচ্চমূল্য নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তজনা এবং মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক তৎপরতার কারণে বিশ্ববাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে মার্কিন জনজীবনে। এছাড়া ট্রাম্পের কঠোর অভিবাসন নীতি এবং গণ-ডিপোর্টেশন পরিকল্পনা নিয়ে ভোটারদের একটি বড় অংশই এখন নেতিবাচক ধারণা পোষণ করছেন। সামনে থাকা মিডটার্ম ইলেকশন বা মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এই পতন রিপাবলিকান পার্টির জন্য অশনিসংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে। এমনকি খোদ রিপাবলিকান ভোটারদের মধ্যেও ট্রাম্পের প্রতি সমর্থনের হার আগের চেয়ে ৪ শতাংশ কমেছে। অন্যদিকে, স্বতন্ত্র বা নির্দলীয় ভোটারদের মধ্যে তার জনপ্রিয়তা এখন তলানিতে। বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের আগ্রাসী পররাষ্ট্রনীতি এবং অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জগুলো যদি দ্রুত কাটিয়ে ওঠা না যায়, তবে আগামী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখোমুখি হতে হতে পারে।

এদিকে, মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনে বড় ধরনের রদবদল ও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। বুধবার নৌবাহিনী সচিব জন ফেলানকে তার পদ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে অপসারণ করা হয়েছে বলে সরকারি সূত্র ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন। তবে এই সিদ্ধান্তের কোনো নির্দিষ্ট কারণ প্রকাশ করা হয়নি। পেন্টাগনের এক সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে জানানো হয়, জন ফেলানের দায়িত্ব থেকে বিদায় “অবিলম্বে কার্যকর” হবে। বিষয়টি এমন এক সময়ে ঘটেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক নেতৃত্ব নিয়ে ইতিমধ্যেই নানা প্রশ্ন ও বিতর্ক চলছিল।

সূত্র অনুযায়ী, ফেলানের অপসারণের পেছনে নৌবাহিনীর জাহাজ নির্মাণ প্রকল্পে ধীরগতি এবং পেন্টাগনের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে মতবিরোধ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। বিশেষ করে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ, উপসচিব স্টিভ ফেইনবার্গ এবং নৌবাহিনীর শীর্ষ বেসামরিক কর্মকর্তা হাং কাওয়ের সঙ্গে তার সম্পর্কের টানাপোড়েন বাড়ছিল। এর পাশাপাশি তার দপ্তরের বিরুদ্ধে নৈতিকতা লঙ্ঘনের একটি তদন্তও চলছিল বলে জানা গেছে। যদিও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। ফেলান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তবে বর্তমান মেয়াদে তিনিই প্রথম মনোনীত সার্ভিস সেক্রেটারি যিনি পদ হারালেন। তার স্থলাভিষিক্ত হিসেবে ভারপ্রাপ্ত নৌবাহিনী সচিবের দায়িত্ব পেয়েছেন আন্ডারসেক্রেটারি হাং কাও। তিনি নৌবাহিনীর অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনা ও নীতিনির্ধারণে আপাতত নেতৃত্ব দেবেন।



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews